ক্রিকেটার্স কিচেন

আকরাম খানের নতুন ইনিংস

প্রভাষ আমিন
 | প্রকাশিত : ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ১৪:৩০

এই ৮ নভেম্বর সন্ধ্যায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। সেদিন তাই অফিসে দারুণ ব্যস্ততা ছিল। যেতে একটু দেরি হলো। কিন্তু গিয়ে রেস্টুরেন্টটি চিনতে এক সেকেন্ডও সময় লাগেনি। গুলশান পুলিশ প্লাজার পাশ দিয়ে ঢুকে ক্যুটিং কমপ্লেক্সের পেছনে একটি ভবনের সামনে উৎসুক জনতার ভিড়। সেই ভিড় ঠেলে ভেতরে গিয়েই বুঝলাম ভিড়ের কারণ। ভেতরে যে তারার মেলা বসেছে। আশির দশকে এফডিসির গেটের সামনে যেমন ভিড় থাকতো তেমনই। মানুষের পছন্দ এখন বদলে গেছে। আগে রাজ্জাক-ববিতা যেমন ক্রেজ ছিল, এখন তামিম, মুশফিক, রিয়াদদের নিয়ে আগ্রহ তার চেয়ে বেশি।

এই তারার মেলার উপলক্ষ একটি রেস্টুরেন্টের উদ্বোধন। রেস্টুরেন্টের উদ্বোধনে ক্রিকেটারদের মেলা কেন? কারণ রেস্টুরেন্টের নাম ‘ক্রিকেটার্স কিচেন’। আর এই রেস্টুরেন্টের উদ্যোক্তা সাবেক অধিনায়ক আকরাম খান। ক্রিকেটারদের সঙ্গে রেস্টুরেন্ট ব্যবসার সম্পর্কের কারণ নিয়ে গবেষণা হতে পারে। তবে শচিন থেকে সাকিব, আশরাফুল থেকে ইমরুল, তাসকিন থেকে আকরাম; সবারই পছন্দের ব্যবসা রেস্টুরেন্ট। খেলার সময় ক্রিকেটারদের কঠিন ডায়েট চার্ট মানতে হয়। ইচ্ছা থাকলেও অনেক পছন্দের খাবার তারা খেতে পারেন না। আমার ধারণা সেই অতৃপ্তি থেকেই তারা রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় আসেন। তবে আকরাম খানকে সেই তালিকায় ফেলা যাবে না। রেস্টুরেন্ট ব্যবসা তাদের পারিবারিক ঐতিহ্য। আর আকরাম খান যেমন খেতে ভালোবাসেন, তেমনি ভালোবাসেন খাওয়াতে। সেই ভালোবাসারই বাণিজ্যিক রূপ ক্রিকেটার্স কিচেন।

ক্রিকেটার্স কিচেনে ঢুকলে আপনি চমকে যাবেন, রেস্টুরেন্ট না ক্রিকেট গ্যালারি! ঢুকেই ছোট্ট সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে যেতে হবে। সেই সিঁড়ির পাশের দেয়ালে বাংলাদেশের ক্রিকেটের ইতিহাস লেখা। নিচের সুপরিসর রুমের দেয়ালে দেয়ালে বিশ্ব ক্রিকেটের গ্রেটদের ছবি। খেতে খেতে ক্রিকেটের রাজ্যে হারিয়ে যাবেন আপনি।

শুরুতেই বলছিলাম তারার মেলার কথা। আকরাম খান তো ছিলেনই; ছিলেন মিনহাজুল আবেদিন নান্নু, ফারুক আহমেদ, নাইমুর রহমান দুর্জয়, হাবিবুল বাশার সুমন, খালেদ মাসুদ পাইলট, আতাহার আলী খান, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, তাসকিন, রুবেলসহ আরো অনেকেই। চাচার রেস্টুরেন্টে তামিম ইকবাল তো থাকবেনই। প্রায় সবাই এসেছিলেন সপরিবারে। তাই সেদিন হয়েছিল পারিবারিক মিলনমেলা। দফায় দফায় আড্ডা চললো গভীর রাত পর্যন্ত।

উদ্বোধনের কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছিল না। তবে সবার ব্যস্ততা দেখে বোঝা গেল আকরাম খান উদ্যোক্তা হলেও ক্রিকেটার্স কিচেনের হাঁড়ির খবর পাওয়া যাবে সাবিনা আকরামের কাছে। আকরামের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, এই খেলায় আপনি ব্যাটসম্যান না বোলার? হাসতে হাসতে বললেন, ব্যাটিং-বোলিং সব সাবিনা করবে। আমি এখানে ফিল্ডার। ভালো করলে কোনো ক্রেডিট নাই, ক্যাচ ড্রপ করলে খবর আছে। তবে কিচেনের দায়িত্ব যদি সাবিনা আকরামের হাতে থাকে, তবে খাওয়ার ব্যাপারে আপনি নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন। কারণ শুধু ক্রিকেটের আবহ দেখে তো আপনার পেট ভরবে না। পেট পূজায় চাই মজাদার খাবার। প্রথম দিনেই যতটুকু চেখে দেখার সুযোগ পেয়েছি, তাতে আপনারা নিশ্চিন্তে ক্রিকেটের সঙ্গে খাবারটাও সেরে নিতে পারবেন।

সাবিনা আকরাম আরেকটা গোপন খবর জানালেন, মাসের প্রথম শুক্রবারে থাকবে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানের আয়োজন। প্রথম শুক্রবারে কেন? হাসতে হাসতে সাবিনা আকরাম বললেন, প্রথম শুক্রবারে সবার পকেটে টাকা থাকে।

উদ্বোধনের দিনের মতো তারার মেলা তো আর প্রতিদিন বসবে না। তবুও ক্রিকেটার্স কিচেনে গেলে আপনি ক্রিকেট ফিল করতে পারবেন। মাঝেমধ্যে আকরাম বা তামিমের সঙ্গে দেখাও হয়ে যেতে পারে। তবে আকরাম জানালেন, প্রতিদিন ক্রিকেটে আবহ রাখতে বড় পর্দা লাগানো হচ্ছে। সেখানে বাংলাদেশের সব খেলা সরাসরি দেখানো হবে। আর খেলা না থাকলেও বাংলাদেশের পুরনো খেলাগুলো দেখার ব্যবস্থা থাকবে।

তবে আমি যে কারণে বারবার ক্রিকেটার্স কিচেনে যাব, সেটাই বলা হয়নি এখনো। ক্রিকেটার্স কিচেনের পাশে অসাধারণ একটা লন আছে, যার পাশে বিস্তৃত মনোরম হাতিরঝিল। জলের পাশে লনে বসে খেতে খেতে প্রকৃতি উপভোগ করতে পারবেন। চাইলে শিশির ভেজা ঘাসে পা ভেজাতে পারবেন, পাবেন মাটির ছোঁয়া। তবে আর দেরি কেন, চলুন ঘুরে আসি ক্রিকেটার্স কিচেন থেকে।

যার একটি ইনিংসে দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশের ক্রিকেট, সেই আকরাম খান নিশ্চয়ই নতুন পরিচয়েও সাফল্য পাবেন। শুভ কামনা থাকলো ক্রিকেটার্স কিচেনের জন্য।

প্রভাষ আমিন: বার্তাপ্রধান, এটিএন নিউজ

সংবাদটি শেয়ার করুন

ফিচার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত