জামিনে বেরিয়ে আবার পাইরেসিতে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ২০:৫৩

পর্নোগ্রাফি ও পাইরেসি জামিনযোগ্য হওয়ায় অপরাধীরা গ্রেপ্তার হওয়ার পরে আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে আবারও এই পেশার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। আর ব্যবসাটি স্বল্প পরিশ্রমে লাভজনক হওয়ায় এতে অনেকই যুক্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

সোমবার বিকালে রাজধানীর কাওরানবাজারের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায় বাহিনীটি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিক ও শিল্পীদের কাছে বিস্তারিত তুলে ধরেন র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল ইমরানুল হাসান।

এর আগে গতকাল রবিবার বিকাল তিনটার থেকে রাত ১২ টার পর্যন্ত রাজধানীর গুলিস্তান, পল্টন এবং কদমতলী এলাকায় অভিযান চালায় সংস্থাটি। সেখান  থেকে বিপুল পরিমাণ পাইরেটেড সিডি, সিডি কপি রাইট মেশিন ও পাইরেসির কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জামাদিসহ ২৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৩।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-মো. গিয়াস উদ্দিন (২৭), মো. শাহিন (২৮), মো. রায়হান উদ্দিন (২৬), টিপন চন্দ্র হাওলাদার (২৬), মো. তারেক হোসেন (২০), মো. স¤্রাট হোসেন (২১), মো. মিজানুর রহমান (২২), মো. সোহাগ হোসেন (৩০), মো. নুর উদ্দিন (৪০), মো. রানা (২২), মো. রাকিব হোসেন (২৩), মো. নাঈম উদ্দিন ভুইয়া (২৪), মো. শেখ সালাহউদ্দিন (২৮), মো. জাফর (৩০), মামুন হোসেন (২২), আবদুল আল মামুন (২৫), মো. রোকন উদ্দিন (২৮), মো. অপু (২৬), মো. মনির (২০), মো. রায়হান (২৫), মো. আবদুল কাইয়ুম (২১), মো. আকবর হোসেন (২২), মো. নাইমুল ইসলাম (১৯),মো. পিন্টু মিয়া (২৪), মো. শাকিল (৩৩) এবং মো. আনোয়ার হোসেন (২৪)।

এ সময়ে তাদের কাছ থেকে থেকে একটি ল্যাপটপ, ৩৫ টি কম্পিউটার মনিটর, ৩৩টি, ইউপিএস দুইটি, সিডি কপি রাইট মেশিন ছয়টি, পাইরেটেড সিডি ডিক্স ১৯ হাজার ৭৬৪টিসহ পাইরেসির কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়।  

র‌্যাব-৩ অধিনায়ক বলেন, ১ র‌্যাব সৃষ্টির শুরু থেকেই জঙ্গি, সন্ত্রাসী ও উগ্রপন্থিদের দমনে সাথে কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি দেশীয় সংস্কৃতির সুষ্ঠু বিকাশেও র‌্যাব সদা সচেষ্ট। দুঃখজনক হলেও সত্য যে অডিও-ভিডিও পাইরেসি ও চলচ্চিত্রে অশ্লীলতার কারণে এই শিল্প দুটি ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে চলে গিয়েছিল। এতে সুস্থধারার চলচ্চিত্র নির্মাতা, উদ্যোক্তা লগ্নিকারী ও শিল্পীদের পাশাপাশি গায়ক-গায়িকা এবং অডিও শিল্পের সাথে সম্পৃক্ত সকলেই ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছেন। দেশীয় সংস্কৃতি রক্ষায় চলচ্চিত্রে অশ্লীলতা ও সংগীত অডিও-ভিডিও পাইরেসি বিরোধী টাস্কফোর্সের অংশ হিসেবে র‌্যাব ফোর্সেস নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে যাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে চলচিত্র প্রযোজক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম খসরু বলেন, পাইরোসির কারনে কোন নির্মতারা ছবি নির্মাণ করতে চায় না। আমি ২৩টি ছবির প্রযোজনা করেছি। সবগুলো ছবিই পাইরোসির শিকার হয়েছে। তবে র‌্যাব সবসময়ে আন্তরিকতার সঙ্গে অভিযান চালিয়ে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করেছেন। তিনি বলেন বর্তমানে এইসব চক্র যেভাবে কাজ করছেন তাতে ২০২০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে আর কেউ ছবি বানাতে চাইবে না।  

সংবাদ সম্মেলনে চিত্র নায়ক জায়েদ খান অতীতের র‌্যাবের ভূমিকা তুলে ধরে বলেন, র‌্যাবের প্রায়ত কর্নেল গুলজার ভাই, কর্নেল জিয়া ভাইসহ যারাই এসেছেন তারা প্রত্যেকেই অসৎ চক্রদের কাছ থেকে চলচিত্র শিল্পকে রক্ষার চেষ্টা করেছেন। তারা সফলও হয়েছেন তবে আবারও অপরাধীর চক্র একই অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।

স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে এই চিত্রনায়ক বলেন, আমার মনে আছে কর্নেল গুলজার ভাই বলেছিলেন আমি চলচিত্র শিল্পে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করব যাতে আমার মেয়েও আমার হাত ধরে ছবি দেখতে পারে। তার বান্ধবীদের নিয়ে ছবি দেখতে পারে। তারা যেন বলতে পারে চলচিত্র শিল্পে কোনো অশ্লীলতা নেই।  

ঢাকাটাইমস/১৯ নভেম্বর/এএ/ইএস

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত