‘হলদে’ বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
 | প্রকাশিত : ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ২০:৫৫

লাগামছাড়া জ্বালানির দাম। গত শনিবার থেকে তারই প্রতিবাদে প্যারিস থেকে শুরু করে দেশের প্রায় সর্বত্র হু হু করে ছড়িয়ে পড়েছিল বিক্ষোভের আগুন। হলুদ জ্যাকেট আর গেঞ্জিতে প্রায় তিন লাখ নাগরিক এসে বিক্ষোভ করে রাস্তায়-রাস্তায়। চোখ টেনেছিল ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের প্ল্যাকার্ড — ‘ম্যাকরোঁ গদি ছাড়ুন’। পরিস্থিতি সামাল দিতে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে পুলিশ। চলল লাঠিও। আহত হয়েছেন চার শতাধিক।

সোমবার ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, তিনশ জন বিক্ষোভকারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তার মধ্যে ১৫৭ জনকে আটক করে পুলিশি হেফাজতে নেয়া হয়েছে।

গত শনিবার দুই লাখ ৮৮ হাজার বিক্ষোভকারী অংশ নেয়। রবিবার, সোমবারও তারা বিক্ষোভ করে। ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকার থেকে প্রেসিডেন্টের আসনে বসা ম্যাকরোঁর অর্থনীতিতে ক্ষুব্ধ দেশের একটা বড় অংশ কিন্তু পিছু হটতে নারাজ। প্রয়োজনে রাস্তাতেও রাত জাগতে রাজি তারা।

আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, জ্বালানি কর বৃদ্ধির কারণে চলতি শতাব্দীর গোড়া থেকেই তারা ভুগছেন। ম্যাকরোঁর আমলে আরও বিগড়ে গিয়েছে পরিস্থিতি। কেন? নয়া প্রেসিডেন্ট তো দিব্যি অর্থনৈতিক উন্নতির পথে হাঁটছেন বলেই দাবি তার প্রশাসনের।

দেশের একটা বড় অংশ কিন্তু বলছেন, এর সবটাই ধাপ্পাবাজি। ম্যাকরোঁ শুধু বড়লোকের প্রেসিডেন্ট। সমাজের নিচুতলার প্রতি তার নজরই নেই। তাই প্রতিবাদ চলবেই।

যে প্রতিবাদের সলতে পাকানোটা শুরু হয়েছিল গত মাসে। সোশ্যাল মিডিয়ায়। প্রশাসনের নজর কাড়তেই ক্যাটকেটে হলুদ রঙটা বেছে নেন আন্দোলনকারীরা। ঠিক হয় ‘ইয়েলো ভেস্ট’ পরেই অচল করা হবে গোটা ফ্রান্স।

প্রশাসনের দাবি, শনিবার থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছোট-বড় মিলিয়ে হাজার দুয়েক আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে দেশের প্রায় সব জাতীয় সড়ক এবং ব্যস্ত রাস্তায়। বেশির ভাগ আন্দোলন শান্তিপূর্ণ হলেও, তাল কাটল পূর্ব স্যাভয় অঞ্চলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মেয়েকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে সেখানে অবরোধের মুখে পড়েন এক নারী। আন্দোলনকারীরা নাছোড় দেখে একটা সময়ে মেজাজ হারিয়েই তিনি গাড়ি চালিয়ে দেল ভিড়ের মধ্যে। আর তাতেই গাড়ি চাপা পড়ে মৃত্য হয় ৬৩ বছরের এক নারির।

এতে এলাকায় পুলিশি তৎপরতা বাড়লেও, রাজধানী প্যারিসে ততক্ষণে প্রেসিডেন্টের প্যালেস ঘেরাও অভিযানে নেমে পড়েছেন হাজার-হাজার উত্তেজিত জনতা। এ বার রাস্তা আটকাতে শুরু করে পুলিশ। কাঁদানে গ্যাসে ভিড়ও পাতলা হয়ে যায় অল্প সময় পরেই। তবু ধিকি ধিকি আগুনটা রয়েই গেল। চিন্তায় প্রশাসনও।

গত বছর ক্ষমতায় আসা প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা এখনই অন্তত ২৫ শতাংশ কমে গিয়েছে বলে জানাচ্ছে দেশের একাধিক জনমত সমীক্ষা। ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনে তাই সাড়া দিয়েছেন প্রায় ৭৩ শতাংশ নাগরিক। দেশের মানুষকে যে তিনি সন্তুষ্ট করতে পারছেন না, ম্যাকরোঁ কার্যত সেটা মেনেও নিয়েছেন।

গত সপ্তাহে এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘কোথাও একটা খামতি তো আছেই। না হলে নেতাদের সঙ্গে ফরাসিদের মনের মিল হবে না কেন।’

ম্যাকরোঁ কথা দেন, জ্বালানি-ক্ষোভ কমাতে একগুচ্ছ নতুন প্রকল্প হাতে নেবেন। কিন্তু জ্বালানি-কর ফের জানুয়ারিতেই আর এক প্রস্ত বাড়বে বলে জানিয়েছে তার প্রশাসন।

(ঢাকাটাইমস/১৯নভেম্বর/এসএই)

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত