এসএসসির ফরম পূরণে দ্বিগুণ-তিনগুণ ফি আদায়

ঢাকা টাইমস ডেস্ক
| আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০১৮, ০৯:১৩ | প্রকাশিত : ২০ নভেম্বর ২০১৮, ০৮:২১

এবারও দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের নিবন্ধন ফি ও ফরম পূরণে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। শিক্ষা কর্মকর্তারা বরাবরের মতো হুঁশিয়ারি দিলেও অভিভাবকদের পকেট কাটা বন্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছেন না।

দেশজুড়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত ফি আদায়ের খবরে গতকাল শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলছেন, কোনো প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত ফি নিলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সচিবালয়ে একটি শিক্ষক প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনার সময় মন্ত্রী এই হুঁশিয়ারি করেন।

ফরম পূরণে শিক্ষা বোর্ড ফি নির্দিষ্ট করে দিয়েছে। কিন্তু বিনা রশিদে আদায় করা হচ্ছে দ্বিগুণ এমনকি তিনগুণ অর্থ। এই টাকা শিক্ষক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যরা ভাগবাটোয়ারা করে নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

কোথাও কোথাও বাইরে অভিযোগ করা হলে প্রবেশপত্র দেয়া হবে না, এমনকি পরীক্ষাকেন্দ্রে তাদের বহিষ্কার করা হবে বলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের হুমকি দিচ্ছেন প্রতিষ্ঠানপ্রধানরা। আর টাকা আদায়ের রশিদ চাইলে বলা হচ্ছে, ফি গ্রহণে রশিদ দেয়ার বিধান নেই।

দেশের শিক্ষা বোর্ডগুলো এবার ফরম পূরণে ব্যবহারিক পরীক্ষা ও কেন্দ্র ফিসহ মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে সর্বোচ্চ এক হাজার ৬৩০ টাকা এবং বিজ্ঞান বিভাগে এক হাজার ৭২০ টাকা নির্ধারণ করেছে। তবে অনিয়মিতদের জন্য আরও ১০০ টাকা এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২৫ টাকা করে বেশি নেয়া যাবে।

আমাদের রাজশাহীর ব্যুরো প্রধান রিমন রহমান জানান, দুর্গাপুর উপজেলার পুরান তাহিরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে মানবিক বিভাগে দুই হাজার ১৫০ ও বিজ্ঞান বিভাগে দুই হাজার ২৫০ টাকা আদায় করা হয়েছে। কিছু পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে তিন হাজারের বেশি টাকা নেয়া হয়।

গতবারের এক বিষয়ে ফেল করা পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৮০০ ও একাধিক বিষয়ের জন্য দেড় হাজার টাকা নেয়া হচ্ছে। আর নির্বাচনী পরীক্ষায় এক বা একাধিক বিষয়ে ফেল করা পরীক্ষার্থীদের মধ্যে মানবিক বিভাগের জন্য সর্বনিম্ন তিন হাজার ২০০ ও বিজ্ঞান বিভাগে সাড়ে তিন হাজার টাকা আদায় করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অভিভাবক আবু হেনা জানান, তারা জেলা প্রশাসক, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও দুর্নীতি দমন কমিশনে লিখিত অভিযোগ করেছেন। জেলা প্রশাসক অতিরিক্ত অর্থ ফেরত দিতে স্কুলটির প্রধান শিক্ষককে নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু টাকা ফেরত পাননি তারা।

তবে প্রধান শিক্ষক ইউসুফ আলী সরদার ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবদুস সাত্তার প্রামাণিক দাবি করেন, সব তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। তারা অতিরিক্ত টাকা নেননি।

সাভারের নিজস্ব প্রতিবেদক ইমতিয়াজুল ইসলাম জানান, এই উপজেলায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞান বিভাগে সর্বোচ্চ ১০ হাজার, মানবিক ও ব্যবসায় বিভাগে সর্বনিম্ন সাড়ে ছয় হাজার টাকা পর্যন্ত নেয়া হচ্ছে।

ব্যাংক কলোনির শাহীন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৪০ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ছয় থেকে সাড়ে সাত হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ অভিভাবকদের। তবে স্কুল শাখার পরিচালক হাবিবুর রহমান ওবায়েদ বলেন, ‘তারা এক হাজার ৭৫০ টাকা ফি নিচ্ছেন। আর বাকি টাকা নভেম্বর-ডিসেম্বরে পরীক্ষার্থীদের বিশেষ কেয়ার বাবদ নিচ্ছেন। তাদের দাবি, সরকারি ফি শুধু সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য।’

ম্যাস্ট্রো ক্রাউন কলেজে ছয় হাজার টাকা ফি আদায়ের সত্যতা মিলেছে। একই অপরাধে আড়াপাড়ার স্বর্ণকলি স্কুলের প্রধান শিক্ষককে সাত দিনের কারাদণ্ড ও জরিমানা করেছেন ইউএনও।

আমিন ক্যাডেট একাডেমির বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষার ৮২ জন শিক্ষার্থীকে সাড়ে নয় হাজার টাকা নিবন্ধন ফিসহ কোচিং ও বেতন বাবদ ১৭ হাজার ২০০ টাকা করে দিতে হয়েছে। পরিচালক রানা আহমেদ অভিযোগ অস্বীকার করলেও সরকারি নিবন্ধন ফি কত তা বলতে পারেননি।

চাইল্ড হ্যাভেন স্কুলের অভিভাবক মকবুল হোসেন বলেন, তার ছেলেসহ ২৪ জন পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে সাড়ে নয় হাজার টাকা নিবন্ধন ফি নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ মাহবুবুল আলম বলেন, তারা দুই হাজার ২০০ টাকা করে নিয়েছেন। কিন্তু সরকার নির্ধারিত ফির ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না।
দেওয়ান ইদ্রিস কলেজের ৫৬ জন পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে সাত হাজার ৩০০ টাকা নেওয়া হয়েছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুন্নাহার জানান, নিবন্ধিত স্কুলগুলোতে তাদের মনিটরিং আছে। কিন্তু বিপুলসংখ্যক কিন্ডার গার্টেন স্কুল নিয়ন্ত্রণের বাইরে। এদের বিরুদ্ধে শিক্ষার নামে মনোপলি বাণিজ্যের অভিযোগ তারা পাচ্ছেন। খোঁজ নিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া দুরূহ।

অভিভাবকদেরও সতর্ক থেকে উপজেলা প্রশাসন ও দুদকের ১০৬ হটলাইন নম্বরে অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দেন এই কর্মকর্তা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ রাসেল হাসান জানান, অভিযোগ পেলে অভিযান চালিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত ফির টাকা অভিভাবকদের ফেরতও দিয়েছেন তিনি।

পটুয়াখালী প্রতিনিধি চিন্ময় কর্মকার জানান, বাউফল উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তিন হাজার থেকে তিন হাজার ৬০০ টাকা করে আদায় করা হয়েছে। এমনকি কোথা কোথাও কোচিং না করিয়েও কোচিং ফি এর সঙ্গে জুড়ে দেয়া হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, কোনো বিদ্যালয়ই রশিদ দিচ্ছে না।  

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুর রাহমান বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত ফি নিলে তার দায়ভার সমিতি নেবে না।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সহিদুল হক বলেন, অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পীযূষ চন্দ্র দে বলেন, ‘আমরা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার প্রধানদের নির্দেশ দিয়েছি, বোর্ড নির্ধারিত ফির চেয়ে কোনো

অতিরিক্ত টাকা নেওয়া যাবে না। যদি কেউ নেয়, সেই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত