বড় দলের সুনজরের আশায় ধর্মভিত্তিক দল

রেজা করিম
 | প্রকাশিত : ২০ নভেম্বর ২০১৮, ১৪:১৭

আগামী জাতীয় নির্বাচনে দেশের দুই প্রধান দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কাছ থেকে বিভিন্ন আসনে ছাড় পাওয়ার আশায় রয়েছে ধর্মভিত্তিক বিভিন্ন দল। এই দলগুলোর একক শক্তিতে ভোটের বৈতরণী পার হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তাই তারা বড় দলের সমর্থন ব্যবহারের চেষ্টা করছে।

‘নৌকা’ ও ‘ধানের শীষ’ নিয়ে নির্বাচন করতে ধর্মভিত্তিক দলগুলোর মধ্যে যে প্রতিযোগিতা চলছে, তাদের একটি অংশ আবার গত দুটি জাতীয় নির্বাচনে ছিল বিএনপির বলয়ে। এবার তারা নৌকায় উঠতে চাইছে।

এই দলগুলোর নেতারা আবার আলোচিত ধর্মভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামীতে আছেন। অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ভোট নিয়ে কোনো মাথাব্যথা না থাকার কথা বললেও তাদের সংগঠনের নেতাদের প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে নজর রাখবে।

২০১০ সালের মার্চে আল্লামা আহমদ শাহ শফির নেতৃত্বে ধর্মভিত্তিক বিভিন্ন দলের নেতারা গঠন করেন হেফাজতে ইসলাম। এই সংগঠনের নেতারা ইসলামী ঐক্যজোট, নেজামে ইসলাম পার্টি, জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম, খেলাফতে আন্দোলন, খেলাফতে মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিস ও খেলাফত ইসলামীরও নেতা।

তবে হেফাজত শুরু থেকেই দাবি করছে তাদের রাজনৈতিক পরিচয় বা অভিলাষ নেই। সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব এবং ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি মোহাম্মদ ফয়জুল্লাহ এ প্রসঙ্গে ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘নির্বাচনকেন্দ্রিক কোনো চিন্তা হেফাজতে ইসলামের নেই। হেফাজত নির্বাচন করবে না। হেফাজতভুক্ত রাজনৈতিক দলগুলো দলগত ও জোটগতভাবে নির্বাচনের চিন্তা-ভাবনা করছে। আর হেফাজত হলো অরাজনৈতিক, ঈমানি, আত্মশুদ্ধির একটি সংগঠন। হেফাজত রাজনীতি করে না, করবেও না।’

নৌকায় উঠছে বিএনপির সাবেক শরিক

১৭ বছরের সম্পর্কের ইতি টেনে ২০১৬ সালে ২০-দলীয় জোট থেকে বের হয়ে যাওয়া ইসলামী ঐক্যজোট এবার ‘নৌকা’ প্রতীকে ভোট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রয়াত নেতা মুফতি ফজলুল হক আমিনীর এই জোট এবার কমপক্ষে চারটি আসনে ছাড় চাইছে আওয়ামী লীগের কাছে।

জোটের চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ নেজামীর জন্য নরসিংদী-৩ ও ঢাকা-৫, মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ জন্য চট্টগ্রাম-৭, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা আবুল হাসানাত আমিনীর জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসাইনের জন্য কুমিল্লা-১ আসন চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে হাসানাত আমিনীর আসন নিশ্চিত ধরে নিচ্ছেন তারা। কুমিল্লা-১ আসনও পাওয়ার সম্ভাবনার কথা বলছেন তারা। এখন জোর চেষ্টা চলছে চট্টগ্রাম-৭ এবং নরসিংদী-৩ আসনের জন্য।

ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ নেজামী ঢাকা টাইমসকে বলেন, “দল ও জোটগতভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি আছে আমাদের। যদি ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে সমঝোতা হয়, সে ক্ষেত্রে জোটগত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ইসলামী ঐক্যজোটের মজলিসে শুরার অনুমোদনে নৌকা প্রতীকে ভোট করা হবে। আর তা না হলে আমাদের নিজস্ব প্রতীক ‘মিনার’ নিয়েই নির্বাচন করব।”

২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচনে ধর্মভিত্তিক দল তরীকত ফেডারেশনকে চট্টগ্রাম-২ এবং লক্ষ্মীপুর-১ আসনে ছাড় দিয়েছিল আওয়ামী লীগ। এবার আরও বেশি আসন চাইছে তারা।

জাকের পার্টির দাবি আছে ফরিদপুর-২ আসন। সেখানে দলের চেয়ারম্যান মোস্তফা আমীর ফয়সল মোজাদ্দেদী প্রার্থী হতে চান। সবুজ সংকেত পাওয়ার দাবি করছেন নেতাকর্মীরা, যদিও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো আসেনি।

বিএনপির সঙ্গে যারা

২০-দলীয় জোটের শরিক খেলাফত মজলিস বিএনপিকে চিঠি দিয়ে ১০টি আসন চেয়েছে। দলের মহাসচিব আহমাদ আবদুল কাদের ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘জোট ও দলগতভাবে নির্বাচনে অংশ নেবে খেলাফত মজলিসের প্রার্থীরা। জোট থেকে যাদের মনোনয়ন দেয়া হবে, তারা জোটগতভাবে নির্বাচন করবে। আর কয়েকজন দল থেকেও প্রার্থী হবেন। বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে।’

আবদুল কাদের বলেন, ‘আমরা ১০-১২টা আসন চেয়েছি। জোটের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া এলেও সংখ্যাটা নিয়ে এখনো দেনদরবার চলছে।’
বনিবনা না হলে জোট ছাড়ার কোনো চিন্তা আছে কি না, এমন প্রশ্নে সরাসরি ‘না’ বলেন আহমাদ আবদুল কাদের।

২০ দলের আরেক শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আফেন্দি বলেন, ‘আমাদের ৫২ আসনে প্রার্থী দেয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। সেখান থেকে বাছাই করা ১৫-২০ জন প্রার্থীর তালিকা জোটের কাছে জমা দিয়ে আমরা অপেক্ষা করছি। জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সময় হলে ডাকা হবে।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত