ড. এরতেজা হাসানকে নিয়ে স্বপ্ন সাতক্ষীরাবাসীর

ঢাকাটাইমস ডেস্ক
 | প্রকাশিত : ২০ নভেম্বর ২০১৮, ১৪:৩০

ড. এরতেজা হাসানকে ঘিরে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির ঐক্যের প্রতীক হিসেবে তাকেই তৃণমূল আওয়ামী লীগ পছন্দ করছে বলে জানা গেছে।

এই প্রসঙ্গে সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল ইসলাম রেজা বলেন, ‘অনেকদিন পরে আওয়ামী লীগ থেকে একজন ধর্মপ্রাণ নেতা আমাদের মাঝে এসেছেন। যিনি গেল কয়েক বছরে সাতক্ষীরাবাসীর পাশে থেকে মন জয় করেছেন। তিনি দলীয় মনোনয়ন হয়তো প্রত্যাশা করছেন। যার নাম ড. এরতেজা হাসান জজ। তিনি এফবিসিসিআই পরিচালক ও দৈনিক ভোরের পাতা সম্পাদক এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপ-কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাও। তাকে ঘিরে সাতক্ষীরা সদর আসনে দলের মধ্যে প্রাণ এসেছে। এই এলাকার মানুষগুলো ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাসী থাকা সচেতন নাগরিকও। ঠিক সে কারণে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে থাকা শক্তিকে রুখতে এরতেজার উপরে মানুষগুলো আস্থা রাখতে শুরু করেছে। এক কথায় জামায়াতকে হারাতে তার মতো নেতাকেই এই মুহূর্তে দরকার বলে এলাকাবাসী মনে করছে। তিনি ছাড়া এই আসন থেকে দলের জেতার সম্ভাবনা কম। আর বিএনপি-জামায়াত নির্বাচন না করলে অন্য হিসাব।

তবে শেষ মুহূর্তে মনোনয়ন প্রশ্নে এখন বর্তমান সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক রবির সঙ্গে ড. এরতেজার লড়াইটাই টক অব দ্যা টাউন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী হতে মাওলানা আব্দুল খালেকই নির্বাচন করবেন বলে জানা যায়। পুরো সাতক্ষীরা শহরে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ড. এরতেজার ব্যতিক্রমী প্রচারণাও চলছে। শেখ হাসিনার উন্নত নেতৃত্বের গুনাবলী তুলে ধরে পোস্টার ও ফ্যাস্টুন শোভা পাচ্ছে। সেদিক দিয়ে বর্তমান সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক অনেকটাই পিছিয়ে।

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মীর মোস্তাক নিজের ভাগ্যের পরিবর্তন করলেও মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করেননি। শেখ হাসিনাকেও ঠকিয়েছেন। নেই তার কোন উঠান বৈঠক কিংবা বড় ধরনের সভা-সমাবেশ। এমন কি নিজে মুক্তিযোদ্ধা হয়েও জামায়াত সখ্যতায় থেকে নানা সময়ে তাদের নেতাকর্মীদের প্রকাশ্যে ঘুরবার ব্যবস্থাও করে দিচ্ছেন। যা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনও বিব্রত। আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করার উদ্যোগ না নিয়ে মীর মোস্তাক কার্যত আত্মকেন্দ্রিক আখের গোছানোর কাজে নিয়োজিত আছেন– এমন অভিযোগ প্রায় সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের। এই আসনে ধর্মীয় সংস্কৃতি স্পর্শকাতর পর্যায়ে থাকার দরুণ আওয়ামী লীগ বেশ সুবিধাজনক পর্যায়ে এই মুহূর্তে অবস্থান করছে। তারা একজন নতুন নেতা পেয়েছেন। সকল দলের অংশগ্রহণে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে জামায়াতে ইসলামীকে টক্কর দিয়ে ড. এরতেজা হাসান এর মত জাতীয় পর্যায়ের তাবলীগ নেতাই কেবল জিততে পারেন– এমন মতও রাখছে এলাকাবাসী।

অন্যদিকে এরতেজা নিজে ব্যবসায়ী নেতা হিসেবেও আদৃত। তিনি বলেন, ‘সাতক্ষীরায় প্রধানমন্ত্রীর নামে একটা ইপিজেড আমি করতে চাই। আমাদের মৎস্যসম্পদ, কৃষিসম্পদ হতে শুরু করে শিল্পের বিকাশে একটা কার্যকরী শহর হিসেবে সাতক্ষীরার উন্নয়নে কাজ করার অভিলাষে নিজেকে সঁপে দিতে চাই। তবে সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে বলব, আমরা গর্বিত জাতি। কারণ, প্রায় ৪৭ বছরের বাংলাদেশ দুইজন বিশ্বমানের নেতৃত্ব পেয়েছে। একজন বঙ্গবন্ধু, আরেকজন জননেত্রী শেখ হাসিনা। মানুষকে মনে রাখতে হবে যে, শেখ হাসিনা দেশের জন্য যে সিদ্ধান্তই দেবেন তা নিয়ে অপচিন্তা না করে একবাক্যে বলতে হবে তিনি সঠিক রায় দিয়েছেন। তিনি বিচক্ষণ ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেত্রী। আমরা কিছুই করতে পারব না যদি তার আদর্শে চলতে না পারি। তিনি আমাদের মা। সন্তান হিসেবে তার হাতকে শক্তিশালী করা ছাড়া আর কোন রাস্তাও উন্মুক্ত নেই। রাজনীতি মানেই একজন শেখ হাসিনা। তার সমকক্ষ অন্য কেউ এই দেশে নেই।’

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আদর্শিক কর্মী হিসেবে ড. কাজী এরতেজা হাসান নিজ প্রতিষ্ঠান দৈনিক ভোরের পাতায় বঙ্গবন্ধু কর্ণার তৈরি করেছেন। এমনটা বাংলাদেশের কোনো পত্রিকায় নেই। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের বইয়ে বঙ্গবন্ধুকে অবমাননা করায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করেছেন। এনিয়ে নানামুখী হুমকির সম্মুখীন হলেও তিনি দমে যাননি। আদর্শের প্রশ্নে বিন্দুমাত্র ছাড় দেন ধর্মপ্রাণ এই এরতেজা হাসান।

উল্লেখ্য,সাতক্ষীরা দুই আসনে তিন লাখ ৫৬ হাজার ভোটারের মধ্যে এক লাখ ৭৯ হাজারই নারী ভোটার। নারী ভোটাররা একজন ধর্মপ্রাণ মানুষকেই ভোট দিবেন বলে এক্ষেত্রেও এগিয়ে রয়েছেন ড. কাজী এরতেজা হাসান।

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত