সিসি ক্যামেরায় বেনাপোল বন্দর

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২০ নভেম্বর ২০১৮, ১৯:১৩

দুই দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যকে গতিশীল ও বন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেনাপোল বন্দরকে অটোমেশন ও সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। ৫২ কোটি টাকা ব্যায়ে বাস্তবায়ন হচ্ছে  অটোমেশন, সিসি ক্যামেরা ও বাউন্ডারি ওয়াল। বছরে ভারতের সাথে ৩০ হাজার কোটি টাকার আমদানি বাণিজ্য হলেও তেমন একটা উন্নয়ন হয়নি এই বন্দরের।

প্রাথমিকভাবে সিসি ক্যামেরা বসানো হলেও অটোমেশনের কাজও চলেছে। বন্দর থেকে মালামাল চুরি রোধে ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আপাতত গোটা বন্দরকে আনা হচ্ছে সিসি ক্যামেরার আওতায়। বর্তমানে বেনাপোল কাস্টমস হাউসে ও আন্তর্জাতিক চেকপোস্টে অটোমেশন ও সিসি ক্যামেরার আওতায় কাজ চললেও বন্দরে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে সব ধরনের কাজ অব্যাহত থাকায় আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে স্থবিরতা দেখা দিচ্ছিল।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশের বিভিন্ন দপ্তরে ডিজিটালাইজেশন চললেও বেনাপোল বন্দর  অনেকটা আধুনিকতার ছোঁয়ার বাইরে। নানা প্রতিকূলতায় হচ্ছে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য। সিসি ক্যামেরা ও অটোমেশন প্রক্রিয়া চালু করায় বাড়বে আমদানি রপ্তানি বাণিজ্য।

আর বন্দর ও কাস্টমস কর্মকর্তারা বলছেন, বেনাপোল বন্দরের গুরুত্ব বিবেচনা করে সরকার অবকাঠামো উন্নয়নে আন্তারিক। সুষ্ঠুভাবে বাণিজ্য সম্পাদনে পর্যায়ক্রমে সব ধরনের উন্নয়ন করা হবে।

১৯৭২ সালে শুরু হয় বেনাপোল বন্দরের আনুষ্ঠানিক যাত্রা। বেনাপোল বন্দর দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর। এই বন্দর থেকে সরকার বছরে ছয় হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয় করলেও তুলানমূলক উন্নয়ন হয়নি এই বন্দরের।

বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন জানান, যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় দেশের সিংহভাগ শিল্প কলকারখানা ও গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রির কাচা মাল আমদানি হয় এই বন্দর দিয়ে।  কোলকাতায় ট্রাকে পণ্য লোড দিয়ে বেনাপোল বন্দরে আসতে সময় লাগে মাত্র ৩ ঘণ্টা। ফলে আমদানিকারকরা এই বন্দর দিয়ে মালামাল আমদানি করতে সবচেয়ে বেশি স্বচ্ছন্দ বোধ করে থাকে। ব্যবসায়ীদের এ পথে বাণিজ্যে আগ্রহ বেশি। এ বন্দর থেকে ভারতের বাণিজ্যিক শহর কলকাতার দূরত্ব মাত্র ৮৪ কিলোমিটার। ১৫ হাজার মানুষের কর্মস্থান রয়েছে এখানে। সবকিছু মিলে এ বন্দরের গুরুত্ব ব্যবসায়ীদের কাছে অপরিসীম।

বেনাপোল আমদানি রপ্তানি সমিতির সহ-সভাপতি আমিনুল হক জানান, দেরিতে হলেও বেনাপোল বন্দরে সিসি ক্যামেরা ও অটোমেশন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এতে আমরা অনেকটা স্বস্তিবোধ করছি। এতে যেমন কাজের গতি বাড়বে তেমনি বন্দরের নিরাপত্তাও অনেকটা নিশ্চিত হবে।

ভারত বাংলাদেশ ল্যান্ড পোর্ট ইমপোর্ট এক্সপোর্ট সাব-কমিটির চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান জানান, বন্দরে সিসি ক্যামেরা ও অটোমেশন প্রক্রিয়ার দাবি আমাদের বহু দিনের দাবি আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি দেয়া উচিত।

বেনাপোল কাস্টমস হাউজের কমিশনার বেলাল হোসেন চৌধুরী জানান, আগামীতে বেনাপোল বন্দর দিয়ে দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য আরও বাড়বে। ইতোমধ্যে আমদানি পণ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসি ক্যামেরা লাগানোর কাজ শুরু হয়েছে। আগামীতে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৪শ ক্যামেরা বসবে বন্দর এলাকায়।

বেনাপোল বন্দর পরিচালক (ট্রাফিক) প্রদোষ কান্তি দাস জানান, আমদানি রপ্তানি বাণিজ্য গতিশীল ও আমদানি পণ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বন্দরে অটোমেশন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। অটোমেশন চালুতে এখন ব্যবসায়ীরা ঘরে বসে বন্দর পণ্যগারে রক্ষিত মালামালের খোঁজ-খবর নিতে পারবেন। অটোমেশন প্রক্রিয়ায় কাজ সম্পন্ন করতে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের দুইজন করে সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে আগামী বছরের প্রথম দিকে।

(ঢাকাটাইমস/২০নভেম্বর/প্রতিনিধি/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত