পুনঃ ময়নাতদন্তে পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীর লাশ উত্তোলন

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২০ নভেম্বর ২০১৮, ২০:৪৮

কিশোরগঞ্জে পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী আয়শা আক্তার জেবিনের লাশ পুনঃময়নাতদন্তের জন্য ৯০ দিন পর কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ার বাগে জান্নাত থেকে লাশটি উঠানো হয়। কালেক্টরেটের সহকারী কমিশনার সাগুপ্তা হকের উপস্থিতিতে উত্তোলন করে পুনঃময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

২০ আগস্ট সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের কালিহাতি পৌর সদরের সাতুটিয়া এলাকায় কালিহাতি থানার এএসআই হামিদুল ইসলামের ভাড়া বাসা থেকে জেবিনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি কিশোরগঞ্জ শহরের চরশোলাকিয়া এলাকার মো. মুর্শিদ মিয়ার মেয়ে।

গলায় ওড়না পেঁচিয়ে স্ত্রী আয়েশা আক্তার জেবিন আত্মহত্যা করেছে বলে প্রচার চালান কালিহাতী থানার এএসআই হামিদুল ইসলাম। কিন্তু জেবিনের পরিবার তা নাকচ করে দেন।

জেবিনের পরিবারের দাবি, এএসআই হামিদুল ইসলাম তার ডিভোর্সি প্রথম স্ত্রী সাবিকুন্নাহার ও বড় বোন শিরিন আক্তারকে সাথে নিয়ে জেবিনকে হত্যার পর আত্মহত্যার নাটক সাজায়। তাই তারা জেবিন হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত চেয়ে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

অভিযুক্ত এএসআই হামিদুল ইসলাম ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার বিনোদবাড়ি মালকোন গ্রামের মো. সোহরাব আলীর ছেলে।

নিহত আয়েশা আক্তার জেবিনের বাবা মুর্শিদ মিয়া অভিযোগ করেন, এএসআই হামিদুল ইসলাম তার ডিভোর্সি প্রথম স্ত্রী সাবিকুন্নাহারকে সাথে নিয়ে আয়েশা আক্তার জেবিনকে হত্যার পর আত্মহত্যার নাটক সাজায়।

এ বিষয়ে তিনি বাদী হয়ে কালিহাতী থানায় মামলা করেন। কিন্ত এতে পুলিশের পক্ষপাতিত্ব করার সন্দেহে তার মেয়ে হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করে সম্প্রতি টাঙ্গাইল পুলিশ সুপারের কাছে পুনরায় লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য আবেদন করেন। সে প্রেক্ষিতে টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুওরিন মাহবুবা এক আদেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ভিকটিম আয়েশা আক্তার জেবিনের লাশ কবর থেকে উত্তোলনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কিশোরগঞ্জকে নির্দেশনা দেন। সে মোতাবেক কিশোরগঞ্জ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কিশোরগঞ্জ কালেক্টরেটের সহকারী কমিশনার সাগুপ্তা হককে দায়িত্ব প্রদান করেন। সে আলোকে মঙ্গলবার তিনি লাশটি উত্তোলন করে পুনঃময়নাতদন্ত করে জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠান।

লাশ উত্তোলনের সময় প্রতিক্রিয়ায় নিহত জেবিনের মামা রেজাউল হাবীব রেজা বলেন, জেবিন মায়ের সাথে কথা বলতে বলতেই এএসআই  হামিদুল তাকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে। হামিদুল এ হত্যার পরও থানায় ডিউটি করছিল। আমরা এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমরা হামিদুলের ফাঁসি চাই।

(ঢাকাটাইমস/২০নভেম্বর/প্রতিনিধি/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত