আগামী নির্বাচনে লড়বেন না সুষমা স্বরাজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
 | প্রকাশিত : ২০ নভেম্বর ২০১৮, ২১:৩১

ভারতে ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিতব্য লোকসভা নির্বাচনে লড়বেন না ক্ষমতাসীন দলের নেতা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার জন্যই নাকি এমন সিদ্ধান্ত তার। বিজেপি সভাপতি অমিত শাহকে ইতিমধ্যে তা জানিয়েও দিয়েছেন বলে খবর। যদিও দলের তরফ থেকে এর সত্যতা স্বীকার করা হয়নি। খবর ভারতীয় গণমাধ্যমের।

চলতি মাসের শেষে মধ্যপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন। সেখানকার বিদিশার সাংসদ সুষমা স্বরাজ। দলের হয়ে প্রচার চালাতে এই মুহূর্তে সেখানেই রয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার ইন্দোরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। তিনি বলেন, ‘যদিও পার্টি-ই সবকিছু ঠিক করে। তবে আমি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছি। আগামী নির্বাচনে আর লড়ব না।’

২০১৬ সালে কিডনি প্রতিস্থাপনের পর থেকে লাগাতার শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন সুষমা স্বরাজ। যে কারণে গত কয়েক মাসে বেশ কয়েকবার হাসপাতালেও যেতে হয়েছে তাকে। কিন্তু এই সরে যাওয়া কি শুধুমাত্র স্বাস্থ্যজনিত কারণে? নাকি দলের অন্দরে গুরুত্ব কমে যাওয়াই মূল কারণ? প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক মহলে।

বরাবর লালকৃষ্ণ আদভানির ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত সুষমা স্বরাজ। ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদির উত্থানে যে ক’জন বিজেপি নেতা ততটা স্বস্তি পাননি, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন তিনি। যদিও তার ভাবমূর্তি ও রাজনৈতিক ভারের কারণে এই অবস্থান মন্ত্রিত্বের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়নি। এমনকি, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হয়েও কার্যত নাম সর্বস্ব মন্ত্রী হয়ে রয়ে গিয়েছেন তিনি। বিদেশি রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে আলাপ আলোচনাই হোক বা পররাষ্ট্র নীতি নির্ধারণ, বর্তমানে সব ক্ষেত্রেই জাঁকিয়ে বসেছেন নরেন্দ্র মোদি।

সরকারের সঙ্গে তার দূরত্ব আরও প্রকট হয়ে ধরা পড়ে বছরের শুরুতে। লাভ জিহাদ নিয়ে দেশজুড়ে যখন তাণ্ডব চালাচ্ছিল বিজেপিরা, সেই সময় লক্ষ্ণৌর ভিনধর্মী এক দম্পতির পাশে দাঁড়ান সুষমা। পাসপোর্ট নিতে গিয়ে হেনস্থার মুখে পড়েন ওই দম্পতি। যার তীব্র প্রতিবাদ করেন তিনি। কিন্তু গোটা ঘটনায় হিন্দুত্ববাদীদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হয় তাকে। ইন্টারনেট ট্রলিংয়ের শিকার হন। সেই সময় ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং ছাড়া কাউকেই পাশে পাননি সুষমা। বিরোধী দল কংগ্রেস তার হয়ে গলা চড়ালেও, নীরব ছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি।

তাহলে কি এ সবের জেরেই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি? এখনও পর্যন্ত তার সদুত্তর মেলেনি। রাজ্যসভার প্রার্থী করে তাকে সংসদে ফিরিয়ে আনা হতে পারে বলে বিজেপির অন্দরে জল্পনা।

(ঢাকাটাইমস/২০নভেম্বর/এসআই)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত