বিএনপি নেতাদের সাক্ষাৎকার

ধানের শীষ না পেলেও মাঠে থাকার নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০১৮, ২২:৩৭ | প্রকাশিত : ২০ নভেম্বর ২০১৮, ২১:৫৫
বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে চলছে মনোনয়নপ্রত্যাশদের সাক্ষাতকার, বাইরে উৎসুকদের ভিড়। ফাইল ছবি

বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদেরকে ধানের শীষ না পেলেও ভোটে মাঠে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

টানা তিন দিন ধরে চলা সাক্ষাৎকার চলছে। মঙ্গলবার তৃতীয় দিনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের কাছে আন্দোলন সংগ্রামে তাদের ভূমিকা, তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ আছে কি না, এই বিষয়টি নিয়েও জানতে চাওয়া হয়। মনোনয়ন না পেলে দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে কেউ কাজ করবে না, এমন অঙ্গীকারও আদায় করা হয়।

দিনভর গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে কুমিল্লা, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেয় বিএনপি।

তিন দিন ধরেই এই সাক্ষাৎকারে যুক্তরাজ্য থেকে যুক্ত হন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান। আগের দিন বিকালে স্কাইপে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও বিকল্প পন্থায় তিনি মঙ্গলবারের সাক্ষাৎকার নেন।

সিলেট-১ আসনের জন্য সাক্ষাৎকার দেওয়া ইনাম আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘তারেক রহমান জানতে চেয়েছেন তৃণমূলের সঙ্গে কেমন যোগাযোগ আছে?’

সিলেট -২ আসনের বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা সাক্ষাৎকার শেষে কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, ‘দলের সকল নেতৃবৃন্দ জানেন আমাদের পরিবারের অবস্থান কী। দলের জন্য আমাদের ত্যাগ কতটুকু। সেটা আর নতুন করে বলার কিছু নেই। তারেক রহমান আমাকে আমার স্বামীর জন্য সান্তনা দিয়েছেন আর বলেছেন নিশ্চয়ই এর বিচার দল করবে। তাকে যারা লুকিয়ে রেখেছে তাদের বিচার হবে।’

সিলেট -৪ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী শামসুজ্জামান ছিলেন উৎফুল্ল। বলেন, ‘প্রথমবারের মতো মনোনয়ন বোর্ডে সাক্ষাৎকার দিতে এসেছি। মনোনয়ন না পেলেও ধানের শীষের জন্য কাজ করব। তারেক রহমানসহ মনোনয়ন বোর্ড থেকে আমাদের এই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’

ফেনী-৩ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী আব্দুল লতিফ জনি বলেন, ‘তারেক রহমানের নির্দেশ দল যাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে তার পক্ষে কাজ করতে হবে। আর মনোনয়নের ক্ষেত্রে যারা আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে ছিলেন তাদেরকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।’

নোয়াখালী-১ আসনে মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ‘যাকে মনোনয়ন দেয়া হবে তার পক্ষে সবাইকে কাজ করতে বলেছেন তারেক রহমান।’

চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনের মোশারফ হোসেন বলেন, ‘আমি বলেছি মননোয়ন পাই বা না পাই ব্যালটের মাধ্যমে সরকারকে পতন করে তবেই ঘরে ফিরব।’

চাঁদপুর-২ আসনের জালাল উদ্দিন বলেন, ‘এক আসনের সবাইকে একসঙ্গে ডাকা হয়েছিল। সবার কাছে নিজ নিজ অবস্থান জানতে চাওয়া হয়।’

লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী বলেন, ‘চূড়ান্ত মননোয়নে যদি আমরা নাম নাও থাকে তবুও মাঠে থাকার কথা বলেছি।’

ফেনী-১ আসনের শাহরিয়ার বলেন, ‘ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) নির্বাচন করলে আমি নির্বাচন করব না। তিনি নির্বাচন না করলে আমি ফেনী-১ আসন থেকে নির্বাচন করব।’

চাঁদপুর-২ আসনের আতাউর রহমান বলেন, ‘আমার আসন সম্পর্কে মনোনয়ন বোর্ড আমাকে কিছু ডাটা জিজ্ঞেস করলে আমি আমার সাধ্যমতো উত্তর দিয়েছি। এরপর দেখলাম আমার গ্যাপগুলো ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঠিক করে দিলেন। বুঝতে পারলাম আমার চেয়ে বেশি ডাটা তার কাছে রয়েছে।’

বান্দরবান -১ আসনের শওকত মাহমুদ বলেন, ‘আমার নির্বাচনী এলাকার জনগণ আমার সাথে আছে। তারপরও দল যাকে মনোনয়ন দেবে আমি তার সঙ্গে মাঠে থাকব।’

কুমিল্লা-৪ আসনের আউয়াল খান বলেন, ‘নেতাদের বলে এসেছি মননোয়ন না পেলেও  যেহেতু গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই চলছে সুতরাং যাকেই দেয়া হোক তার সঙ্গে আছি।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত