মানিকগঞ্জ-৩

‘উন্নয়নে’ আসন ধরে রাখার প্রত্যয় স্বপনের

মঞ্জুর রহমান, মানিকগঞ্জ থেকে
 | প্রকাশিত : ২১ নভেম্বর ২০১৮, ১৫:০২

সদর ও সাটুরিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত মানিকগঞ্জ-৩ আসনটি ধরে রাখতে আত্মবিশ্বাসী বর্তমান সংসদ সদস্য স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন। তার আশা, গত ১০ বছরে এলাকায় যেসব উন্নয়ন হয়েছে, তার সুফল পড়বে ভোটে।

১৯৯১ সাল থেকে ২০০১ পর্যন্ত এই টানা জয় পেয়ে আসছিল বিএনপি। ২০০৮ সালে সেটির দখল নেন নৌকা প্রতীকের। দশম সংসদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ের পর তিনি হন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।

বর্তমান সরকারের শাসনামলে মানিকগঞ্জে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক উন্নয়ন হয়েছে। এর মধ্যে আছে কর্র্নেল মালেক সরকারি মেডিকেল কলেজ, মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা, ফ্যামেলি ওয়েলফেয়ার ভিজিটর ট্রেইনিং ইনস্টিটিউট, শিশু ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, সরকারি নার্সেস ট্রেইনিং ইনস্টিটিউট, ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি, ভোকেশনাল টেক্সটাইল ইনস্টিউিট, ডায়াবেটিক হাসপাতাল ভবন, চিফ জুডিশিয়াল ভবন, বেউথা ও তিল্লী সেতু নির্মাণ।

এছাড়া সাটুরিয়া উপজেলায় শতভাগ ও সদরে ৯০ ভাগ বিদ্যুতায়নসহ অসংখ্য ব্রিজ, পাকা সড়ক, কলেজ ও স্কুল ভবন নির্মাণ, অনেক প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছেন।

এবারও স্বপন মনোনয়ন পাচ্ছেন ধরে নিয়ে মাঠে সক্রিয় তার ঘনিষ্টজনরা।

তবে জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন নিয়ে পদবঞ্চিত একটি পক্ষ প্রতিমন্ত্রীর প্রতি নাখোশ। ফলে দলের সবাইকে একাট্টা করা চ্যালেঞ্জ।

এখান থেকে মনোনয়ন চেয়েছেন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গাজী কামরুল হুদা সেলিম। তিনি মানিকগঞ্জ পৌরসভার বর্তমান মেয়র। কেন্দ্রীয় নির্দেশ না মেনে পৌর নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করায় জেলা আওয়ামী লীগ থেকে তাকে সহ তার অনুসারীদের বহিষ্কার করা হয়েছে।

এই আসন থেকে আগামী নির্বাচনে দলের টিকিট পেতে আরও লবিং করে যাচ্ছেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বাদরুল ইসলাম খান বাবলু। এর আগেও তিনি দলের মনোনয়ন চেয়েও ব্যর্থ হয়েছেন।

জেলা আওয়ামী লীগের শিল্পবিষয়ক সম্পাদক ও এফবিসিসিআইর পরিচালক  তোসাদ্দেক হোসেন খান টিটো বসে নেই। তিনিও নৌকা পেতে আশাবাদী।
যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা রফিকুল ইসলাম ও ঢাকা জজ কোর্টের পিপি আব্দুল মান্নানও নানাভাবে লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন।

আছে মহাজোটের শরিকদের চোখও

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোটে যোগ দিতে যাওয়া জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব জহিরুল আলম রুবেল চাইছেন এখান থেকে নির্বাচন করতে। তার আশা, আওয়ামী লীগ নিজের প্রার্থী না দিয়ে সমর্থন দেবে তাকে।   

জেলা জাসদের সভাপতি ইকবাল হোসেন খানও দল এবং মহাজোটের মনোনয়ন চান। ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগেও তিনি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত জমা দেননি।

বিএনপির দুশ্চিন্তা বিভক্তি

এই আসনে বিএনপির হয়ে মনোনয়ন চান জেলা বিএনপির সভাপতি মুন্নু গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফরোজা খান রিতা। তার পিতা সাবেক দপ্তরবিহীন মন্ত্রী হারুনার রশীদ খান মুন্নুর ছিলেন এই আসনের সংসদ সদস্য।

তবে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মঈনুল ইসলাম খান শান্তর সঙ্গে রীতার ‘দা কুমড়া’ সম্পর্ক রয়েছে। একজন অন্য জনকে ঘায়েল করতে হেন চেষ্টা নাই করেন না। ফলে রীতা প্রার্থী হলে দলের একাংশ তার বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে।

রিতা সম্প্রতি আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন বলে তার বিরোধীরা বলে আসছেন। তাদের দাবি, এ কারণেই গত ১০ বছরে একদিনের জন্যও কেন্দ্র ঘোষিত কোনো কর্মসূচি তিনি পালন করেননি। আর সারা দেশেই জেলা বিএনপির বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলা হলেও মানিকগঞ্জে রীতার বিরুদ্ধে মামলা নেই।

এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি জামিলুর রশিদ খান, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আজাদ হোসেন খান ও কেন্দ্রীয় নেতা আলী আশরাফ।

আবার বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়া ড. কামাল হোসেনের গণফোরামের নেতা মফিজুল ইসলাম খান কামাল এই আসন থেকে নির্বাচন করতে আগ্রহী। তার দল বিএনপির কাছে আসনটি চাইবে বলে জানিয়েছেন তিনি। জনাব কামাল বঙ্গবন্ধুর আমলে সংসদ সদস্য ছিলেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত