ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা কে কোথায়

এম গোলাম মোস্তফা
 | প্রকাশিত : ২১ নভেম্বর ২০১৮, ১৯:০৯

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজ নিজ আসনে লড়তে চান জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষনেতারা। তাদের মধ্যে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না এবং গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী ছাড়া অন্যরা এর আগেও জয় পেয়েছেন।

তবে ফ্রন্টের প্রধান গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন অংশ নেবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা। কার্যকরী কমিটির সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলছেন, বয়স ও শারীরিক কারণে তার ভোটে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা নেই।

মহাজোটের প্রার্থীদের মোকাবিলায় ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনের মাঠে থাকবেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষনেতারা। কয়েকটি বৈঠকে তারা নিজ নিজ আসনে নির্বাচনে মত দিলেও আসন বণ্টনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ঐক্যফ্রন্টের নেতারা বলছেন, এই মুহূর্তে নির্বাচনটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ, আসন ভাগাভাগির বিষয়ে পরে বসা হবে।

লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে নির্বাচন করতে চান জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব। ১৯৯১ সালের পর চারটি নির্বাচন করে তিনি জয় পেয়েছেন ১৯৯৬ সালে একবার। আর ১৯৯১, ২০০১ ও ২০০৮ সালে পরাজিত হন ঐক্যফ্রন্টের এই শীর্ষনেতা।

জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন কুমিল্লা-৪ আসনে লড়তে চান। ১৯৯১ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আসনটি বিএনপির দখলে ছিল। চারবারই বিএনপির প্রার্থী ছিলেন মঞ্জুুরুল আহসান মুন্সী। তিনি এবারও ধানের শীষের মনোনয়নপ্রত্যাশী।

আব্দুল মালেক রতন ঢাকা টাইমসকে বলেন, জেএসডির ৫৭০টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়। সাক্ষাৎকার নিয়ে ১৪০ জন প্রার্থীকে মনোনীত করা হয়েছে। পরে আরেকটি সংক্ষিপ্ত তালিকা করা হবে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের সভাপতি লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে ও আমি কুমিল্লা-৪ আসনে লড়ব। ঐক্যফ্রন্টের আসন ভাগাভাগি নিয়ে এখনো আলোচনা শুরু হয়নি। আজকালের মধ্যে শুরু হবে। আমাদের সামনে এখন নির্বাচনটাই গুরুত্বপূর্ণ। দেশে এখন নিরাপত্তা নেই। এ পরিস্থিতি থেকে জাতিকে মুক্ত করতেই আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব।’

ড. কামালের অংশ নেওয়া অনিশ্চিত হলেও গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু দুটি আসনে নির্বাচন করতে চান। ঢাকা-৩ আসনের কেরানীগঞ্জ উপজেলা দুটি আসনে ভাগ হয়ে ঢাকা-২ ও ৩ হওয়ায় দুটিতেই ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করতে চান ঐক্যফ্রন্টের এই শীর্ষনেতা।

শেষবার ১৯৮৬ সালে নৌকা প্রতীক নিয়ে ঢাকা-৩ আসনে জয়ী হয়েছিলেন মন্টু। ওই নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি। ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে যান বিএনপির আমান উল্লাহ আমানের কাছে। আসন ভাগের পর দুই আসনে ২০০৮ সালে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন যথাক্রমে মতিউর রহমান ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

চট্টগ্রাম-১৪ আসনে মনোনয়ন চাচ্ছেন গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী। এ আসনে বিএনপির শরিক এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদও প্রার্থী। তিনি একাধিকবার এ আসনের এমপি নির্বাচিত হন।

সুব্রত চৌধুরী ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘আমার নির্বাচনী এলাকা চট্টগ্রাম-১৪। সেখানেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাই। মোস্তফা মহসিন মন্টু নির্বাচন করবেন ঢাকা-২ ও ৩ আসনে।’

আসনগুলোতে আপনাদের বড় শরিক বিএনপি ও এলডিপির হেভিওয়েট প্রার্থী আছেন, আসন বণ্টন নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না এমন প্রশ্নে সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘থাক না, ওসব নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না। আমাদের আসন বণ্টন হবে ঐকমত্যের ভিত্তিতে। এটা নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না।’

সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের দলের মনোনয়ন ফরম এখন বাছাই প্রক্রিয়ায় আছে। মোট ১৫০ জনের তালিকা করা হয়েছে। এটা নিয়েই আমরা আলোচনায় বসব। বৃহস্পতিবার (আগামীকাল) আমরা আসন বণ্টন নিয়ে বসতে পারি।’

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আরেক শীর্ষনেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান মৌলভীবাজার-২ আসনে। এর আগে তিনি এ আসনে আওয়ামী লীগের হয়ে নির্বাচন করেছেন, জয় পেয়েছেন একবার। ২০০৮ সালে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন আবেদ রাজা।

নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না বগুড়া-২ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করতে চান। ১৯৯১ সাল থেকে তিনি এ আসনে তিনবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। প্রথমবার জনতা মুক্তি পার্টি ও পরের দুবার আওয়ামী লীগের হয়ে ভোট করে একবারও জিততে পারেননি।

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘আমি বগুড়া-২ আসনের জনগণের কাছ থেকে যে রিপোর্ট পেয়েছি, তারা অখুশি নয়। বরং খুশি হয়েছে, আমি এ আসনে নির্বাচন করায়।... সবাই বলছেন, আমরা জেতার জন্য সর্বোচ্চ ছাড় দেব।’

বিকল্পধারার (একাংশ) মহাসচিব শাহ আহমেদ বাদল নির্বাচন করবেন লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর) আসনে। তিনি বলেন, ‘আশা করি, ঐক্যফ্রন্ট আমার মনোনয়নের বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেখবে।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত