বীরাঙ্গনার স্বীকৃতি পেলেন তিন নারী

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০১৮, ১৬:৩৪ | প্রকাশিত : ২৩ নভেম্বর ২০১৮, ১৫:১৩

সুনামগঞ্জে জেলার শাল্লা উপজেলার চোরাপল্লী খ্যাত উজানগাঁও গ্রামের তিন নারী অবশেষে বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেয়েছেন। স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর তারা পেলেন এ স্বীকৃতি।

স্বীকৃতি পাওয়া তিন বীরাঙ্গনা হচ্ছেন, পিয়ারা বেগম, মুক্তাবান বিবি ও জমিলা। গত ১২নভেম্বর জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) ৫৯তম সভায় গেজেটভুক্তি করে তাদেরকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। গেজেটে তাদের সবধরনের সুযোগ সুবিধা দিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতির কাগজ নিয়ে বৃহস্পতিবার তারা সুনামগঞ্জ সমাজসেবা অধিদপ্তরে  আসেন। ভাতার জন্য আবেদন করেছেন তারা সবাই।

এলাকার প্রভাবশালী রাজাকারদের  ভয়ভীতি উপেক্ষা করে গত বছর স্বীকৃতির জন্য আবেদন করেন পিয়ারা বেগম, মুক্তাবান বিবি, জমিলা বেগম। যাচাই বাছাই শেষে অবশেষে তাদের বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দেয় সরকার। শেষ বয়সে এসে স্বীকৃতি পেয়ে আনন্দিত বীরাঙ্গনারা।

পিয়ারা বিবি, মুক্তাবান বিবি ও জমিলা সাংবাদিক শামস শামীমকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘বাবা আমাদের খবর কেউ কোনো দিন লয়না (নেয় না)। তুমি কয়েকবার আমরারে (আমাদের) নিয়া পত্রিকায় লেখছো, বই লেখেছো। স্বীকৃতির জন্য বিভিন্ন মাইনসের লগে মাতছো। বাজান আমরা স্বীকৃতি পাইছি।

তারা আরো জানান, তাদের বাবা-ভাই-চাচাসহ সবাইকে হত্যা করেছে রাজাকাররা। তাদের তুলে নিয়ে নির্যাতন করেছিল। সেই কথা মনে হলে এখনো চোখ ফেটে কান্না আসে তাদের।  এসময় তারা এলাকার অন্যান্য বীরাঙ্গনার স্বীকৃতিসহ স্থানীয় জীবিত রাজাকারদের শাস্তি দাবি করেন।

স্থানীয় কমরেড অমর চান্দ দাস বলেন, ঐতিহাসিক একটি কাজে সহযোগিতা করে আমি আনন্দিত। গত বছর আবেদন করার পর এই নারীদের নিয়ে আমি ঢাকায় কয়েকবার গিয়েছিলাম। মন্ত্রণালয় ও সচিবালয়ে গিয়ে তাদের বিষয়ে কথা বলেছি। অবশেষে সরকার তাদের স্বীকৃতি দিয়েছে। আমাদের এলাকায় মুক্তিযুদ্ধের সময় ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে। রাজাকাররা শক্তিশালী থাকায় নির্যাতিতরা এখনো মুখ খুলতে চায় না। তবে এখন অনেকেই কথা বলছেন। এখন এই দরিদ্র নারীদের সরকারি সুযোগ সুবিধা দ্রুত দেওয়া হোক।’

গত একুশে বই মেলায় ‘১৯৭১: চোরের গাঁওয়ের অশ্রুত আখ্যান’ নামে সাংবাদিক শামস শামীমের একটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়। এতে চোরের গাঁওয়ের কয়েকজন বীরাঙ্গনা নারীর প্রথম বারের মতো তাদের জীবনের ভয়াবহতার কথা তুলে ধরা হয়। স্বীকৃতিপ্রাপ্ত এই তিন নারীর কথাও বইটিতে বিস্তারিত রয়েছে। এই বইয়ের সূত্র ধরেই গত এপ্রিল মাসে বিটিভিতে বীরাঙ্গনা পিয়ারা বিবিকে নিয়ে ‘এই দেশটাকে ভালোবেসে’ অনুষ্ঠান প্রচারিত হয়। এতে সাংবাদিক শামস শামীমকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এই অনুষ্ঠানে পিয়ারা বিবি তার উপর ও তার পরিবারের উপর নৃশংসতার কথা তুলে ধরেন।

ঢাকাটাইমস/২৩নভেম্বর/প্রতিনিধি/ওআর

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত