তদন্তে বেরিয়ে এল শত কোটি টাকার সম্পদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
 | প্রকাশিত : ২৭ নভেম্বর ২০১৮, ১৯:৫৯

মানিলন্ডারিং মামলায় মাদকের গডফাদার ও অস্ত্রের ডিলার গোলাম ফারুক ও তার স্ত্রী আফরোজা আক্তার এ্যানিকে গ্রেপ্তারের পর তদন্তে পুলিশের অপরাধ তদন্ত শাখা (সিআইডি) খুঁজে পেয়েছে তাদের শত কোটি টাকার সম্পদ।

মঙ্গলবার দুপুর পৌনে একটায় সিআইডি সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্লা এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান।
মোল্লা নজরুল ইসলাম বলেন, চাপাইনবাবগঞ্জের হতদরিদ্র পরিবারের গোলাম ফারুক ২০০৯ সালে শূন্য হাতে ঢাকায় আসেন। গাজীপুরের একটি গ্রুপের সঙ্গে পরিচয়ের পর তাদের সঙ্গে অস্ত্রের ব্যবসা শুরু করেন। পাশাপাশি গাজীপুরে একটি গার্মেন্টস কারখানা দেন। এর কিছুদিন পরে প্রথমে তিনি টেকনাফ থেকে নূরুল হক ভুট্টোর চাচা গুড়া মিয়ার সঙ্গে ইয়াবার ব্যবসা শুরু করে। এরপর নূরুল হক তার বড়ভাই নুর মোহাম্মদের কাছ থেকে ইয়াবা এনে ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন  এলাকায় বিক্রি করতেন এবং ইয়াবার ব্যবসা করে তিনি শত কোটি টাকার মালিক হন।

সিআইডি পুলিশের বিশেষ সুপার বলেন, তদন্তকালে দেখা গেছে, গোলাম ফারুক এলেজা এক্সপোর্ট ইন্টারন্যাশনাল ফ্যাক্টরি গড়ে তুলেছেন, যার মূলধনের পরিমাণ প্রায় এক কোটি টাকা। এই প্রতিষ্ঠানের নামে আইএফআইসি ব্যাংকের একটি হিসাবে রয়েছে প্রায় চার লাখ ৫৫ হাজার ২০০ টাকা। গোলাম ফারুকের নামে একই ব্যাংকের আরেকটি হিসাবে রয়েছে চার লাখ ৮১ হাজার ১৯৮ টাকা, তার স্ত্রী আফরোজা আক্তার এ্যানির নামে পরিবার সঞ্চয়পত্রে রয়েছে ১৫ লাখ টাকা। মেয়ের নামে ৯০ লাখ টাকায় বাড্ডায় একটি ফ্ল্যাট, আফতাবনগরে ৯০ লাখ টাকায় ১৪.৫০ শতক জমি কিনেছেন। আবার গাজীপুরেও নিজের নামে চার শতক জমি ও প্রায় ৭৪ লাখ ৫০ হাজার টাকায় তিনটি বিলাসবহুল গাড়ি কিনেছেন। এছাড়াও  মামলার তদন্তে মাদক ব্যবসার মাধ্যমে নামে-বেনামে অনেক অর্থের সন্ধান পাওয়া গেছে।

গোলাম ফারুককে গ্রেপ্তারের সময়ে দুইটি মাইক্রোবাস ও একটি মটরসাইকেল জব্দ করেছে সিআইডি। তার বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় একটি মাদকের মামলা, উত্তরা পূর্ব থানায় একটি অস্ত্র মামলা, চাপাইনবাবগঞ্জ সদর ও শিবগঞ্জ থানায় দুইটি মামলাসহ আরো তিনটি মামলা রয়েছে।

গত বছরের এপ্রিল মাসে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার ১২ নম্বর মানিলন্ডারিং মামলার তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি। মাদকের গডফাদার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত আসামি নুরুল হক ভুট্টো, তার বড় ভাই নুর মোহাম্মদ, বাবা এজাহার মিয়া, ১২ জন ভাগ্নে ও বিকাশের এজেন্টসহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে টেকনাফ মডেল থানায় গত বছরের ২৯ আগস্ট মামলাটি হয়।   

মোল্লা নজরুল ইসলাম বলেন, নুরুল হক ভুট্টো, নুর মোহাম্মদ ও এজাহার মিয়াকে গ্রেপ্তারের পর ওই পরিবারের অর্থনৈতিক লেনদেনের সূত্র ধরে মিরপুরের সেনপাড়া থেকে মাদকের গডফাদার আফজাল হোসেন ইমন, তার স্ত্রী সাদিয়া আফরোজ, ছেলে সালাহউদ্দিন ওরফে প্রিন্স ও বিকাশের এজেন্ট স্বপনকে, মিরপুর বিহারি ক্যাম্প থেকে অপর মাদকের স¤্রাজ্ঞী  রুপা ইসলাম ও তার স্বামী আল আমিন, তাদের সহযোগী ফয়সাল, রিয়াজ, বিকাশের এজেন্ট জনি ও কুদ্দুসকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি।

নরসিংদী থেকে মাদকের ডিলার রায়হান, মো. আসাদুজ্জামান ও স্বপন, ঢাকার কেরাণীগঞ্জ থেকে বিকাশের এজেন্ট আব্বাস, গাজীপুরের টঙ্গী থেকে মাদকের স¤্রাজ্ঞী রানী ও তার ব্যবসায়িক সহযোগী নাঈম হোসেন, ইব্রাহিম, বিকাশের এজেন্ট শাহজালাল ও নাসির উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে মুসা মিয়া, জয়পুরহাট থেকে উত্তরাঞ্চলের মাদকের গডফাদার  আবুল হোসেন ওরফে গোল্ড আবুলও গ্রেপ্তার হন।

সর্বশেষ সোমবার ও মঙ্গলবার রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় গোলাম ফারুক ও তার স্ত্রী আফরোজ আক্তার এ্যানিকে। সব মিলিয়ে মানিলন্ডারিং মামলাটিতে এ পর্যন্ত ৩৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি।

(ঢাকাটাইমস/২৭ নভেম্বর/এএ/এআর)

সংবাদটি শেয়ার করুন

অপরাধ ও দুর্নীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :