পাকিস্তান হাইকমিশনে চুরির ঘটনায় গ্রেপ্তার ৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৮ নভেম্বর ২০১৮, ১৬:১৩

রাজধানীর গুলশানে পাকিস্তান হাইকমিশনের কার্যালয়ে চুরির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় সেখান থেকে খোয়া যাওয়া তিনটি সিপিউ ও দুইটি ইউপিএস এবং একটি মনিটর উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মালামালসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- সজল ওরফে কালু, মোস্তফা, নিমাই বাবু, দুলাল মিয়া, জাহাঙ্গীর আলম ও সেকুল ইসলাম।
বুধবার সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানিয়েছেন গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মোস্তাক আহমেদ।এর আগে ২২ নভেম্বর গুলশানে অবস্থিত পাকিস্তান হাইকমিশনে প্রবেশ করে একটি চোরচক্র। তারা এসি, কম্পিউটারের সিপিউসহ বেশ কিছু মালামাল চুরি করে। ঘটনার পর ২৫ নভেম্বর পাকিস্তান হাইকমিশনের পক্ষ থেকে অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে গুলশান থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। সেখানে বলা হয়- চোরেরা হাইকমিশনের দেয়ালে লাগানো এসি খুলে অফিসের ভেতরে ঢুকে তিনটি কম্পিউটার সিপিইউ, চারটি ইউপিএস, একটি এসিসহ অন্যান্য জিনিসপত্র চুরি করে নিয়ে গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে ডিসি মোস্তাক আহমেদ বলেন, ২৫ নভেম্বর অভিযোগ পাওয়ার পর থানা পুলিশের পাশাপাশি ডিবি ও সিআইডির টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যায়। এরপর ওখানকার সিসিটিভি ফুটেজ দেখা যায়, প্রথমে একজন একটি এসি বের করে ভ্যান গাড়িতে তুলে নিয়ে যাচ্ছে এবং আরও দুইজন তিনটি সিপিইউ বের করে একটি সিএনজিতে করে নিয়ে যাচ্ছে। এরপর গুলশান-বনানী এলাকার প্রায় এক হাজার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহের পর সেগুলো পর্যালোচনা করে আমরা একজনের চেহারা শনাক্ত করতে পারি। তারপর সেই ছবিটি এলাকার সুইপারদের দেখালে তারা একে কালু বলে চিহ্নিত করে। তখন কালুর বাসায় গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করলে পুরো ঘটনা বেরিয়ে আসে।

পুলিশ কর্মকর্তা জানান, কালু এলাকায় বোতল কুড়াতো। পাকিস্তান হাই কমিশনের পেছনে বোতল কুড়াতে গিয়ে ভাঙা দেয়াল দেখে চুরির পরিকল্পনা করে সে। তারপর বৃহস্পতিবার (২২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় মোস্তফা ও দুলালের সহায়তায় প্রথমে এসি চুরি করে। এরপর ভবনের ভেতরে গিয়ে সিপিইউ ও ইউপিএসগুলো চুরি করে পালিয়ে যায়।

গ্রেপ্তার তিনজনের দেওয়া তথ্যমতে, যাদের কাছে এসব জিনিসপত্র বিক্রি করেছিল তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। সেখান থেকে কম্পিউটারের তিনটি সিপিইউ ও দুটি ইউপিএস উদ্ধার করা হয়। তবে চুরিকৃত এসিটি যার কাছে বিক্রি করেছিল সেটি অক্ষত পাওয়া যায়নি। কারণ সেটি ভেঙে পার্টসগুলো আলাদা করে ফেলা হয়েছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডিসি বলেন, এ এলাকায় আমরা সবসময়ই সতর্ক থাকি। এ ঘটনার পর আমরা হাইকমিশনকে দেয়াল ঠিক করতে এবং সিসিটিভি বাড়িয়ে নিরাপত্তা আরও জোরদারের পরামর্শ দিয়েছি। উদ্ধারকৃত মালামাল চেক করে দেখতে হাইকমিশন কর্তৃপক্ষকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তারা এসে দেখলে বোঝা যাবে সিপিইউগুলোতে কী ছিল।

(ঢাকাটাইমস/২৮নভেম্বর/এসএস/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :