কী জবাব দেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়?

শরীফুল হাসান
| আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০১৮, ১৩:১৭ | প্রকাশিত : ২৯ নভেম্বর ২০১৮, ১৩:১৪

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোন পথে হাঁটছে? বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রশাসন সবাই কী মানবতাবোধ হারিয়ে ফেলেছেন? তা না হলে এমন ঘটনা ঘটবে কেন? ঘটনা হলো, গত ১৪ মে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতার বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ‘যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি’ ( কোর্স নম্বর ৪০১) নামক কোর্সটির পরীক্ষা ছিল। কিন্তু আন্দোলনের কারণে ২০১৪-১৫ সেশনের শিক্ষার্থীরা ওই পরীক্ষা দিতে পারেনি। ফলে ওই কোর্সে সবাইকে অকৃতকার্য দেখানো হয়। নিয়ম অনুযায়ী এখন সবাইকে আবার পরীক্ষা দিতে হবে। কিন্তু গত ২০ নভেম্বর ডিনস কমিটির সভায় ৬১জন শিক্ষার্থীর সবাইকে জানানো হয়, পরীক্ষা দিতে হলে পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা দিয়ে পরীক্ষা দিতে হবে। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সবার কাছে বারবার ধরনা দিলেও তাদের জরিমানা মওকুফ হয়নি।

কিন্তু সেই জরিমানা দিতে না পারার অসহায়ত্বের কথা জানিয়েই প্রক্টরকে চিঠি দিয়েছেন এক ছেলে। আত্মহত্যার চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে’ এমন কথা জানিয়ে সোহেল রানা নামের ছেলেটি লিখেছে, ‘আমি সোহেল রানা। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। সপ্তম সেমিস্টারে ৪০১ নম্বর কোর্সের জন্য ডিনস-কমিটি পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। আমার বাবা হার্ট অ্যাটাকের রোগী। যার ওপর পরিবারের সবাই নির্ভরশীল। তাঁর পক্ষে এত টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। সবাই পরীক্ষা দিলেও আমি টাকার অভাবে পরীক্ষা না দিতে পারায় হতাশায় ভুগছি। হতাশা থেকে আত্মহত্যার চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে।’

এমন একটা চিঠি দেয়ার পর আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উত্তর শুনবেন? মহামান্য প্রক্টর এ কে এম গোলাম রাব্বানী বলেছেন, ‘ওই ছাত্র এগুলো সেটা মিডিয়ায় প্রচার করছে। এটা কোন ধরনের কাজ? এটা এক ধরনের অপরাধ এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’

সাংবাদিকতা বিভাগের বড় ভাই এবং প্রথম আলোয় আমার সহকর্মী মানবিক মানুষ যিনি এই নাগরিক যন্ত্রণা থেকে সরে আছেন সেই রকিবুল শিপন ভাই লিখেছেন, সোহেলের সমস্যা আদৌ কতটা গভীর, আমি জানি না। তবে এটুকু বুঝি পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা দেওয়ার সামর্থ্য নেই অনেক শিক্ষার্থীর। এখন কেউ যদি তার অসহায়ত্বের কথা জানিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে এভাবে করুণ আর্তি জানিয়ে চিঠি লিখে তাহলে তো কর্তৃপক্ষের উচিত বিষয়টি খতিয়ে দেখা। কিন্তু তার আগেই 'এটা এক ধরনের অপরাধ এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত' বলাটা কতটা যৌক্তিক? শিপন ভাইয়ের মতো আমারও প্রশ্ন, প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে পাঁচ হাজার টাকা বা জরিমানা করা হয় কীভাবে?

৬১ জনের প্রত্যেকে পাঁচ হাজার করে দিলে মোট দাঁড়ায় তিন লাখ পাঁচ হাজার টাকা? এত টাকা লাগবে কিসে? সবচেয়ে বড় কথা যে আন্দোলন নিয়ে এতকিছু, তার তো সুরাহা হয়ে গেছে। তাহলে তার জের কেন এভাবে শিক্ষার্থীদের টানতে হবে? কী জবাব দেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়?

অবাক কাণ্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও কয়েকটা বিভাগের ছেলেরা কিন্তু পরীক্ষা মিস করেছিল। তাদের কিন্তু জরিমানা ছাড়া পরীক্ষা দিতে দেয়া হয়েছে। তার মানে কী সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী বলেই তাদের এই জরিমানা? কী জবাব দেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়?

শরীফুল হাসান: সাংবাদিক

সংবাদটি শেয়ার করুন

নির্বাচিত খবর বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত