বিজ্ঞাপন দিয়ে ‘জিনের বাদশা’র কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক
 | প্রকাশিত : ২৯ নভেম্বর ২০১৮, ১৭:০৭

গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে একটি চক্র। তারা কখনো জিনের বাদশা, কখনো দয়াল বাবা সেজে প্রতারণা করে আসছিল।

বৃহস্পতিবার  সকাল সাড়ে আটটায় রাজধানীর ফার্মগেট ইন্দ্রপুরী ইন্টারন্যাশনাল হোটেল থেকে প্রতারক চক্রের মূল হোতা জুবায়ের আহমেদ সুমনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এর আগে গ্রেপ্তার হন প্রতারক জুবায়েরের তিন সহযোগী জাফর ইকবাল ওরফে কাজল, সাগর ও ছামির। গ্রেপ্তারকৃত জাফর ইকবাল ও সাগর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১১টায় সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছে সিআইডি। মালিবাগের সিআইডির সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে সিআইডি’র উপ-মহাপরিদর্শক মো. শাহ আলম বলেন, প্রতিদিন অনেক প্রতারণার ঘটনা ঘটছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের বিজ্ঞাপন দেখে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষেরা।

তিনি বলেন, ‘ঢাকার এক শিক্ষিত গৃহবধূ  প্রতারণার শিকার হয়ে প্রায় সাড়ে সাত লাখ টাকা খুইয়েছেন। আমরা এই জিন পরিচয়ধারীদের দুইভাগে ভাগ করেছি। একটি হচ্ছে টিভি জিন আর অন্যটি মোবাইল জিন। টিভি জিনদের কাছে গিয়ে নিজেরাই প্রতারিত হন। আর মোবাইল জিন ফোন করে ভিকটিমদের সঙ্গে প্রতারণা করে থাকেন।

সংবাদ সম্মেলনে জুবায়ের আহমেদ সুমন ও তার সহযোগীদের সম্পর্কে জানান সিআইডি’র সিরিয়াস ক্রাইমের বিশেষ পুলিশ সুপার সৈয়দা জান্নাত আরা।

তিনি বলেন, আসামিরা একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। তারা বিভিন্ন সময়ে জিনের বাদশা, দয়াল বাবা সেজে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান দেবেন বলে বিজ্ঞাপন তৈরি করেন। লটারি, গুপ্তধন, জটিল রোগ থেকে মুক্তি, পাওনা টাকা আদায়, দাম্পত্য কলহ নিরসন, ভালোবাসার মানুষকে বশে আনা সকল সমস্যার সমাধান করতে পারেন- এমন কথা বলে বিভিন্ন  হুজুরের ছবি ব্যবহার করে বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে বিজ্ঞাপন প্রচারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে প্রলোভন দেখিয়ে মিথ্যা আশ^াস দিয়ে টাকা আত্মসাৎ করে থাকেন।

সোহেল মোল্লা নামের এক ব্যক্তি এই প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়ে তার ৪২ লাখ ২৫ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। তাকে লটারি পাইয়ে দেবে বলে ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন মানি ট্রান্সফার, ব্যাংক ও বিভিন্ন মাধ্যমে ৪২ লাখ ২৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি।  

সৈয়দা জান্নাত আরা বলেন, সোহেল মোল্লা গত ২২ জুলাই ভোলার বোরহান উদ্দিন থানায় একটি মামলা করেন। মামলা নম্বর-২৬। ধারা ৪০৬, ৪২০ এবং ১০৯ পেনাল কোড।  মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তারকৃত সুমন জিজ্ঞাসাবাদে সিআইডিকে বলেছেন, মাসিক ২০ হাজার টাকা দিয়ে তৈয়েবুর রহমান নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন, বর্তমান দিনকাল ও চিত্র বাংলা পত্রিকায় বিজ্ঞপন প্রচার করত। ওই বিজ্ঞাপনে তারা বিভিন্ন দরবার শরিফের নাম ব্যবহার করে সকল সমস্যার সমাধান দিতে পারেন বলে প্রচার করতেন। আর এইসব বিজ্ঞাপন দেখে সাধারণ মানুষ তাদের ফোন করলে জুবায়ের ওই ব্যক্তিদের সমস্যার সমাধান করতে পারবেন বলে টাকা আত্মসাৎ করতেন।

প্রতারক জুবায়ের আহমেদ সুমনের নামে ২০১১ সালের ৫ ডিসেম্বর বোরহান উদ্দিন থানায় আরো একটি মামলা হয়েছিল। ওই মামলার নম্বর-৯। ওই মামলায় তার পাঁচ বছরের সাজা হয়। তিনি ওই মামলার সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ছিলেন।  এছাড়াও তার বিরুদ্ধে বোরহান উদ্দিন থানায় একধিক মামলা রয়েছে।

সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রুহুল আমিন ও রাজিব ফারহান এবং এসআই সিরাজ উদ্দিন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।  

(ঢাকাটাইমস/২৯নভেম্বর/এএ/এআর)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :