স্বপ্নবান তিন তরুণের হাবিব তাজকিরাজ

এম এ কোরেশী শেলু
 | প্রকাশিত : ০৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৭:১৪

বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রি নেওয়ার পর সবাই প্রথমে চাকরির কথা ভাবেন। কেউ কেউ নামেন ব্যবসায়। এক্ষেত্রে সংখ্যাটা কম। সৈয়দ রুম্মান আহমদ, কে সামি আহমদ ও এম জে কে মহি-এই তিন বন্ধু পড়াশোনা শেষে ব্যবসার কথাই ভাবছিলেন। কিন্তু গতানুগতিক কিছু নয়। অন্যরকম কিছু করতে চান তারা। চাকরিজীবী নন, উদ্যোক্তা হতে চাইলেন। একদিন আড্ডায় আড্ডায় বলে পেলেন আইডিয়া। ভাবলেন, সৌন্দর্যচর্চা বা পার্লারের যে বিশাল ব্যবসাক্ষেত্র, সেখানে নারীদের জয়-জয়কার। তরুণীরা যা পারছে, তরুণরা পারবে না কেন, এ ভাবনা মাথায় নিয়েই রুম্মান, সামি ও মহির যাত্রা। ‘নাপিতের ব্যবসা’ বলে যে অবজ্ঞা তা গায়ে মাখলেন না। যাত্রা করল বিউটি সেলুন হাবিব তাজকিরাজ। ভারতের মুম্বাই থেকে এসে এর উদ্বোধন করেন বিশ্বখ্যাত হেয়ার স্টাইলিস্ট জাভেদ হাবিব।

এসবই তিন বছর আগের কথা। চট্টগ্রাম মহানগরীর ব্যবসায়িক প্রাণকেন্দ্র জিইসি মোড়ের সবচেয়ে অভিজাত ভবন ইকুইটি সেনট্রিয়ামের এই প্রতিষ্ঠানের সুনাম এখন দেশজুড়ে। অত্যাধুনিক বিপণিবিতানটির তৃতীয় তলার ৫ হাজার স্কয়ার ফুট জায়গাজুড়ে পরিচালিত হচ্ছে হাবিব তাজকিরাজ। এখানে নারীরা সেবা নিতে পারে। সৌন্দর্যচর্চা ও চুলের কারুকাজ করিয়ে নিতে পারে পুরুষরাও।

তিন তরুণ জানালেন, শুরুতে তাদের পরিকল্পনার কথা যাদের কাছে বলেছেন, তাদের অনেকেই সেলুনের ব্যবসাকে নাপিতের ব্যবসা বলে হেয় করত। তবু তারা পেছনে ফিরে তাকাননি। ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ এ বিষয়টি তারা এড়িয়ে চলেছেন। সব মিলিয়ে যাত্রা শূন্য হাতে হলেও সাফল্য পাওয়ায় এখন সবাই প্রশংসা করছেন। চট্টগ্রামে রূপচর্চার জন্য হাবিব তাজকিরাজ এখন প্রধান প্রতিষ্ঠান হয়ে ওঠেছে। তিন তরুণ নিজেরাই শুধু প্রতিষ্ঠিত হননি, তাদের প্রতিষ্ঠানে কাজ করছে শতাধিক তরুণ-তরুণী। তাদের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেও কর্মসংস্থান হয়েছে ৫ শতাধিক মানুষ।

হাবিব তাজকিরাজ সাফল্য পেল কেন? এমন প্রশ্ন সামনে নিয়ে খোঁজ নিলে জানা গেল, দিন দিন ফ্যাশন সচেতন হচ্ছে মানুষ। নারী-পুরুষ নির্বিশেষ সবাই এখন সুন্দর, পরিপাটি আর হাল ফ্যাশনের সঙ্গে মিলিয়ে নিজেকে এগিয়ে রাখতে ব্যস্ত। পায়ের নখ থেকে শুরু করে চুলের অগ্রভাগ পর্যন্ত এখন রূপচর্চার অনুষঙ্গ। এসব ভেবে নিয়েই রূপচর্চার ইন্ডাস্ট্রিতে পা রাখে তিন তরুণ। তাই সাফল্য পায় সহজেই। রূপচর্চার বা সৌন্দর্য চর্চার সব ধরনের সেবা একই ছাদের নিচে বন্দরনগরীতে প্রথম নিয়ে এসেছে বিউটি সেলুন হাবিব তাজকিরাজ। এটি তাই এই মহানগরের অন্যতম জনপ্রিয় বিউটি এক্সপার্ট সেলুন অ্যান্ড পার্লার।

নারী, পুরুষ ও শিশুদের সেবা দিয়ে থাকে হাবিব তাজকিরাজ। এখানে মিলছে সব ধরনের হেয়ার কাট, হেয়ার স্টাইলিং, হেয়ার সেটিং, হেয়ার থেরাপি অ্যান্ড ট্রিটমেন্ট, হেয়ার কালার, স্কিন থেরাপি, ফেসিয়াল, ফেসওয়াশ, ফেয়ার পলিশ, ব্রাইড অ্যান্ড গ্রæম মেকওভার, পার্টি মেকওভার, হেড ম্যাসেজিং, বডি ম্যাসেজিং, বডি স্ক্রাব ক্লিনজিং, পারসোনাল কেয়ার, পেডিকিউর, মেনি কিউর প্রভৃতি সেবা।

যে কারণে এগিয়ে...

কয়েকটি বিষয় নিয়েই হাবিব তাজকিরাজকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করা যাবে। এখানে কাজ করছে বিশ্বমানের হেয়ার স্টাইলিস্ট ও মেকআপ আর্টিস্টরা। ভারতের মুম্বাই, থাইল্যান্ডের ব্যাংকক থেকেও এখানে কাজ করেছেন অনেক বিউটি অ্যান্ড হেয়ার এক্সপার্ট। বর্তমানে হাবিব তাজকিরাজে হেয়ার কনসালটেন্ট এবং হেয়ার স্টাইলিস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন একজন ভারতীয় হেয়ার এক্সপার্ট।

হাবিব তাজকিরাজ সব সময় বিশ্বের চলমান ফ্যাশন ট্রেন্ডকে ফলো করে নিজেদের এগিয়ে রাখেন বৈশ্বিক দিক দিয়ে। তারা ব্যবহার করে বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি এবং বিউটি ইকুইপমেন্ট। দেশের বিউটি পার্লারগুলোতে যখন হেয়ার রিভন্ডিং করে চুল সোজা করার পদ্ধতি নিয়ে কাজ করে তখন হাবিব তাজকিরাজ ‘ব্রাজিলিয়ান বেøা ড্রাই’ নামের নতুন প্রযুক্তি নিয়ে এসে সারা দেশেই চমক সৃষ্টি করেছে। হেয়ার রিভন্ডিংয়ের কোনো ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই এই ব্রাজিলিয়ান বেøা ড্রাইতে, টেনশন নেই চুল ভেঙে যাওয়া কিংবা ঝরে যাওয়ার। এই প্রতিষ্ঠানটি কখনো মানের ব্যাপারে কোনো ধরনের কম্প্রোমাইজ করে না।

ইউটিউবে বাজিমাত

হাবিব তাজকিরাজ শুধুমাত্র চট্টগ্রামের রূপচর্চার জাদুকর বললে ভুল বলা হবে। ইউটিউব চ্যানেল আর ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে তাদের জনপ্রিয়তা এখন প্রায় বিশ্বব্যাপী। হাবিব তাজকিরাজের বিভিন্ন হেয়ার স্টাইলিং ও মেকওভার ভিডিও কনটেন্ট দেখার জন্য সারা বিশ্বের ইউটিউব দর্শকরা অপেক্ষা করে থাকেন প্রায় প্রতিদিনই। হাবিব তাজকিরাজের ইউটিউব চ্যানেলের বর্তমান সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা প্রায় ২ লাখ। এছাড়া ফেসবুক পেইজের মেম্বার সংখ্যা ৫ লাখ। ইতিমধ্যে তাদের ইউটিউব চ্যানেলটিকে স্বীকৃতি দিয়ে হাবিব তাজকিরাজকে সিলভার প্লে বাটন ও ক্রেস্ট প্রদান করেছে ইউটিউব কর্তৃপক্ষ। এর পরিচালক এম জে কে মহি বলেন, ‘আমরা এই সাফল্য ধরে রাখতে আরও নতুন নতুন সৃজনশীল ভিডিও তৈরির উদ্যোগ নিয়েছি।’

আগামীর স্বপ্ন

শুরুতেই বলা হয়েছে, হাবিব তাজকিরাজের উদ্যোক্তা তিন তরুণ। বিউটি সেলুন তাদের স্বপ্নের সিঁড়ির প্রথম একটি ধাপ ছিল। প্রথম ধাপ অতিক্রম করে তারা এখন উঠছেন উপরের দিকে। এখন তারা বন্দরনগরীতে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিত। একে একে তারা নগরীতে গড়ে তুলেছেন অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠান। সাফল্যের ধারাবাহিকতায় হাবিব তাজকিরাজের সেবাও তারা সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে চান। আগামী দিনে রাজধানী ঢাকাতেও হাবিব তাজকিরাজ কার্যক্রম শুরু করবে বলে জানালেন এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে সামি আহমদ। সামি জানান, হাবিব তাজকিরাজের সেবা চট্টগ্রাম নগরীসহ সারা দেশে আরো বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে ২০২০ সালের মধ্যে এই প্রতিষ্ঠানটি নতুন চমক নিয়ে হাজির হবে।

ঢাকাটাইমস/০৫ডিসেম্বর/কেএস/টিএমএইচ

সংবাদটি শেয়ার করুন

ফিচার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত