চট্টগ্রামের সব আসন প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দিতে চাই: ডা. ফয়সল

এম এ কোরেশী শেলু
 | প্রকাশিত : ০৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৭:৩৩

ডা. ফয়সল ইকবাল চৌধুরী―চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক সম্পাদক। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) চট্টগ্রাম-এর সাধারণ সম্পাদক। স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক। ছাত্রলীগের মাধ্যমে তার রাজনীতির হাতেখড়ি। নব্বইয়ের দশকের গোড়ায় ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের দোর্দণ্ড প্রতাপের সময় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের (চমেক) ছাত্র সংসদে সহ-সভাপতি (ভিপি) হিসেবে ছাত্রলীগের বিজয়ে নেতৃত্ব দিয়ে চমক দেখান। সেই সময়ে জামায়াত-শিবিরের অনেক নিপীড়ন সহ্য করতে হয়েছে ডা. ফয়সল ইকবাল চৌধুরীকে। তবু দমে যাননি। সক্রিয় আছেন রাজনীতিতে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম-৭ আসন) থেকে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করার জন্য আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন। তিনি মনোনয়ন পাননি। তবে ঘোষণা দিয়েছেন, নৌকার প্রার্থীদের বিজয়ী করার জন্য কাজ করে যাবেন। রাঙ্গুনিয়াসহ চট্টগ্রামের সব আসন দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দেওয়ার ইচ্ছার কথা এই সময়কে জানিয়েছেন ডা. ফয়সল ইকবাল চৌধুরী। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এম এ কোরেশী শেলু

আপনি ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে যুক্ত। সেই সময়ের কথা জানতে চাই।

স্কুলজীবনে আমি বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংসদের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় ছাত্রলীগের প্যানেলে ছাত্রসংসদ নির্বাচনে অংশ নেই। কলেজ জীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িত ছিলাম। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে ভর্তির পর থেকে ছাত্রছাত্রীদের দাবি-দাওয়া নিয়ে কাজ করি। সেই সময় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত হই। নব্বইয়ের দশকের গোড়ায় ক্ষমতায় আসে বিএনপি। তখন চট্টগ্রামে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। তার মধ্যেই ছাত্রলীগের ব্যানারে আমরা ছাত্রসংসদে বিজয় অর্জন করি।

আপনাকে তো ছাত্রলীগের রাজনীতি করার কারণে তখন নির্যাতনও সহ্য করতে হয়েছে।

১৯৯২ সালে জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হই। তখনকার বিরোধীদলীয় নেতা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে দেখতে এসেছিলেন।

তখন বিএনপি সরকার তো আপনার ছাত্রত্বও বাতিল করেছিল।

১৯৯৩ সালে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে। আজীবনের জন্য আমার ছাত্রত্ব বাতিল করে। বিএনপি সরকারের রোষানলে পড়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার পরামর্শে আমি দেড় বছর ভারতে অবস্থান করি। পরে দেশে ফিরে এলে আমাকে প্রায় দেড় বছর জেলহাজতে থাকতে হয়। ১৯৯৬ সালের অক্টোবর মাসে কারামুক্তি লাভ করি। জননেত্রী শেখ হাসিনার সহায়তায় উচ্চ আদালতের নির্দেশে ছাত্রত্ব ফিরে পাই। ১৯৯৭ সালে এমবিবিএস পাস করি।

আন্দোলন-সংগ্রামে সব সময়ই আপনি সামনের সারিতে ছিলেন। কোন ঘটনা বেশি মনে পড়ে?

১৯৯৭ সালে খালেদা জিয়া দলীয় ক্যাডারদের নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেলে এসে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন। এ সময় মাহফুজ নামে আমাদের একজন সহকর্মী নিহত হন। এর প্রতিবাদে আমার নেতৃত্বে খালেদা জিয়াকে সারা দিন মেডিকেলের ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখি।

এবার তো রাঙ্গুনিয়া থেকে আপনি জাতীয় সংসদ নির্বাচন করতে চেয়েছিলেন।

আমি রাঙ্গুনিয়ার সন্তান। এলাকাবাসীর ভালোমন্দে সব সময়ই পাশে আছি। অন্যদিকে দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয়। নৌকা প্রতীক ছাড়া অন্য কিছু ভাবতে পারি না, পারবও না। এই প্রতীকেই নির্বাচন করতে চেয়েছিলাম। আমি বলব, এটাও ছিল দলীয় প্রচারের অংশ। মনোনয়ন পাইনি বলে দল থেকে দূরে সরে যাব, তা নয়। আমি আগেই বলেছিলাম, দল যাকে মনোনয়ন দেবে, আমরা তার পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব।

নির্বাচনে আপনার ভূমিকা কী থাকবে?

২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে আমি রাঙ্গুনিয়ার পাঁচটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনি প্রচারণার দায়িত্বে ছিলাম। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমি আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন ফরম কিনেছিলাম। দলীয় মনোনয়ন পাইনি। এরপরই আমি ফেসবুকে আহŸান জানিয়েছি, সবাই যাতে দলীয় সভানেত্রীর মনোনীত প্রার্থীকে নৌকা প্রতীকে ভোট দেয়। রাঙ্গুনিয়াসহ চট্টগ্রামের সব আসন দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দিতে চাই আমরা।

আপনাকে ধন্যবাদ।

আপনাকে এবং ঢাকাটাইমস পরিবারের সবাইকে শুভেচ্ছা।

ঢাকাটাইমস/০৫ডিসেম্বর/কেএস/টিএমএইচ

সংবাদটি শেয়ার করুন

সাক্ষাৎকার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত