মাদকাসক্ত ‘ভয়ঙ্কর বাবা’

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
 | প্রকাশিত : ০৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ২০:৩০

নিজের আড়াই বছরের শিশুকে হত্যা এবং সাড়ে তিন বছর বয়সী সন্তানকে জিম্মি করার অভিযোগ বাবার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি শোনার পর অবিশ্বাস্য ঠেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে। কিন্তু শিশুর জীবন নিয়ে তো হেলা করা যায় না। মুহূর্তে ছুটে আসে তারা।

র‌্যাব, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের যৌথ দল ছয় ঘণ্টা ধরে চেষ্টা করে শিশুটিকে উদ্ধারে। এত সময় লাগার কারণ, দা হাতে বাবার রণমূর্তি। পাশে ছেলে। তার আবার ক্ষতি করে কি না, ঝুঁকি নিচ্ছিল না পুলিশ। নানা কৌশলে তাকে শান্ত করার চেষ্টা চলতে থাকে। এক পর্যায়ে তাকে আনা যায় বাগে।
ঘটনাটি ঘটেছে আজ বুধবার। রাজধানীর বাংলামোটর এলাকায়। আটক হওয়া বাবার নাম নুরুজ্জামান কাজল।

কাজলের দাবি, তার আড়াই বছর বয়সী সন্তান নুর সাফায়েতের মৃত্যুর কারণ বিদ্যুতের স্পর্শ। তবে বিশ্বাস করছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মৃত্যুর কারণ জানতে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে হাসপাতালে।

শিশুটির অন্য স্বজনরা জানান, কাজল মাদকসেবী। তার আচরণে পরিবারের অন্য সদস্যরা ছিলেন বিরক্ত। স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে ওই বাসার দোতলায় থাকতেন কাজল। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে মাস খানেক আগে কামরাঙ্গীরচরে বাবার চলে যান স্ত্রী পিয়া আক্তার।

কাজলের ভাই নুরুল হুদা উজ্জ্বল জানান, সকাল সাড়ে সাতটার দিকে কাজল বাসা থেকে বের হয়ে পাশে থাকা মাদ্রাসায় গিয়ে জানান, তার ছোট ছেলে নূর সাফায়েত মারা গেছে। এটা যেন মাইকে ঘোষণা করা হয়। তারপর মাদ্রাসার ছাত্রদের পবিত্র কোরআন খতম দেওয়ার জন্য নিয়ে যেতে চান।
এ কথা শোনার পর আবদুল গাফফার নামে একজন খাদেম মাদ্রাসা থেকে কাজলের সঙ্গে যান। ভেতরে গিয়ে দেখেন, বাচ্চাটাকে কাফনের কাপড় পরিয়ে টেবিলে আটকা।
কাজলের বড় বোন রোকেয়া বেগমের তথ্য মতে এর পেছনে অর্থকরির বিষয় আছে। ঢাকা টাইমসকে তিনি জানান, তার বাবা মনু মেম্বার অঢেল সম্পত্তির মালিক ছিলেন। তিনি দুটি বিয়ে করেন। দুই সংসারে ছেলে মেয়ে সাত জন। কাজল তার বাবার রেখে যাওয়া বাড়িতে থাকতেন। আয়বর্ধক কিছু করতেন না, ছিলেন মাদকাসক্ত।

সম্প্রতি মাদকের একটি মামলায় কাজলকে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। পরে তার স্ত্রী জামিন করিয়ে বের করে আনেন। কিন্তু মুক্ত হয়ে অত্যাচার শুরু করেন স্ত্রীর ওপর। পরে তিনি বাড়ি ছেড়ে যেতে বাধ্য হন। স্ত্রী চলে গেলে দুই ছেলে  সুরায়েত ও নুর সাফায়েতকে সঙ্গে নিয়ে থাকতেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা অঞ্চলের উপকমিশনার মারুফ হোসেন সরদার বলেন, “এক বাবা দুটি শিশুকে জিম্মি করে রেখেছেন শুনে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। তাকে আমরা বলি, ‘আপনাকে আমরা সহযোগিতা করতে এসেছি’।”

“তিনি (কাজল) রাগ হয়ে বলেন, ‘আমার কোনো সহযোগিতা লাগবে না, আপনারা কেন এসেছেন?’।”
‘তখন আমরা আরো ধৈর্য ধরি। মাইকে অ্যানাউন্স করি, একটি বাচ্চা মারা গেছে, জানাজা হবে। আর কাজলকে বলি আপনার ছেলের জানাজার জন্য লোকজন এসেছে, আপনি বের হয়ে আসেন। এ সময় সিঁড়িতে কয়েকজন অবস্থান নেয়। এই কথা বলার পর তিনি হাতের দা রেখে অন্য বাচ্চাকে সঙ্গে নিয়ে তিনি বের হয়ে আসেন। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ তাকে ধরে ফেলে।’  

বাচ্চাটা কীভাবে মারা গেল?- এমন প্রশ্নে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। ময়নাতদন্তের পর তা জানা যাবে। তবে বাবা দাবি করেছেন, বিদ্যুৎস্পর্শে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।’

ঢাকাটাইমস/০৫ডিসেম্বর/এএ/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত