ভিকারুননিসার শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিতে সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে: শিক্ষাসচিব

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
 | প্রকাশিত : ০৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৮:১৯
ফাইল ছবি

শিক্ষার্থীদের অনশন না করার আহবান জানিয়ে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বর্তমান অবস্থা সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি বলে দাবি করেছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব সোহরাব হোসাইন।

রবিবার সচিবালয়ে একটি অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
সচিব বলেন, ‘দেশে নির্বাচন প্রস্তুতি চলছে। কোনো অবস্থাতেই যেন এমন কিছু না হয়, যেন শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হয়, সে চেষ্টা করছি। প্রত্যেকের মর্যাদা যেন সমুন্নত থাকে, সেজন্য মন্ত্রণালয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। এরপর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি যেন ভালো চলে, শিক্ষার্থীরা যেন প্রকৃত শিক্ষা পায়, সেজন্য সকল প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।’

পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গণমাধ্যম ও অভিভাবকদেরও সহায়তা চান সোহরাব হোসাইন।
পাকিস্তানি আমলের নাম পরিবর্তন নিয়ে অভিভাবক-শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে সচিব বলেন, ‘আমরা অনেকগুলো পদক্ষেপ নেব। যতোগুলো প্রশ্ন এসেছে, যতোগুলো অভিযোগ এসেছে, ইতোমধ্যে আদালত একটা কমিটি করে দিয়েছেন, আমরাও কমিটি করেছি। আমরাও পরিদর্শন করবো, বিভিন্নভাবে চেষ্টা করবো।’

তিনি বলেন, সকাল থেকে এ বিষয় নিয়ে বসেছিলাম, যেন প্রতিষ্ঠানটি ভালোভাবে চলে, শিক্ষকরা-অভিভাবকেরা সন্তুষ্ট থাকে, যেন শিক্ষকরা মর্যাদাবান থাকেন। শিক্ষার্থীরা যেন প্রকৃত নাগরিক হয়ে গড়ে উঠতে পারে, সেজন্য আমাদের সব প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবো।’
সচিব বলেন, যেসব অভিযোগ অভিভাবকেরা করছেন, শিক্ষার্থীরা করছেন, আপনারা করছেন, সেগুলো থেকে মুক্ত হতে আমরা এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছি এবং আরও নিতে থাকবো, যেন একটা আদর্শ প্রতিষ্ঠান হয়। সেখানকার কমিটি কীভাবে কার্যকর থাকবে, শিক্ষকরা কীভাবে পরিচালিত হবেন, অভিভাবকেরা তাদের সন্তানদের মঙ্গল চিন্তা করবেন, শিক্ষার্থীরা কীভাবে ভালো থাকতে পারবে, ভালো ফলাফল করে ভালো মানুষ হবে- আমরা এরকম কিছু উদ্যোগ নেওয়া শুরু করেছি।’

একজন শিক্ষকের প্রেপ্তারের পর তার মুক্তির দাবিতে ফের আন্দোলনে নামার বিষয়ে সচিব বলেন, ‘প্রত্যেকেরই আদালতে যাওয়ার অধিকার আছে। যিনি প্রেপ্তার হয়েছেন তিনিও আদালতে বক্তব্য রাখতে পারেন। আদালত সিদ্ধান্ত দেবেন। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে পারবো না, কথাও বলতে পারবো না।’

প্রভাবশালীদের শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে সচিব বলেন, ‘আপনাদের নিশ্চিত করে বলতে পারি, আমি, আমার মন্ত্রী বা আমার বিভাগের এমনকি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) সম্পর্কেও বলতে পারি, আমি কখনও কোনো ভর্তির তদবিরও করিনি, চাকরি তো দূরের কথা। একজনও যদি বলতে পারেন যে আমি বা আমার মন্ত্রীর একজন যে কেউ ভর্তি হয়েছে, চাকরি তো অনেক বিরাট ব্যাপার, সে জায়গায় তো আমরা যাই না। আমার মনে হয়, কেউই বলতে পারবে না আমরা একজনকে ভর্তি করিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘শিক্ষক নিয়োগ আমরা করি না, এটি একটি প্রাইভেট স্কুল, সেখানে একটা ম্যানেজিং কমিটি আছে। তারা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেন, তারাই সে কাজটি করেন। কিন্তু এখন যে প্রশ্নগুলো আসছে, ওটা নিয়ে আমরা কাজ করছি। পরিপূর্ণ কন্ট্রোলটা আমাদের নেই। কিন্তু আমরা সেটি নিশ্চিত করতে তাদের সেভাবে অনুরোধ করবো বা আমাদের কার্যক্রমগুলো মেনে সেভাবে করতে পারে সে পথটা আমরা করে দেব, যেন নিরপেক্ষভাবে যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ হয়।’

‘সেখানকার শিক্ষকদের সঙ্গে কী আচরণ হবে, অভিভাবকের সঙ্গে কী আচরণ হবে, সাংবাদিকদের সঙ্গে কী আচরণ হবে- এগুলো আমাদের উন্নত করতে হবে, সেজন্য আমরা বিভিন্ন প্রক্রিয়া নিচ্ছি। কীভাবে, কোন প্রক্রিয়ায় গেলে তারা নিয়ম-কানুন মানতে বাধ্য থাকেন এবং নিয়ম-কানুন অনুযায়ী পরিচালিত হয় সেজন্য আমরা ওয়ার্ক আউট করছি। ’

(ঢাকাটাইমস/৯ডিসেম্বর/এমএম/এআর)

সংবাদটি শেয়ার করুন

শিক্ষা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত