মনোনয়নের যোগ্যতা কী, প্রশ্ন তৈমূরের

আতাউর রহমান সানী, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিবেদক
 | প্রকাশিত : ১১ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৯:০০

কী করলে দলের মনোনয়ন পাওয়া যায়, খুঁজে মরছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তৈমূর আলম খন্দকার। বলেছেন, বিএনপিতে তার মতো ত্যাগী নেতা পাওয়া কঠিন। তার পরও মনোনয়বঞ্চনা কেন, সেটা বুঝতে পারছেন না।

সোমবার সকালে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের রূপসী এলাকায় বিএনপি আয়োজিত উঠান বৈঠকে অংশ নেন তৈমূর।

এই উপজেলা নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-১ সংসদীয় আসনটিতে বিএনপি এবার বেছে নিয়েছে দলের আরেক নেতা কাজী মনিরুজ্জামান মনিরকে। এখানে মনোনয়ন চেয়ে আগাম প্রচারে ছিলেন তৈমূরও। পেয়েছিলেন মনোনয়নের চিঠিও। তবে দলীয় সিদ্ধান্তে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন।

বিএনপি নেতা বলেন, ‘আবারও প্রমাণিত হলো দলের জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম, কারাবরণÑসবকিছু মনোনয়ন পাওয়ার যোগ্যতা নয়। যতবার দলের জন্য জেল খেটেছি ততবার বিএনপির আর কোনো নেতা কারাবরণ করেছেন কি না তা খুঁজে পাওয়া যাবে না।’

২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হয়েও দলের সিদ্ধান্তে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হন তৈমূর। সেই বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। বলেন, ‘ভোট শুরু হওয়ার মাত্র আট ঘণ্টা আগে আমাকে নির্বাচন থেকে সরে যেতে বলা হলো। আমি বিনা বাক্যব্যয়ে রাত ১২টায় নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালাম। আমার কাছে দল বড়। বরাবরই আমি দলের কথা চিন্তা করে সব ধরনের ত্যাগ স্বীকার করে আসছি।’

ভোট শেষে বিষয়টি নিয়ে আরও কথা বলবেন বলেও জানান তৈমূর। বলেন, ‘এখন আমি এ নিয়ে কোনো কথাই বলব না, আমি মুখ খুলব ৩০ ডিসেম্বরের পর। দলের চেয়ারপারসনকে জেল থেকে বের করাই আমাদের লক্ষ্য।’

হতাশ হলেও দলের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে যাওয়ার ঘোষণাও দেন বিএনপি নেতা। বলেন, ‘এত কিছুর পর আমি দলীয় প্রার্থীর পক্ষেই সবাইকে কাজ করতে বলেছি। কারণ, এখন আমাদের একমাত্র লক্ষ্য বেগম খালেদা জিয়াকে জেল থেকে বের করে আনা। এ জন্য প্রয়োজন নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীদের বিজয়। তাই আমি বিএনপির সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে অনুরোধ করব, সবকিছু ভুলে গিয়ে একাট্টা হয়ে দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করে আনুন।’

গত শনিবার বিকেলে তৈমূরকে বাদ দিয়ে মনিরকে প্রার্থী ঘোষণার পর বিক্ষোভ হয়েছে রূপগঞ্জে। সমর্থকেরা বলছেন, দলের জন্য তিনি বহুবার করাবরণ করেছেন। তার এক ভাইকে খুন করা হয়েছে। এই আসনটি তার প্রাপ্য ছিল।

এই আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী করেছে বর্তমান সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজীকে। ২০০৮ ও ২০১৪ সালে দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। এবার টানা তিনবার জয়ের রেকর্ড গড়তে চান তিনি। এ জন্য চলছে প্রচার-প্রচারণাও।

ধানের শীষের মনোনয়ন পাওয়া মনিরও আসনটি নিজের করে নিতে আশাবাদী। বলেন, ‘দল থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। জনগণের ভোটের মাধ্যমে এ আসনটি ছিনিয়ে আনব।’

এরশাদ সরকারের পতনের পর অংশগ্রহণমূলক চারটি নির্বাচনের মধ্যে ১৯৯১ ও ২০০১ সালে বিএনপি এবং ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালে জয় পায় আওয়ামী লীগ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত