ব্রেক্সিট নিয়ে তোপের মুখে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

ইউরোপ ব্যুরো, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১১ ডিসেম্বর ২০১৮, ২০:০৫

যুক্তরাজ্য চাইলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য অন্যান্য দেশের অনুমতি ছাড়াই ব্রেক্সিট বাতিল করতে পারবে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে’র ব্রেক্সিট প্রস্তাব নিয়ে পার্লামেন্টে ভোটাভুটির আগে ইউরোপিয়ান কোর্ট অব জাস্টিস (ইসিজে) এ রায় দিল।

ইসিজের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বিচ্ছেদ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত বা আনুষ্ঠানিকভাবে ইইউ ছাড়ার ঘোষণা দেয়ার পর নির্ধারিত দুই বছর সময় অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত সদস্যভুক্ত দেশগুলো ইইউ ত্যাগের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের ক্ষমতা রাখে।

এমনকি যদি দুই বছর সময় শেষ হয়ে যায় এবং তারপরও অতিরিক্ত সময়েও সদস্য দেশ তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারবে।’

বিবিসি জানায়, এর আগে যুক্তরাজ্যের ব্রেক্সিটবিরোধী রাজনীতিবিদরা দেশটির একতরফাভাবে ব্রেক্সিট স্থগিতের ক্ষমতা থাকা উচিত বলে মত প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু তখন যুক্তরাজ্য সরকার এবং ইইউ ওই মতের বিরোধিতা করেছিল। গত সপ্তাহে ইসিজের অ্যাডভোকেট জেনারেল বেক্সিট বিষয়ে যুক্তরাজ্যের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের ক্ষমতা থাকা উচিত বলে মত দিয়েছিলেন। যদিও তার মত মেনে চলার আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। কিন্তু সাধারণত দেখা যায়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ইসিজে তার মত অনুসরণ করে। সোমবারের রায়েও ইসিজে একই ধারা অব্যাহত রাখল। ইইউর সদস্য হিসেবে যুক্তরাজ্য এখন যেসব শর্তাবলী মেনে চলছে ওইসব শর্ত মেনেই তারা থেকে যেতে পারবে বলেও জানিয়েছে আদালত। অর্থাৎ, দেশটিকে ইউরোপের একক মুদ্রা ইউরো গ্রহণ বা ভিসামুক্ত অঞ্চল শেনজেনে অন্তর্ভুক্ত হতে বাধ্য করা হবে না। তবে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যকে অবশ্যই তাদের নিজ দেশের ‘গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ’ করতে হবে। অর্থাৎ, ইইউতে থেকে যেতে হলে যুক্তরাজ্য সরকারকে পার্লামেন্টের অনুমতি নিতে হবে।

মঙ্গলবার রাতে পার্লামেন্টে মে’র ব্রেক্সিট চুক্তির উপর ভোট হওয়ার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টি ওই চুক্তির বিপক্ষে ভোট দেয়ার হুমকি দিয়েছে। এমনকি মে’র দল কনজারভেটিভ পার্টির কয়েকজন এমপিও চুক্তির বিপক্ষে ভোট দেয়ার কথা জানিয়েছেন। যদিও মে পাল্টা হুমকি দিয়ে বলেছেন, হয় তার চুক্তিতে ইইউ’র সঙ্গে বিচ্ছেদ হবে অথবা কোনো চুক্তি ছাড়াই বিচ্ছেদ হবে। তিনি ইইউ’র সঙ্গে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দিয়েছেন।

রায় ঘোষণা প্রসঙ্গে ইউরোপীয় আদালত ইসিজে জানায়, ‘এমপিদের সামনে বিকল্প কী সুযোগ আছে সে সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দিতেই’ এ রায় দেয়া হয়েছে।

ব্রেক্সিট বিরোধীদের আশা, এর মাধ্যমে চলমান বিচ্ছেদ প্রক্রিয়ার কাজ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যাবে এবং প্রয়োজনে দ্বিতীয় গণভোটের আয়োজন হবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে ব্রিটেনের বের হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া ব্রেক্সিট নিয়ে ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। খোদ ব্রিটিশ ক্ষমতাসীন দল কনজার্ভেটিভ পার্টির মন্ত্রীরাই দেশটির প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র পরিকল্পনার সাথে দ্বিমত পোষণ করছেন। এতে ব্রেক্সিটের জন্য আরেকটি গণভোট এখন সময়ের দাবি বলে কনজার্ভেটিভ মন্ত্রীরা মনে করেন।

ব্রেক্সিট নিয়ে বিভক্ত হয়ে যাচ্ছেন ক্ষমতাসীন কনজার্ভেটিভ পার্টি মন্ত্রীরা। কেউ কেউ সরকারের উপদেষ্টাদের বোঝানোর চেষ্টা করছেন যেন, মে’র পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে আরো বেশি সময় নেয়া হয়। সম্প্রতি পার্লামেন্টের আস্থা অর্জন না করা এই পরিকল্পনার ওপর আবারো ভোটাভোটির আগে আরেকটি গণভোট দেয়াই একমাত্র উপায় বলে অনেক মন্ত্রী মনে করেন।

প্রসঙ্গত, আগামী বৃহস্পতিবার দেশটির পার্লামেন্টে ব্রেক্সিট চুক্তির ওপর ভোটাভোটি হবে। এবারও মে’র প্রস্তাবনা ব্যর্থ হলে সরকার পতনেরও আশঙ্কা রয়েছে বলে কনজার্ভেটিভ পাটির গুরুত্বপূর্ণ নেতারা ধারণা করছেন।

(ঢাকাটাইমস/১১ডিসেম্বর/সিকে/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত