হোপের সেঞ্চুরিতে আশাহত বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৩:২২ | প্রকাশিত : ১১ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:২৬

জমজমাট এক লড়াই। শেষ দিকে তো টি-টোয়েন্টির উত্তেজনা। কারা জিতবে কারা হারবে, ম্যাচজুড়ে এই প্রশ্ন বজায় থাকার পর অবশেষে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইটা জিতে নিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শাই হোপের হার না মানা তুখোড় সেঞ্চুরির কাছে (১৪৬ রান, ১৪৪ বলে) বাংলাদেশকে হারতে হয়েছে ৪ উইকেটে। তিন ম্যাচের সিরিজ ১-১ এ সমতায় আসায় শেষ ওয়ানডে হয়ে ওঠলো ফাইনাল। ১৪ ডিসেম্বর সিলেটে হবে শেষ ম্যাচটি।

প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৭ উইকটে ২৫৫ রান করেছিল স্বাগতিকরা। সারা ম্যাচে উত্তেজনার পর মাত্র ২ বল বাকি থাকতে ৬ উইকেটে হারিয়ে জয় তুলে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা জঘন্য ছিল টাইগারদের। কোনো রান না করেই ফিরে যান ইমরুল কায়েস। তার আগে ৫ রানের মাথায় আহত হয়ে মাঠ ছাড়তে হয় ওপেনার লিটন কুমার দাসকে। ক্যারিবিয়ান গতিময় পেসার ওশান টমাসের একটি ইয়র্কার ফ্লিক করতে চেয়েছিলেন, খেলতে পারেননি ঠিকমত। বল গিয়ে লাগে ডান পায়ের গোড়ালির একটু ওপরে। কোনো রকমে একটি রান নিয়ে আরেকপ্রান্তে গিয়েই শুয়ে পড়েন তিনি।

মাঠে ফিজিও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পরও সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছিলেন না লিটন। মাঠ ছাড়েন  স্ট্রেচারে করে। এরপর নেওয়া হয় হাসপাতালে।  তবে চোট গুরুতর নয় বলে পরে ব্যাট করেছেন লিটন।

গত ম্যাচে রান পাননি তামিম। এ ম্যাচে দায়িত্ব যে কারণে আরো বেশি। আগের ম্যাচের জয়ের অন্যতম নায়ক মুশফিকের সঙ্গে তামিমের জুটিটাও বেশ জমে ওঠলো। ১১১ রানের পার্টনারশিপ। ৬৩ বলে  ঠিক ৫০ করে আউট হন তামিম। ওয়ানডেতে এটা তার ৪৪তম হাফসেঞ্চুরি।

তামিমের পরপরই ৮০ বলে ৬২ রানের লড়াকু ইনিংস খেলে ড্রেসিংরুমে ফেরেন মুশফিকুর রহিম। সাকিব-মাহমুদউল্লাহ জুটি ধীরে সুস্থে খেলতে থাকেন। উইকেটে সেট হতে বেশ সময় নেন, বিশেষ করে রিয়াদ।  এ ম্যাচে যে তিনি বড় কিছু করতে পারবেন না, সেটা বুঝা গিয়েছিল শুরুতেই। তারপরেও সাকিবের সঙ্গে তার ৬১ রানের জুটিকে গুরুত্বপূর্ণই বলতে হবে। পরপর দুুই উইকেট হারিয়ে যে চাপ ভর করছিল, সেটা দূর হয় এ জুটির কারণেই। রিয়াদ করেন ৩০ রান, ৫১ বলে।

ওদিকে ৫৪ বলে ক্যারিয়ারের ৪০তম হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন সাকিব আল হাসান। হাফ সেঞ্চুরির পর হাতখুলে খেলছিলেন সাকিব। কিন্তু যেতে পারেননি বেশিদূর। ৬২ বলে ৬৫ করে বিদায় নিতে হয়েছে সাকিবকে। সাত নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ৬ বলে আউট হন সৌম্য। ৫ রান করার পর আহত হয়ে মাঠ ছাড়া লিটন শেষ দিকে ব্যাট করতে নামলেও  আর মাত্র ৩ রান যোগ করে করতে পারেন। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের স্কোর থামে ৭ উইকেটে ২৫৫ রানে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে ৫৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন।

২৫৬ রানের টার্গেন নিয়ে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৩ রানে স্পিনার মিরাজ বিদায় করেন ওপেনার চন্দপল হেমরাজকে। এরপর শাই হোপ ও ড্যারেন ব্রাভো মিলে প্রতিরাধ গড়ে তুলেন। চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ান তারা। ৬৫ রানের জুটি গড়ার পর ড্যারেন ব্রাভোকে ২৭ রানে বিদায় করে স্বস্তি এনে দেন রুবেল হোসেন।

কিন্তু এই স্বস্তি মিলিয়ে যেতে থাকে শাই হোপ ও মারলন স্যামুয়েলসের দৃঢ়তার কারণে। শাই হোপকে থামানো না গেলেও স্যামুয়েলসকে ২৬ রানে বিদায় করেন পেসার মুস্তাফিজ। এরপর রুবেল ১৪ রানে হেটমেয়ারকে, পাওয়েলকে ১ রানে মাশরাফি এবং চেজকে ৯ রানে মুস্তরাফিজ বিদায় করলে ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ।

৩৯ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান ১৮৫। ৬৬ বলে তাদের দরকার ৭৪ রান। কঠিন সমীকারণ সফরকারীদের জন্য। তখনও অবশ্য চিন্তার কারণ ছিলেন দুর্দান্ত খেলতে থাকা শাই হোপ। ১১৮ বলে ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেন হোপ। সেঞ্চুরির পর পাওয়েলকে নিয়ে এগিয়ে যেতে থাকেন হোপ। ২৪ বলে দরকার ৩৫ রান। এরপর ১৮ বলে ৩২।

৫০ ওভারের ম্যাচে টি-টোয়েন্টির উত্তেজনা। শেষ দুই ওভারে ২২ দরকার সফরকারীদের। ৪৯তম ওভারে মুস্তাফিজ ১৬ রান দিলে শেষ ওভারে দরকার পড়ে মাত্র ৬ রান। বল তুলে দেওয়া হয় অনিয়মিত বোলার রিয়াদের হাতে। লাভ হয়নি। দুই বল হাতে রেখেই জয়ে পৌঁছে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১৪৪ বলে ১২ চার ও তিন ছক্কায় ১৪৬ রান করে অপরাজিত থাকেন শাই হোপ। পাওয়েল অপরাজিত থাকেন ১৮ রানে।

(ঢাকাটাইমস/১১ ডিসেম্বর/ডিএইচ)

 

 

 

 

 

 

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

খেলাধুলা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত