দুই আ.লীগ নেতা হত্যা

যুবদল নেতা, বিএনপি কর্মীসহ আটক ১৭

ফরিদপুর ও নোয়াখালী প্রতিবেদক
| আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:৫৩ | প্রকাশিত : ১২ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৯:১২
হামলায় নিহত ইউসুফ আল-মামুনের প্রতি এলজিআরডি মন্ত্রীর শ্রদ্ধা

নির্বাচনী প্রচারের মধ্যে নোয়াখালীতে যুবলীগ নেতাকে হত্যার ঘটনায় নোয়াখালীতে যুবদলের ছয় নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। ফরিদপুরে আওয়ামী লীগ নেতা হত্যার ঘটনাতেও বিএনপির ১১ জন কর্মীকে আটক করা হয়েছে।
এই হত্যার ঘটনায় দুটি নির্বাচনী এলাকাতেই উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে নতুন করে কোনো সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি।

মঙ্গলবার রাতে ফরিদপুর সদর আসনে আওয়ামী লীগ নেতা ইউসুফ আল-মামুনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। আর নোয়াখালীতে মাথা থেঁতলে এবং গুলি করে হত্যা করা হয় যুবলীগ নেতা মো. হানিফকে। দুটি ঘটনাতেই অভিযোগ উঠেছে বিএনপির বিরুদ্ধে এবং মামলাও হয়েছে দলটির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে।

নির্বাচনী প্রচার চলাচালে এই হত্যা এবং মামলার কারণে বিএনপির বহু নেতা-কর্মী আত্মগোপনে গেছেন এবং তাদের প্রচারে প্রভাব পড়েছে এতে।

ঢাকায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, এই ঘটনায় দায়ীদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, কারা হত্যা করেছে, সে বিষয়ে তাদের কাছে যথেষ্ট তথ্য প্রমাণ রয়েছে।

নোয়াখালীতে আটক যারা

বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে সুবর্ণচর উপজেলা যুবদলের সভাপতি নিজাম উদ্দিন ফারুক, সাংগঠনিক সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল, চরজুবলী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মোহাম্মদ আলী, সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুর রহিম রিজবরি বাবা নুরুজ্জামান, এওজবালিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহজাহানের দুই ভাই আবু নাছের ও মহি উদ্দিন।

সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।’

বুধবার বিকালে ওই ইউনিয়নের দক্ষিণ শুল্লকিয়া গ্রামে নিহত হানিফের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জানাজায় নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর উপজেলা) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী একরামুল করিম চৌধুরী, নোয়াখালী শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ পিন্টু, নোয়াখালী পৌর মেয়র শহিদ উল্যাহ খান সোহেলসহ শত শত মুসল্লি অংশ নেন।

আগের দিন নোয়াখালী সদর উপজেলার এওজবালিয়া ইউনিয়নের নুর পাটোয়ারি হাটে বিএনপির মিছিল থেকে হামলা হয় মো. হানিফের ওপর।

ফরিদপুরে আটক ১১

মঙ্গলবার রাতে হত্যার পর পর ফরিদপুর কোতয়ালি থানায় নিহত ইউসুফ আল মামুনের ভাই সোহরাব বেপারী ৪০ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও অনেককে আসামি করে মামলা করেন। রাতেই অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত আসামি বিএনপি কর্মী কাশেম বেপারীসহ ১১ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

ফরিদপুর কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ এফ এম নাসিম বলেন, ‘কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’

ইউসুফ আল-মামুন নর্থ চ্যানেল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক ছিলেন। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন ওই ইউনিয়নের সাত নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি লালন ফকিরও। তিনি ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।  

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলা সদরের নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের গোলডাঙ্গি চৌরাস্তার মোড় এলাকায় চায়ের দোকানে ইউসুফ আল-মামুনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

নর্থ চ্যানেল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জমিরউদ্দিন বলেন, ‘ইউসুফের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দা মজিদ একই এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয় একটি চায়ের দোকানে আড্ডার সময় দুই জনের মধ্যে বিতর্কের জেরে এ ঘটনা ঘটে।’
গতকাল বাদ জোহর পদ্মারচর মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে ইউসুফ আল-মামুনের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনসহ আওয়ামী লীগ নেতারা অংশ নেন। পরে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :