আফরোজা আব্বাসের প্রচারে বাধা

নিজস্ব প্রতিবেদক
 | প্রকাশিত : ১২ ডিসেম্বর ২০১৮, ২০:১১

ঢাকা-৯ আসনে বিএনপির প্রার্থী আফরোজা আব্বাসের নির্বাচনী প্রচারে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা এই ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে অভিযোগ আছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ থাকলেও তারা এ সময় নীরব ভূমিকায় ছিল।

পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী গতকাল সকাল ১০ টায় ঢাকা-৯ আসনের বিএনপির প্রার্থী আফরোজা আব্বাসের সবুজখান থানার মায়ায়াকননে নির্বাচনী প্রচারণার কথা ছিল। কিন্তু আগে থেকেই সেখানে অবস্থান নিয়ে থাকেন ছাত্রলীগ, যুবলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগের  শতাধিক নেতা-কর্মী। তাদের কারণে বিএনপির নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয় যায়।

কিছুক্ষণ পর বৌদ্ধমন্দির এলাকায় উপস্থিত হয়ে লিফলেট বিতরণ শুরু করেন আফরোজা। কিন্তু আবার বাধার মুখে পড়েন। ছাত্রলীগ যুবলীগের নেতা-কর্মীরা তাকে ঘিরে দাঁড়িয়ে থাকে। এই পর্যায়ে বিএনপির প্রার্থী অন্য পাশ দিয়ে যেতে চাইলে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ‘নৌকা’ ‘নৌকা’ স্লোগান দিতে থাকে।

আফরোজা আসার আগে পুলিশ সদস্যরা ছিলেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের পাশে। কিন্তু বিএনপির প্রার্থী আসার পর তারা চলে যান।

বিএনপির নেতা-কর্মীরা গাড়িতে উঠতে গেলে ছাত্রলীগ ও মহিলা লীগের কিছু নেতা-কর্মীরা আফরোজা আব্বাস ও তার কর্মীদের উপর হামলা করে। এ সময় বিএনপির মহিলা দলের কর্মীকে কিল ঘুষি দেন। এ সময় পুলিশের কিছু সদস্য এগিয়ে এসে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সরিয়ে নেয়।

বিএনপির নেতাকর্মীরা ডামুড্ডা এলাকায় প্রচার চালাতে শুরু করলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সেখানেও বাধা সৃষ্টি করে।

বিএনপির প্রার্থীর ব্যক্তিগত সহকারী নাসির অভিযোগ করেন, প্রতিটি ঘটনাতেই ছাত্রলীগ এবং যুবলীগের নেতা-কর্মীরা ঘটিয়েছে। এ সময় তাদের নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি কয়েকজন সাংবাদিকও আহত হয়েছেন।

তবে সবুজবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল কুদ্দুস ফকির বলেন, ‘হামলার কোনো ঘটনা ঘঠে নাই। সেখানে বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণার সময় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে বাক বিতন্ডা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাদের সরিয়ে নেয়।

আফরোজার স্বামী মির্জা আব্বাস ভোটে লড়ছেন ঢাকা-৮ আসন থেকে। তিনি গতকাল বেলা ১১টায় জনসংযোগে নামেন মতিঝিলের জনতা ব্যাংক, হোটেল পূর্বানী সংলগ্ন এলাকায়।

আব্বাস বলেন, ‘আজ সকালে পরপর কয়েকবার আমার স্ত্রী আফরোজা আব্বাসের প্রচারণায় পরপর কয়েকবার হামলা হয়েছে। উনি কিন্তু যুদ্ধ করতে যাননি। আমিও যুদ্ধ করতে নামিনি। আমরা ভোটারদের মন জয় করতে নেমেছি। ভোটারদের ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করতে নেমেছি।’

হত্যার জন্য হামলা: আফরোজা

সন্ধ্যায় রাজধানীর শাজাহানপুরের নিজ বাসায় সংবাদ সম্মেলনে আফরোজা অভিযোগ করেন, তাকে হত্যার জন্যই এই হামলা করা হয়েছিল। বলেন, ‘কমলাপুর হাইস্কুলের সামনে নির্বাচনী প্রচারণা চালাব বলে গতকালই প্রশাসনকে লিখিত জানিয়েছিলাম। সেই অনুযায়ী সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে প্রচারণা শুরু করলে ছাত্রলীগ আমাদের উপর হামলা চালায়।’

‘তারা ধারালো অস্ত্র, লাঠি সোটা নিয়ে আমি এবং আমার সামনে থাকা কর্মীদের উপর আক্রমণ করে। এসময় একাত্তর টেলিভিশন ও সময় টেলিভিশনের ক্যামেরা ভাঙচুর করে। আমাকে তারা প্রাণে মেরে ফেলার চেষ্টা করেছিল। আমাকে বাঁচাতে গিয়ে আমার ড্রাইভার রশীদ মারাত্মকভাবে আহত হয়। রশীদের পায়ের রানে কোপ লাগে। তিনি এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।’

‘মহিলা দলের কর্মী শিলাকে মেরে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে, নখ উপড়ে ফেলেছে। মহিলা দলের কর্মী জোহরা আক্তার জুঁই, সেলিনা আক্তার, আসমা আজিজ, নাসিমা আনোয়ার, শাহেরা আলী, পারভীন, ফারিয়ার জামা-কাপড় ধরে টেনে- হিঁচড়ে, লাঞ্চিত ও শারীরিকভাবে আহত করে। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত