নৌকায় ভোট দিয়ে উপযুক্ত জবাব দিন: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
 | প্রকাশিত : ১২ ডিসেম্বর ২০১৮, ২০:৪২

নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে বিএনপি-জামায়াত জোটকে উপযুক্ত জবাব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেছেন, যারা স্বাধীনতাবিরোধীদের দোসর, যারা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করে, তারা ক্ষমতায় ফিরলে দেশ আবার পিছিয়ে যাবে।

বুধবার বিকালে গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়ায় শেখ লুৎফর রহমান সরকারি কলেজ মাঠে প্রথম নির্বাচনী জনসভায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। এর মাধ্যমে তার আনুষ্ঠানিক ভোটের প্রচার শুরু হলো।

প্রধানমন্ত্রী নিজে এই আসনের প্রার্থী। তিনি বরাবর এখান থেকে বিপুল ভোটে জিতে আসেন। এবারও অন্যথা হবে, এমন কোনো আভাস নেই।
এই জনসভায় যোগ দিতে সকালে ঢাকা থেকে সড়ক পথে গোপালগঞ্জের পথে রওয়ানা হন প্রধানমন্ত্রী। দুপুরে টুঙ্গিপাড়ায় পৌঁছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ফাতেহাপাঠ ও মোনাজাতে অংশ নেন।

দুপুরের পর বঙ্গবন্ধু কন্যা যোগ দেন জনসভায়। আর তাকে দেখতে ঢল নামে জনতার। তিনি জনসভাস্থলে পৌঁছালে হাজার হাজার নারী পুরুষ তুমুল করতালি দিয়ে স্বাগত জানায়।

জনসভার মাঠ ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। মাঠের বাইরে উপজেলা শহরের প্রায় চার কিলোমিটার ছিল জন¯্রােত।
মঞ্চের আকর্ষণ ছিল চিত্র নায়ক রিয়াজ ও ফেরদৌস। সাদা পাঞ্জাবির উপর কালো মুজিব কোট পড়ে দুজনই নিজেদের অভিনয় দিয়ে যাদেরকে বিনোদন দিয়েছেন তাদের কাছে নৌকায় ভোট চেয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা ওই মুক্তিযুদ্ধবিরোধী, যুদ্ধাপরাধী, যুদ্ধাপরাধের দায়ে যাদের সাজা হয়েছে, তাদের দোসরদের নির্বাচনে প্রার্থী করেছে, তাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে স্বাধীনতা বিরোধী, স্বাধীনতার শত্রু, গণহত্যা পরিচালনাকারী, অগ্নিসন্ত্রাসকারী, মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করে যারা নির্বাচনের মাঠে নেমেছে, তাদেরকে উপযুক্ত জবাব আপনাদের দিতে হবে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে।’

‘উন্নয়নের জন্য মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় নৌকা মার্কায় ভোট দিন। যাকে যেখানে প্রার্থী করেছি, সেখানে নৌকা মার্কায় ভোট দিতে আহ্বান জানাচ্ছি।’

আগামী নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ প্রধান বলেন, ‘আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছি। জাতির পিতার হত্যাকারীদের বিচার করেছি। বাংলাদেশ আজকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এগিয়ে যাচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে।’

‘২০২১ সালে আমরা যখন স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করব। সেই সময় যেন ওই স্বাধীনতাবিরোধী, অগ্নিসন্ত্রাসকারী, খুনি, রাজাকার তারা যেন ক্ষমতায় না আসে। তাহলে তারা দেশকে ধ্বংস করে দেবে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করে দেবে। আবার এদেশ ক্ষুধার্ত হবে, অশিক্ষিত হবে, মানুষের ভাগ্য বিপর্যয় ঘটবে।’

১৯৮৬ সাল থেকেই এই নির্বাচনী আসনে ভোট করে আসছেন শেখ হাসিনা। ভোটাররা কখনো নিরাশ করেননি। তবে ভোট চাইতে আর আসার সুযোগ নাও হতে পারে, এটা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সমস্ত বাংলাদেশের তিনশ আসন আমাকে দেখতে হয়। আমি আপনাদের কাছে দায়িত্ব দিয়ে গেলাম। আপনারা আমার আপনজন হিসেবে ঘরে ঘরে গিয়ে নৌকায় ভোট চাইবেন। আবারো নির্বাচিত করবেন।’

নৌকায় ভোট দিয়ে কেউ বঞ্চিত হয় না উল্লেখ করে জাতির জনকের কন্যা বলেন, ‘আপনাদের অধিকারের জন্য অনেক কিছু করে দিয়েছি। শিক্ষাদীক্ষায়, কর্মসংস্থান সব দিক থেকে আপনারা এগিয়ে গেছেন।’

মঞ্চে বসে বক্তৃতা ছাড়া বাকি সময়টায় শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা একান্তে বিভিন্ন স্মৃতিচারণ করতে দেখা গেছে। জনসভায় বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানাকে উপস্থিত জনগণের উদ্দেশ্যে কিছু বলার জন্য বার বার অনুরোধ জানালেও তিনি বক্তব্য রাখেননি। বলেন, ‘আমার হয়ে আমার বড় বোন সারাদেশে বলে যাচ্ছেন। আমার আর কিছু বলার নেই।’

কোটালিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুভাষ চন্দ্র জয়ধরের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এসএম হুমায়ুন কবিরের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ফারুক খান, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম প্রমুখ। সভামঞ্চে বঙ্গবন্ধুর ভাতিজা শেখ হেলাল ও শেখ জুয়েল উপস্থিত থাকলেও তারা কোন বক্তৃতা করেননি।

দেশ পরিচালনায় ভবিষ্যত পরিকল্পনাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘আমার গ্রাম আমার শহর হিসেবে গড়ে ওঠবে। প্রতিটি ঘর হবে আলোকিত। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া হবে।’

‘মর্যাদাপূর্ণ দেশ নিয়ে আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী, জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী পালন করব। এই সুবর্ণজয়ন্তী হবে দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ। একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না, কেউ না খেয়ে থাকবে না। এটাই আমার লক্ষ্য। আমার চাওয়া জাতির জনকের সোনার বাংলা গড়ে তোলা।’
পথে পথে নৌকার সমর্থকদের শুভেচ্ছা

প্রধানমন্ত্রী সকাল আটটায় গণভবন থেকে বের হয়ে ঢাকা-মাওয়া হয়ে সড়ক পথে টুঙ্গিপাড়ায় পৌঁছান। যাত্রাপথে বিভিন্ন স্থানে নেতাকর্মীরা শেখ হাসিনাকে দেখার জন্য দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাদের হাতে ছিল নৌকা ও দলীয় সভাপদিতর ছবি।
শেখ হাসিনাও গাড়ির ভেতর থেকে নেতাকর্মীদের হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান।

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :