মায়ের মন গলাতে ‘আলসে’ শেখ হাসিনার ‘হাঙ্গার স্ট্রাইক’

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:৫৬

শৈশবে মায়ের কাছ থেকে দাবি আদায়ে না খেয়ে তাকে চাপে রাখার কৌশলের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জানিয়েছেন পরিবারের বড় মেয়ে হিসেবে ছিলেন আহ্লাদী, আলসে।

গত ২৩ নভেম্বর তরুণদের সঙ্গে মত বিনিময় অনুষ্ঠান ‘লেটস টক উইথ শেখ হাসিনা’তে কথা বলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা। গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) আয়োজিত অনুষ্ঠানে সারাদেশ থেকে শিক্ষার্থী, উদ্যোক্তা, তরুণ পেশাজীবী, অ্যাথলেটস, খেলোয়াড়, সাংস্কৃতিক কর্মীসহ দেড়শর জনের মতো তরুণ অংশ নেন। বৃহস্পতিবার এই অনুষ্ঠানটি বেসরকারি টেলিভিশনে প্রচার হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একদিন মা হঠাৎ করে বললেন মিটিংয়ে যেতে পারবে না। আর মা যদি একটা কথা বলতেন তা অমান্য করে কিছু করা আমাদের সাধ্যে ছিলো না। মা দরজাও লাগাতেন না, গেটও লাগাতেন না। কিছু করতেন না। শুধু বলতেন যেতে পারেব না। আর আমাদের সেই শিক্ষা ছিলো, মা বললে শুনতে হবে। ’

‘কিন্তু প্রতিবাদও ত করতে হবে। সুতরাং হাঙ্গার স্ট্রাইক। নাস্তা খাব না ভাত খাব না, কিচ্ছু খাবো না। বসে বসে ভ্যা ভ্যা করে কান্না।’

দাদা বাড়িতে থাকলে সুবিধা হতো শেখ হাসিনার। বলেন, “তিনি থাকা অবস্থায় এমন হলো, খুব জরুরি মিটিং, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাকে যেতেই হবে। মা বললেন, 'না আজকে বের হতে পারবে না।' দাদা শুধু ডেকে মাকে বললেন, 'দেখ, আমিত কোনদিন আমার ছেলেকে মানা করিনি। আমিতো কোনদিন নিষেধ করিনি। তো তুমি নিষেধ করছ কেন? ও যেতে চায়, যেতে দাও’।”

‘আমার মা আবার মুরুব্বিদের কথা খুব মেনে চলতেন। দাদা বলেছেন। মা আর কিছু বললেন না। যাও, দাদাকে পেয়েছো এখন যাও।’

ছিলেন আদুরে, আলসে

বাবা-মায়ের সংসারের আদুর ছিলেন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসলে বাড়ির বড় মেয়ে ছিলাম। আলসেও ছিলাম খুব। এমনও অনেক দিন গেছে, না খেয়ে ঘুমিয়ে যেতাম। আব্বা এসে ঘুম ভাঙিয়ে ভাত মাখিয়ে মুখে তুলে দিতেন।’

‘আমার খুব বদ অভ্যাস ছিলো বসে গল্পের বই পড়া আর গান শোনার। তখন মা এক কাপ চা বানিয়ে এনে দিতেন। নিজে খুব একটা বেশি কাজ করতাম না, আলসে ছিলাম এটা ঠিক। আর সেখান থেকে এমন একটা অবস্থায় পড়ে গেলাম, যে ঘর ঝাড়ু দেয়া থেকে শুরু করে সবকিছু নিজেদের করতে হতো, করতাম।’

তরুণদের যে পরামর্শ

ব্যক্তিগত চাওয়া পাওয়ার হিসেব না করে দেশ ও মানুষকে ভালোবেসে দেশের জন্য কাজ করতে তরুণদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

‘দেশকে ভালোবাসতে হবে। মানুষকে ভালোবাসতে হবে। ব্যক্তিগতভাবে কী পেলাম না পেলাম আমি দেশের জন্য কতটুকু দিতে পারলাম, মানুষের জন্য কতটা দিতে পারলাম তা ভাবতে হবে।’

 ‘পরশ্রীকাতরতা থেকে বের হয়ে এসে নিজেকে বলতে হবে, আমি পারি। আমি আমার মত করেই ভালো করব। কেউ দ্রুত উপরে উঠে গেলো দেখে আমাকে একটা অশুভ প্রতিযোগিতা করতে হবে সেটা ঠিক নয়। ’

সেই সাথে দেশ প্রেম এবং মানুষের প্রতি ভালবাসা থাকতে হবে। আমরা যদি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসি হই তাহলে একটি মানুষও অবহেলিত থাকবে না।’

‘আর সব সময় একটা আত্মবিশ্বাস নিয়ে চললে দেশকে কিছু দিতে পারবে, নিজেও জীবনে কিছু করতে পারবে। হতাশ হওয়ার সুযোগ নেই। জীবনে অনেক ঝড় ঝাপ্টা আসবে। কিন্তু ইচ্ছা শক্তি প্রবল থাকলে যে কোন বাধা অতিক্রম করা যায়। ’

‘একটা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে যদি কেউ এগিয়ে যায়। তাহলে কোন বাধাই বাধা বলে মনে হবে না। দেশকে এতদূর নিয়ে আসতে পেরেছি তার প্রধান কারণ এই ইচ্ছা শক্তি। জাতির জনক বলে গেছেন, মহৎ অর্জনের জন্য মহান ত্যাগের প্রয়োজন। ত্যাগের মধ্যে দিয়েই অর্জন করা যায়। আর সৎ থাকতে হবে।’

ঢাকাটাইমস/১৩ডিসেম্বর/টিএ/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত