মানিকগঞ্জে দুই পক্ষে হামলা পাল্টা হামলা

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:৪৩ | প্রকাশিত : ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:৩০

মানিকগঞ্জ-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী মঈনুল ইসলাম খান শান্তর গাড়ি বহরে হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসময় বিএনপির প্রার্থীর বহরে থাকা কয়েকটি মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ি ভাঙচুর হয়। আহত হয়েছেন বিএনপির ১০-১২ জন সমর্থক। এর জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করেছে বিএনপি। এদিকে পাল্টা অভিযোগ করে আওয়ামী লীগ বলছে বিএনপির প্রার্থীর সমর্থকরা আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ক্যাম্পে হামলা করে মুক্তিযোদ্ধা সংসদে আগুন দিয়েছে।

শুক্রবার বিকালে সিঙ্গাইর পৌরসভা এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে কয়েকদিন ধরে নির্বাচনী প্রচারণা ও গণসংযোগ করে আসছেন মানিকগঞ্জ-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মঈনুল ইসলাম খান। এর পরপরই তাঁর নির্বাচনী প্রচারণায় বিভিন্নভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে আসছিলেন বিপক্ষের নেতা-কর্মীরা। এ বিষয়ে অভিযোগ জানাতে আজ বিকাল পাঁচটার দিকে ১০-১২টি মোটরসাইকেল ও চার-পাঁচটি জিপ-প্রাইভেটকারে দলীয় নেতা-কর্মী নিয়ে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান বিএনপির প্রার্থী। বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে বের হয়ে মোটরসাইকেল ও গাড়ির বহর নিয়ে সিঙ্গাইরে বাজারে যাচ্ছিলেন মঈনুল ইসলাম খান। বহরটি সিঙ্গাইর পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে গেলে সেখানে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা লাঠিসোটা নিয়ে ওই বহরে হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা সাত-আটটি মোটরসাইকেল ও দুটি গাড়ি ভাঙচুর করেন। পরে বিএনপির প্রার্থীসহ তাঁর সমর্থকেরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যান।

মঈনুল ইসলাম অভিযোগ করেন, প্রতীক বরাদ্দের পর নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দিচ্ছেন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মী। নির্বাচনী বিভিন্ন এলাকায় তাঁর কর্মী ও সমর্থকদের ওপর হামলা ও মারধর করা হচ্ছে। বিষয়টি সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাকে অবহিত করে বের হলেই আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা তাঁর বহরে হামলা চালায়। এই হামলার বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে থানায় জানানো হয়। তবে ঘটনাস্থল থেকে থানা খুব কাছে হলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে আসেনি।


হামলায় আহতদের মধ্যে নয়জনের পরিচয় জানিয়েছে বিএনপি। তাঁরা হলেন, রবিন হোসেন, আজিজুল হক, মো. রাসেল, জাহাঙ্গীর হোসেন, কাউসার হোসেন, আমিনুর রহমান, মো. মুন্না, উজ্জল হোসেন ও আতিক হোসেন। এরা সবাই ছাত্রদলের কর্মী।

এই ঘটনার পর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের চেয়ার ও টেবিল ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় বিএনপি ও আওয়ামী লীগ একে অপরের বিরুদ্ধে জড়িত থাকার অভিযোগ করেছেন।

এ বিষয়ে সিঙ্গাইর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহিদুর রহমান বলেন, শুক্রবার পৌর এলাকায় শতাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা করেন বিএনপির প্রার্থী। এ সময় সিঙ্গাইর পৌরসভা কার্যালয়ের কাছে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ক্যাম্পে হামলা চালায় বিএনপির প্রার্থীর লোকজন। এর পর মুক্তিযোদ্ধা সংসদে ভাঙচুর করেন বিএনপির প্রার্থীর বহরে থাকা লোকজন।

সিঙ্গাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার ইমাম হোসেন বলেন, খবর পেয়ে হামলাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। পরে নিরাপত্তা দিয়ে মঈনুল ইসলাম খানকে তাঁর চারিগ্রামের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। তিনি বলেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ঢাকাটাইমস/১৪ডিসেম্বর/ইএস

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত