কমে এসেছে সহিংসতা

ঢাকা টাইমস ডেস্ক
 | প্রকাশিত : ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৩:৫৪
‍বৃহস্পতিবার ১৪ দলের প্রার্থী ফজলে হোসেন বাদশা তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনুকে বুকে টেনে নেন

নির্বাচনী সহিংসতা একেবারে বন্ধ হয়নি। তবে আগের দুই দিনের তুলনায় কমে এসেছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে। বৃহস্পতিবার দেশের বিভিন্ন এলাকায় নানা ঘটনা ঘটলেও বড় কোনো ধরনের অভিযোগ আসেনি। আর ছুটির দিনে আগের পাঁচ দিনের তুলনায় বেশি প্রচারও হয়েছে।

আবার যেসব ঘটনা ঘটেছে, তাতে দুই পক্ষই আক্রান্ত হয়েছে প্রতিপক্ষের দ্বারা। কোথাও আওয়ামী লীগ, কোথাও বিএনপির কর্মীরা আক্রান্ত হয়েছেন। একই এলাকায় আবার দুই পক্ষের আক্রান্ত হওয়ার কথাও জানা গেছে।

সিঙ্গাইরে দুই পক্ষের সহিংসতা

মানিকগঞ্জ-২ (সিঙ্গাইর, হরিরামপুর ও জেলা সদরের তিনটি ইউনিয়ন) আসনের বিএনপির প্রার্থী মঈনুল ইসলাম খান শান্তর গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে বহরে থাকা সাত-আটটি মোটরসাইকেল ও দুটি ব্যক্তিগত গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।

বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটার দিকে ১০-১২টি মোটরসাইকেল ও চার-পাঁচটি জিপ ও প্রাইভেটকারে দলীয় নেতা-কর্মী নিয়ে প্রচারে যাচ্ছিলেন। এ সময় হামলাকারীরা সাত-আটটি মোটরসাইকেল ও দুটি গাড়ি ভাঙচুর করে। পরে বিএনপির প্রার্থীসহ তার সমর্থকেরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যান।

এদিকে এই ঘটনার পর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের চেয়ার ও টেবিল ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় বিএনপির নেতা-কর্মীরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সিঙ্গাইর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহিদুর রহমান বলেন, শুক্রবার পৌর এলাকায় শতাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা করেন বিএনপির প্রার্থী। এ সময় সিঙ্গাইর পৌরসভা কার্যালয়ের কাছে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ক্যাম্পে হামলা চালায় বিএনপির প্রার্থীর লোকজন। এরপর মুক্তিযোদ্ধা সংসদে বিএনপির প্রার্থীর বহরে থাকা লোকজন ভাঙচুর করেন।

সিঙ্গাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার ইমাম হোসেন বলেন, খবর পেয়ে হামলাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। পরে নিরাপত্তা দিয়ে মঈনুল ইসলাম খানকে তার চারিগ্রামের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
আ.লীগের উপজেলা চেয়ারম্যানের ওপর হামলা

নড়াইল-১ আসনে কালিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের নেতা খান শামীম রহমানসহ পাঁচজনের ওপর হামলা হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় কালিয়া উপজেলার খাশিয়াল বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে আছেন খাশিয়াল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান খান রাসেল সুইট।
শামীমের অভিযোগ, প্রচার চলাকালে বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকেরা অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তার মাথা কেটে গেছে। নড়াগাতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলমগীর কবির বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
 

কুমিল্লায় মারামারি

কুমিল্লা-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী কে এম মুজিবুল হকের প্রচারে হামলার অভিযোগ করেছে বিএনপি। সোয়া পাঁচটার দিকে মুরাদনগর থানার সামনে সমর্থকদের নিয়ে এলাকায় ঢোকার সময় রাস্তার দুই পাশ থেকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। দাবি করেন, এতে আহত হয় অন্তত ১০ জন।

এ সময় মজিবুলের সমর্থকরা পাল্টা ধাওয়া দিলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। বিএনপির প্রার্থীর অভিযোগ, এই ঘটনা ঘটিয়েছেন নৌকার প্রার্থী ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুনের সমর্থকরা। তবে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা অবশ্য বলছেন, তাদের দলের কেউ এটায় জড়িত নয়। বিএনপি সহানুভূতি আদায়ে এই ঘটনা ঘটিয়েছে।

শরীয়তপুর-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ অপুর নির্বাচনী ও উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর ও নয় হাজার পোস্টার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আগুন

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ভুলতা ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড হাটাব জেলেপাড়া এলাকায় আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার ভোরে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবিসহ মালপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

আওয়ামী লীগের নেতা আবু দাউদ মোল্লার অভিযোগ, বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে আগুন দেওয়ার পাশাপাশি ৩০টি চেয়ার চুরি করে নিয়েছে।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন মোল্লা বলেন, ‘বিএনপি-জায়ামাত আবারও জ্বালাও-পোড়াও শুরু করেছে। নিজেদের কোনো অবস্থান না থাকায় রাতের আঁধারে চুরি করে এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :