ভোটের প্রচার জমেনি বিএনপির

বোরহান উদ্দিন ও এম গোলাম মোস্তফা
 | প্রকাশিত : ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৭:৪১
বগুড়ায় নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জমজমাট প্রচারের মধ্যেও তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির দুই জোটের প্রার্থীদের সে রকম প্রচার চোখে পড়ছে না বহু নির্বাচনী এলাকায়। রাজধানীতেও সেভাবে মাঠে নামেনি বিএনপি এবং তার শরিকরা। এমনকি পোস্টার, ব্যানারও সেভাবে চোখে পড়ছে না।

অবশ্য এই চিত্র সারা দেশের নয়। ঠাকুরগাঁও-১ ও বগুড়া-৬ আসনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, কুমিল্লা-১ আসনে খন্দকার মোশাররফ হোসেন, লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, খুলনা-৩ আসনে রফিকুল ইসলাম বকুল, কক্সবাজার-১ আসনে হাসিনা আহমেদ, সিরাজগঞ্জ-৬ আসনে এম এ মুহিতের পক্ষে বড় ধরনের মিছিলের ছবিও এসেছে সামাজিক মাধ্যমে।

তবে উল্টো চিত্র ভোলা-৩ আসনে। দলের প্রার্থী হাফিজউদ্দিন আহমেদ এখানো এলাকাতেই যাননি। বরগুনা-২ আসনে খন্দকার মাহবুব হোসেন এলাকায় গেছেন সবে দুই দিন হলো।

ঢাকা-১০ আসনে আবদুল মান্নান, ঢাকা-১২ আসনে সাইফুল আলম নীরব, আসনে ঢাকা-১৭ আসনে আন্দালিব রহমান পার্থ এখানো প্রচারে নামেননি। রাজধানীতে বাকি আসনগুলোতেও এক-দুই দিন মাত্র প্রচার চোখে পড়েছে প্রার্থীদের।

বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের অভিযোগ, সরকারি দলের লোকজন তাদের প্রচারে বাধা দেওয়ায় ঠিকভাবে প্রচারণা চালাতে পারছেন না। তাদের অভিযোগ আছে প্রশাসনের বিরুদ্ধেও। প্রশাসনের সদস্যরা বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের গ্রেপ্তার করার পাশাপাশি ভয়ভীতি দেখাচ্ছে বলে দাবি তাদের।

দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করা বিএনপির এবার ভোটে আসার সিদ্ধান্ত এসেছে তফসিল ঘোষণার পর। আর দলটি শুরু থেকেই উদ্বিগ্ন ছিল তাদের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে নাশকতার মামলার বিষয়টি।

দশম সংসদ নির্বাচন ঠেকানো আর ২০১৫ সালে সরকার পতনের আন্দোলন ছাড়াও সম্প্রতি নানা অভিযোগে কয়েক শ মামলা হয়েছে। আর এই আসামিদের বহু জনের বিরুদ্ধে আছে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। কারাগারেও আছে কয়েক হাজার।

তফসিল ঘোষণার পর প্রার্থিতা জমা পড়ার পর এলাকায় ফিরেও কয়েক শ নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার হয়েছেন আর এই গ্রেপ্তার এড়িয়ে প্রচারের বিষয়টিতেই গুরুত্ব দিতে হচ্ছে বিএনপিকে। এ কারণেই আওয়ামী লীগের মতো মিছিল-সমাবেশের বদলে তারা চোখের আড়ালে ভোটারদের কাছে পৌঁছার চেষ্টা করছেন।

কেবল দলীয় কর্মী নয়, একাধিক প্রার্থীও আছেন যারা মামলার আসামি এবং রয়েছে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। এরই মধ্যে প্রচার চালাতে এলাকায় গিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন গাজীপুর-৫ আসনের ফজলুল হক মিলন। প্রার্থিতা চূড়ান্ত হওয়ার আগেই কারাগারে যান নরসিংদী-১ আসনের খায়রুল কবির খোকন, মাগুরা-১ আসনের মনোয়ার হোসেন। কুমিল্লা-১০ আসনের মনিরুল হক চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৯ আসনের শাহাদাত হোসেনও নাশকতার মামলায় আগে থেকেই কারাগারে।

ঢাকার চিত্র

রাজধানীর ১৫টি আসনে বিএনপি ও জোটের প্রার্থীদের মধ্যে বেশির ভাগই নবীন এবং স্বল্প পরিচিত। দলের মধ্যে তাদের প্রভাবও স্পষ্ট নয়। তারা ভোটের মাঠে নেই বললেই চলে। তবে বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতা মির্জা আব্বাস, তার স্ত্রী আফরোজা আব্বাস, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালামের কর্মী সমর্থক আছে বহু। কিন্তু তারাও সেখাবে মাঠে নামেনি। এমনকি প্রার্থীদের পক্ষে সেভাবে চোখে পড়ছে না পোস্টার, লিফলেটও।

ঢাকা-৮ আসনে মির্জা আব্বাস, ঢাকা-৯ এ তার স্ত্রী আফরোজা আব্বাস এক দিন স্বল্প পরিসরে প্রচার চালিয়েছেন একদিন মাত্র। বুধবার আফরোজার গাড়িতে হামলার পর তিনি আর বের হননি।

ঢাকা-১০ আসনের প্রার্থী আবদুল মান্নান ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘আমার কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। বাসা থেকে তুলে নেওয়া হচ্ছে। পোস্টার লাগালে ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। ধানমন্ডি-৩ ও ২৮ নম্বর রোডে পোস্টার লাগানোর সময় চারজনকে আটক করা হয়েছে। এভাবে চললে কীভাবে কাজ করব।’

তবে ঢাকার অন্য প্রার্থীদের থেকে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থায় আছেন ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী শামীম আর বেগম। তার প্রচারণা দলের সদস্য জাহিদ হোসেন ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘আমরা শুরু থেকে প্রচার চালাচ্ছি। পোস্টারও লাগানো হয়েছে। মোটামুটি চলছে, সমস্যা খুব বেশি নয়।’

ঢাকা-১৩ আসনে আবদুস সালাম প্রথম প্রচারে নামেন গতকাল। জাপান গার্ডেন সিটি এলাকায় তিনি জুমার নামাজের পর নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রচারণা চালান।

ঢাকা-১৪ আসনে সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিক সাজু দলের সাবেক সংসদ সদস্য এস এ খালেকের ছেলে। নির্বাচনী এলাকায় পিতার প্রভাব থাকলেও এখনো বড় ধরনের কোনো শোডাউন করতে পারেননি সাজু। তবে তারও অভিযোগ পুলিশ ও আওয়ামী লীগের বাধার কারণে মাঠে নামতে পারছেন না।

ঢাকা-১৫ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুর রহমান। ওই এলাকায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলোর সঙ্গে তার পরিচয় নেই বললেই চলে। তারও কোনো প্রচারণা দৃশ্যমান নেই।

ঢাকা-১৮ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী দেওয়া হয়েছে শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপনকে। তিনি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক দল জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডির। ওই এলাকায় অপরিচিত এই প্রার্থীর পক্ষে বৃহস্পতিবার প্রচারণা শুরু করলেও সেখানে বাধার মুখে পড়ে ফিরে আসতে হয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের।

মফস্বলের পরিস্থিতি

দিনাজপুরে সংবাদকর্মী সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, তার এলাকায় বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের প্রচারের কৌশলটা ভিন্ন। আওয়ামী লীগের পক্ষে মিছিল, সমাবেশ, পোস্টার সাঁটানো, নির্বাচনী ক্যাম্প স্থাপন এবং মাইকিং করছে। অন্যদিকে বিএনপির নেতাকর্মীরা এসব না করে মূলত বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাইছেন।

ময়মনসিংহ বিভাগের ১১টি আসনেও অন্যান্য এলাকার মতো বিএনপির প্রচারণা চলছে ঢিলেঢালাভাবে। প্রার্থীরা এলাকায় থাকলেও খুব একটা মাঠে নামছেন না। নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রার্থীরা মাঝে মাঝে ভোট চাইছেন ভোটারদের কাছে। এর বাইরে তেমন নির্বাচনী কার্যক্রম নেই বিএনপির।

তবে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের পক্ষে জোরালোভাবে শুরু থেকেই নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চলছে। নিয়মিত মিছিল-সমাবেশ, পোস্টার সাঁটানো হচ্ছে।

চট্টগ্রাম ব্যুরোপ্রধান হাশেম তালুকদার জানিয়েছেন, এখানকার ১৬টি আসনের বেশির ভাগ জায়গায় বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা খুব একটা লক্ষ করা যাচ্ছে না। তবে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আব্দুল্লাহ আল নোমানসহ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা নিজ নিজ আসনের বাইরেও ভোটারদের কাছে ধানের শীষে ভোট চাইছেন।

বিএনপির প্রায় সব প্রার্থীর অভিযোগ সরকারি দলের বাইরেও প্রশাসনের লোকজন তাদের বাধা দিচ্ছে। নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করায় ঠিকভাবে মাঠে নামতে পারছেন না।

চট্টগ্রাম-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী নুরুল আমিনের দাবি তার আসনে কমপক্ষে ৪০ জন নেতাকমীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

চট্টগ্রাম-২ আসনের প্রার্থী আজিমুল্লাহ বাহার স্বল্প পরিসরে শুরু থেকে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে তারও অভিযোগ কর্মীদের পুলিশ হয়রানি করায় ঠিকভাবে নির্বাচনী কাজ করতে পারছেন না।

চট্টগ্রাম-৩ আসনের প্রার্থী মোস্তফা কামাল পাশাও উন্মুক্তভাবে প্রচারণা চালাতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছেন।

তবে অন্যান্য আসন থেকে চট্টগ্রাম-৫ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মোহাম্মদ ইবরাহীম ভালো অবস্থানে আছেন। এ আসনে পুরোদমেই প্রচার চালাচ্ছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা।

চট্টগ্রাম-৭ আসনে আওয়ামী লীগের হাছান মাহমুদের বিপরীতে এলডিপির নুরুল আলম সেভাবে দাঁড়াতেই পারছেন না। প্রচার-প্রচারণায় সরকারি দলের নেতাকর্মীদের বাধায় তিনি নামতে পারছেন না বলে দাবি এই প্রার্থীর।

কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে আবদুল মালেক রতন এখনো এলাকায় যাননি। কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনে আনোয়ারুল আজিম এলাকায় আসা-যাওয়া করলেও প্রচারে নেই।

কুমিল্লা-১০ (লাঙ্গলকোট, লালমাই, সদর দক্ষিণ) আসনে মনিরুল হক চৌধুরী কারাগারে থাকায় তার মেয়ে সায়মা ফেরদৌস সামাজিক মাধ্যমে প্রচার চালালেও মাঠে নেই।

কুমিল্লা-১১ আসনে জামায়াতের সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের পলাতক। তার পক্ষে প্রকাশ্যে প্রচার নেই।

বাকি আসনগুলোর মধ্যে কুমিল্লা-১, ২, ৩ ও ৬ আসনে পুরোদমে প্রচার চোখে পড়ে বিএনপির।

নরসিংদীর ৫টি আসনের একটি আসনে বিএনপির প্রার্থী জেলে। অন্য চারটির মধ্যে একটিতে সমানতালে চলছে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের প্রার্থীর প্রচারণা।

আমাদের রাজশাহী ব্যুরোপ্রধান রিমন রহমান জানান, জেলার ছয়টি আসনের প্রতিটিতেই পুরোদমে প্রচার চলছে দুই দলের। ছোটখাটো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া তেমন কোনো অভিযোগও এখানে নেই প্রার্থীদের।

সাতক্ষীরার চারটি আসনের মধ্যে ১ ও ৩ আসনে বিএনপির পক্ষে প্রচার চোখে পড়লেও সেটা জোরালো নয়। আর সাতক্ষীরা-২ আসনে মাইকিং থাকলেও ৪ আসনে প্রকাশ্য প্রচারণাও নেই। এই দুই আসনে জোটের হয়ে লড়ছে জামায়াতে ইসলামী।

আমাদের নরসিংদী প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান রিপন জানান, নরসিংদী-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী খায়রুল কবির খোকন কারাগারে থাকায় তার স্ত্রী শিরিন সুলতানা বৃহস্পতিবার থেকে অল্প পরিসরে প্রচারণা শুরু করেছেন।

নরসিংদী-২ আসনে বিএনপির আব্দুল মঈন খান অল্প পরিসরে প্রচারণা চালালেও পাশের আসন নরসিংদী-৩ এর প্রার্থী মঞ্জুর ই এলাহী এবং নৌকার প্রার্থী জহিরুল হক ভুঁইয়া মোহন প্রচারণা চালাচ্ছেন। এখানে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সিরাজ মোল্লাও সমানতালে নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

নরসিংদী-৪ আসনে সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল মাঠে থাকলেও বৃহস্পতিবার তার প্রচারণা চালানোর সময় হামলা হয়েছে। নয়টি মোটরসাইকেলে অগুন দেওয়া হয়েছে।

আর নরসিংদী-৫ আসনে বিএনপির তুলনায় শক্তিশালী প্রতিনিধি আওয়ামী লীগের। এখানে বিএনপি মাঠে নেই। অন্যদিকে বিপরীতে দুর্বল প্রার্থী থাকায় আওয়ামী লীগও খুব জোরেশোরে প্রচারণায় নেই।

বরগুনায় সহকর্মী নাইমুল হাসান রাসেল জানান, বরগুনা-১ আসনে নৌকার প্রার্থী ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু এবং তার সমর্থকরা যখন পুরো এলাকায় প্রচারণা জমিয়ে ফেলেছেন, তখন বিএনপির প্রার্থী মতিউর রহমানের সমর্থকরা স্বল্প পরিসরে কাজ করছেন। দুই দলেরই পোস্টার এলাকায় সাঁটানো হলেও আওয়ামী লীগের প্রার্থীর তুলনায় কম প্রচারণা চালাচ্ছেন ধানের শীষের প্রার্থী।

বরগুনা-২ আসনের খন্দকার মাহবুব হোসেন এলাকায় গেছেন বৃহস্পতিবার। আর তার এলাকায় যাওয়ার আগে বিএনপির তেমন তৎপরতাই ছিল না।

গাইবান্ধা প্রতিনিধি জাবেদ হোসেন জানান, জেলার ৫টির মধ্যে শুধু গাইবান্ধা-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মাজেদুর রহমান ও মহাজোটের (জাপা) শামীম হায়দার পাটোয়ারীর মধ্যে লড়াই চলছে। প্রচার-প্রচারণা দুই মূল প্রার্থী সমানতালে চালাচ্ছেন।

একই অবস্থা গাইবান্ধা-২ আসনেও আওয়ামী লীগের মাহবুব আরা বেগম গিনির বিপরীতে সদ্য বিএনপিতে যোগ দেওয়া আবদুর রশীদ সরকার পুরোদমে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে বাকি আসনগুলোর অবস্থা একই রকম নয়।

জেলার বাকি তিন আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জোরেশোরে প্রচার চালালেও অনেকটা পিছিয়ে বিএনপি জোটের প্রার্থীরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :