বিজয় উদযাপনে প্রস্তুত জাতীয় স্মৃতিসৌধ

ইমতিয়াজ উল ইসলাম, সাভার
| আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:১৪ | প্রকাশিত : ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:০৯

দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাঙালি জাতি পরাধীনতার শেকল ভেঙে বিশ্ব মানচিত্রে জায়গা করে নেয় লাল সবুজের পতাকা। স্বকীয় স্বত্তায় প্রকাশ হয় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য ও লীলাভূমির ভূখ- বাংলাদেশ নামের রাষ্ট্র। এই দিনটিতে বিজয় উদযাপনে মেতে উঠে পুরো জাতি।

আর বিজয় উদযাপন শুরু হয় সাভারের নবীনগরে অবস্থিত জাতীয় সৌধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর মাধ্যমে। এবার ৪৭তম বিজয় দিবস উদযাপনের জন্য স্মৃতি সৌধের সাজ সজ্জার কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে।

সৌধ প্রাঙ্গণে প্রায় পনের দিন ধরে চলছে ধুয়ে মুছে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ। বর্ণিল ফুলের চারা রোপন ও রং তুলির আঁচরে সাজিয়ে তোলা হয়েছে পুরো সৌধ চত্বর। লাল, নীল, হলুদ বাতির ঝলকানিতে রাতের আকাশেও জানান দিচ্ছে বিজয়ের স্বাদ। এছাড়া নিরাপত্তার জন্য সৌধ এলাকায় সিসিটিভি স্থাপনের কাজও সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সৌধ কর্তৃপক্ষ।

জাতীয় স্মৃতিসৌধের গণপূর্ত বিভাগের কর্মচারীরা জানায়, বিজয় দিবস উপলক্ষে গত পনের দিন ধরে তারা গণপূর্ত বিভাগের ৬৫জনসহ বহিরাগত প্রায় আরো ৫০ জন কর্মচারী সৌধ এলাকায় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্য্য বর্ধনের কাজ করছেন। এ লক্ষ্যে সৌধ স্তম্ভসহ পুরো এলাকা ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করা হয়েছে। শহীদ বেদী থেকে প্রধান ফটক পর্যন্ত পায়ে হাঁটার লাল ইটের হেরিংবন্ড পথকে লাল ও সাদা রঙের আঁচরে দৃষ্টিনন্দন করে তোলা হয়েছে। সৌধ প্রাঙ্গণের বিভিন্ন স্থানে রোপন করা হয়েছে লাল, নীল, হলুদ, বেগুনিসহ বাহারী ফুল গাছের চারা। পাশাপাশি প্রতি বছরের ন্যায় এবারও পরিচর্যা শেষে লেক গুলোতে লাগানো হয়েছে লাল পদ্ম। এছাড়া বিভিন্ন শোভা বর্ধনকারী গাছ ও ঘাস ছেঁটে ফেলাসহ আলোকবাতি স্থাপনের কাজও ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে।

সৌধ এলাকার পরিচ্ছন্নতাকর্মী আব্দুর রহমান নামে এক দিনমজুর ঢাকাটাইমসকে বলেন, প্রতিবছর বিজয় দিবস আসার পনেরো দিন আগে থেকেই তারা সৌধ এলাকাকে পরিচ্ছন্ন করার কাজ শুরু করেন। দৈনিক মজুরিতে হলেও এই কাজ করতে তাদের অনেক ভালো লাগে।

সাভার গণপূর্ত বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান জানান, সৌধ এলাকায় সৌন্দর্য্য বর্ধনসহ পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার জন্য প্রায় শতাধিক কর্মী দিন রাত কাজ করে যাচ্ছেন। এখন কেবল মরিচবাতিসহ আনুষাঙ্গিক কাজ গুলো চলছে। আর এ জন্য গত ৬ ডিসেম্বর থেকে জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকায় সাধারন দর্শনার্থীদের প্রবেশাধিকার বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে ১৬ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও বিদেশি কূটনীতিকদের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদনের পর সৌধ এলাকা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও কূটনৈতিকসহ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শাহ মিজান শাফিউর রহমান।

এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, জাতীয় স্মৃতিসৌধে মাননীয় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে ঢাকা জেলা পুলিশ। পর্যবেক্ষণের জন্য সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা। এছাড়া গত কয়েক দিন ধরে পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এছাড়া এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে শ্রদ্ধা নিবেদনে এসে সৌধ এলাকায় যাতে কোনো অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয় সেদিকটাও পুলিশের বিশেষ নজরদারিতে থাকবে বলেও জানান তিনি।

ঢাকাটাইমস/১৫ডিসেম্বর/ইএস

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত