বাকৃবিতে মুক্তিযুদ্ধের দুই ভাস্কর্য

রাকিবুল হাসান রাকিব
 | প্রকাশিত : ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ১০:২৩

মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের কথা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার জন্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাস্কর্য রয়েছে। বাদ যায়নি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)। এখানে রয়েছে নান্দনিক দুটি ভাস্কর্য। একটি ‘বিজয় একাত্তর’ এবং অন্যটি ‘বিমূর্ত মুক্তিযুদ্ধ’। ভাস্কর্য দুটিই বিখ্যাত ভাস্কর শিল্পী শ্যামল চৌধুরীর হাতে গড়া ।

মহান মুক্তি সংগ্রামে বাংলার সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মূর্তপ্রতীক বাকৃবি মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য ‘বিজয় একাত্তর’। বাকৃবি ক্যাম্পাসের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনের সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে ভাস্কর্যটি। 

ভাস্কর্যে একজন নারী, একজন কৃষক ও একজন ছাত্র মুক্তিযোদ্ধার নজরকাড়া ভঙ্গিমা রয়েছে। এগুলো মনে করিয়ে দেয় একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সেই দিনগুলোর কথা। ভাস্কর্যে একজন কৃষক মুক্তিযোদ্ধা বাংলাদেশের পতাকা তুলে ধরেছে আকাশের দিকে। তার ডান পাশেই শাশ্বত বাংলার সর্বস্বত্যাগী ও সংগ্রামী নারী দৃঢ়চিত্তে রাইফেল হাতে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছে। অন্যদিকে একজন ছাত্র মুক্তিযুদ্ধে গ্রেনেড ছোড়ার ভঙ্গিমায় বাম হাতে রাইফেল নিয়ে তেজোদীপ্ত চিত্তে দাঁড়িয়ে আছে। ভাস্কর্যটি মুক্তিযুদ্ধে ছাত্র, কৃষক এমনকি নারীর অংশগ্রহণ যেমন তুলে ধরছে পাশাপাশি তুলে ধরেছে একাত্তরে মুক্তিযোদ্ধাদের বিরত্বগাঁথাকে। ভাস্কর্যটি সব সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী এবং দর্শনার্থীদের প্রেরণার উৎস।

বাকৃবিতে ভাস্কর শ্যামল চৌধুরীর আর একটি ভাস্কর্য ‘বিমূর্ত মুক্তিযুদ্ধ’। বায়ান্ন থেকে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময়ে সংগঠিত সব ঐতিহাসিক ঘটনাবলি বিভিন্ন প্রতীকীর মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে ভাস্কর্যটিতে। বাকৃবির প্রধান ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে ভাস্কর্যটি।

ভাস্কর্যটি তিনটি অংশে বিভক্ত। প্রধান অংশে পরপর উলম্বভাবে সমান্তরালে সাজানো ২৬ ফুট, ২১ ফুট এবং ১১ ফুট ব্যাসের তিনটি বৃত্ত। এগুলো যথাক্রমে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস, ২১ ফেব্রুয়ারির ভাষা অন্দোলন এবং ঐতিহাসিক ১১ দফার প্রতীকী নির্দেশ করে। 

অন্যদিকে তৃতীয় বৃত্তটি ৭ ফুট হাতের ওপর অবস্থিত, যা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ এবং একই সঙ্গে স্বাধীনতার ৭ বীরশ্রেষ্ঠের প্রতীকী নির্দেশ করে। সবার ওপরে থাকা সাতটি ঊর্ধ্বমুখী তীর্যক এবং একটি চক্রাকার হুইল যথাক্রমে স্বাধীনতার মুক্তি সনদ ৬ দফা প্রদর্শন করেছে। ১৬ ফুট উচ্চতার তীর্যকটি ১৬ ডিসেম্বরের প্রতীকী নির্দেশ করে। চক্রাকার হুইলটি সামনে চলার অঙ্গীকারের প্রতীক। এর ভেতরে থাকা লালবৃত্তের মাঝে বাংলাদেশের মানচিত্রটি মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশেরে পতাকার নির্দেশ করে। সবার উপরে রয়েছে উড্ডয়মান ৪টি শ্বেত শুভ্র পায়রা যা সংবিধানের মূল ৪ স্তম্ভের প্রতীকী। স্মারকটির দ্বিতীয় অংশে রয়েছে বায়ান্ন থেকে একাত্তরের সমগ্র ইতিহাসের নায়ক বঙ্গবন্ধুর আবক্ষ ভাস্কর্য। 

ভাস্কর্যে ফুটে ওঠা বাঙালির এসব সংগ্রামের, স্বাধীনতার প্রতীকীগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ সবার প্রেরণা জোগায়।

(ঢাকাটাইমস/১৬ডিসেম্বর/এজেড)

সংবাদটি শেয়ার করুন

শিক্ষা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত