চড়ুইভাতি আর ভালোবাসার গল্প

ওহী আলম, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ১০:৪২

‘চলো না ঘুরে আসি অজানাতে, যেখানে নদী এসে মিশে গেছে’Ñ গিটারের টুংটাং শব্দে মুখরিত নীলদীঘির পাড়। কার গানের গলা ভালো আন্দাজ করা বেশ মুশকিল! সবাই ব্যস্ত খুব। অক্টেন বাবা ফারহান অক্টেন দিয়ে আগুন জ্বালাতে খুব চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। অর্ক আর কামরুল বেশ মনোযোগ দিয়ে দাবা খেলায় মগ্ন। একপাশে লুডু খেলোয়াড়রাও বেশ জমিয়ে তুলেছে। আরও ছিলেন ফটোগ্রাফার সাহেব শুভ্র। দাঁড়িয়ে, বসে, কাত হয়ে নানা আঙ্গিকে যিনি অনবরত ছবি তুলে গেছেন।

আকাশমণি গাছের ফাঁকে ফাঁকে লাল, নীল কাগজের সারিগুলো, হলুদ সোনালি ফুল, ঝরা পাতার শব্দ, পাখির ডাক , পুরো নীলদীঘির পাড় যেনন একটুকরো রঙিন ক্যানভাস।
বলছিলাম নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ফুড টেকনোলজি অ্যান্ড নিউট্রিশন সায়েন্স বিভাগের ষষ্ঠ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে ২৭ নভেম্বরে অনুষ্ঠিত চড়ুইভাতির কথা। যার মূল আকর্ষণ ছিল নানা পদের ভর্তা।

হলের একদল তরুণীর সহযোগিতায় জোগাড়যন্ত্র শুরু হয় ভোর থেকে। ৩০-৪০ মানুষের জন্য কয়েক পদের রান্না করা তো সহজ কাজ নয়। মলি, মালিহা, প্রিয়ার দায়িত্বে ছিল ভর্তা, আচার তৈরির। আয়োজন শুরু হলো মেয়েদের হলে। আর খিচুড়ি-মুরগি রান্নার আয়োজন চলছিল পদ্মপুকুর পাড়ে।

এর ফাঁকেফাঁকে চলছিল খ-খ- আড্ডা আর সাজ-সজ্জার কাজ। সেলফি কুইনখ্যাত রিদিতা একটু পর পর ছবি তোলায় ছিল বেশ ব্যস্ত।

সূর্য মাথার ওপর উঠতেই সবাই চলে আসে নীলদীঘির পাড়ে। চড়ুইভাতি মানেই অন্য রকম কিছু। খাবারের চাইতে আনন্দটাই এখানে মুখ্য যে। দুচামচ বেগুন ভর্তা, একটু আচার ও এক চামচ টমেটো ভর্তা সঙ্গে খিচুড়ি আর মুরগির ঝাল ফ্রাই । সঙ্গে এক টুকরা লেবু! প্লেটে প্লেটে সাজিয়ে চলছিল পরিবেশন। তৃপ্তির ঢেকুর তোলা অনেকেই আবার প্লেটটা একটু বাড়িয়ে দিচ্ছিল, আরেকটু আচার আর খিচুড়ি হবে কিনা সে আশায়। বেচারি সুমাইয়া! অনেক পাহারা দিয়েও চিকেন লেগপিস হাসিল করতে পারেনি সে।

উৎসবজুড়ে দেখামেলে বন্ধুত্বপূর্ণ, প্রাণবন্ত এবং চমৎকার রকম আড্ডাপ্রিয় একদল শিক্ষকের। ছিল ‘সতিনের ছেলে কার কোলে’ বিচিত্র নামের সব খেলার। বিজয়ী খেলোয়াড়ের জন্য ছিল পুরস্কারও। খেলায় বিজয়ী শিক্ষক রাহানুর আলম শোভন বলেন, ‘এমন আয়োজন তো প্রত্যেক সেমিস্টারেই হওয়া উচিত। এতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে ছাত্র-শিক্ষকের সম্পর্ক।’

আড্ডা, গান, কবিতা, গল্পে মুখরিত সময়টা যেন চড়ুই পাখির মতো ফুরৎ করে উড়ে চলে গেলো! শৈশবের স্মৃতি মোড়ানো হরেক রকম খেলা, প্রাণখুলে আড্ডা, গলা ছেড়ে গান, গুচ্ছ গুচ্ছ গল্প, চমৎকার সব রান্না। নীল দীঘির পাড়ের দুপুরটা অসাধারণ, অনবদ্য, রোমাঞ্চকর। জীবন এখানে বেশ রঙিন।

নোবিপ্রবির এরূপ হরহামেশাই দেখা যায়। উৎসব প্রিয় ক্যাম্পাসে প্রতিদিনই কেউ না কেউ, কোনো না কোনো বিভাগের শিক্ষার্থীরা চড়ুইভাতির মতো নানা আয়োজন করে থাকে।

(ঢাকাটাইমস/১৬ডিসেম্বর/এজেড)

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

শিক্ষা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত