চার যুগে ৪৫ গুণ বড় অর্থনীতি

হাবিবুল্লাহ ফাহাদ
| আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৭:৪৪ | প্রকাশিত : ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ১১:৪১

পশ্চিমা ডাকসাইটে অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাসকে মিথ্যা প্রমাণ করেছে বাংলাদেশ। তরতরিয়ে এগিয়ে চলা দেশটি এখন বিশ্বের বিস্ময়, যাকে বলা হচ্ছে বাংলাদেশ প্যারাডক্স। গত ৪৭ বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার বেড়েছে ৪৫ গুণ।

উন্নয়নের পথের এই যাত্রা বারবার সেনা শাসন, সাংবিধানিক সরকারকে উৎখাত আর প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ব্যাঘাত ঘটেছে। তবু এগিয়ে চলছে সোনার বাংলা।

তবে মুক্তিযুদ্ধের সময় ঘটনাপ্রবাহ ছিল নির্মম। মুক্তিযুদ্ধের শুরুতেই পশ্চিম পাকিস্তানের জেনারেল টিক্কা খান বলেছিলেন, ‘মৃত্তি মাংতা আদমি নেহি।’ অর্থাৎ পূর্ব পাকিস্তানে শুধু মাটিটুকুই থাকবেÑপোড়া মাটি। কোনো মানুষ থাকবে না। আর ইয়াহিয়া খান ছিলেন তার চেয়েও ভয়ংকর। বলেছিলেন, ‘আদমি নেহি মাংতা, মৃত্তি ভি নেহি।’ অর্থাৎ পোড়া মাটি তো নয়ই, কোনো মানুষও থাকতে পারবে না।

নয় মাসের যুদ্ধে বাংলাকে শশ্মান করে দিয়ে গিয়েছিল পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের এ দেশের দালালরা। ৪৩ লাখের বেশি ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। বাস্তুহারা হয়েছে তিন কোটি মানুষ। তিন হাজারের মতো অফিস ভবন ধ্বংস করেছে, যেন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা সম্ভব না হয়। ১৯ হাজার হাট-বাজার পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গ্রামীণ অর্থনীতিকে স্থবির করার জন্য। রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্টÑকিছুই বাকি রাখেনি পাকিস্তানি হানাদাররা। পরিকল্পিতভাবেই একের পর ধ্বংস করেছে সব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।

পূর্ব পাকিস্তান আগে থেকেই ছিল শোষিত। ১৯৪৭ সালের পর থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত ২৩ বছর বাংলার মানুষ বঞ্চিত হয়েছে। নির্যাতিত হয়েছে। নিপীড়িত হয়েছে। পশ্চিম পাকিস্তানের সঙ্গে পূর্ব পাকিস্তানের বৈষম্যের দেয়াল যখন আকাশ ছুঁতে চাইল, বিরোধ শুরু হলো তখনই। বর্তমান বাজারমূল্যে হিসাব করলে ২৩ বছরে পূর্ব পাকিস্তান থেকে পশ্চিম পাকিস্তান লুট করেছে কমপক্ষে ৫০ লাখ কোটি টাকা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সংগ্রাম ছিল শোষণকারীদের বিরুদ্ধে। শোষিতের পক্ষে। তার চোখেই বাংলাদেশের দিশা পেয়েছিল বাঙালি। ধীরে ধীরে ভিত রচনা হলো স্বাধীন বাংলাদেশের। ৭ মার্চের ভাষণের পর এল মুক্তির সংগ্রাম। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে আমরা একটি দেশ পেলাম ঠিকইÑপোড়া মাটির দেশ। অর্থনীতির চাকা আগে থেকেই ছিল নড়বড়ে। যুদ্ধের পর তা ভেঙে চৌচির। সেই ভাঙা হাটে এলেন বঙ্গবন্ধু। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি।

তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়িসহ আরও অনেক ধরনের অন্যায় উক্তি, ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও ব্যঙ্গ-কটূক্তি করেছিলেন।

হিমালয়সহ ক্ষয়ক্ষতির বোঝা ঘাড়ে নিয়ে রাষ্ট্রনায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশ গঠনের কাজ শুরু করলেন। হাল ধরলেন বাংলাদেশের।

অর্থনীতিবিদ আবুল বারকাতের যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের অর্থনীতিবিষয়ক একটি প্রবন্ধের হিসাব অনুযায়ী, মুক্তিযুদ্ধে ধ্বংসের কারণে ১৯৭০ সালের তুলনায় ১৯৭২ সালে মোট দেশজ উৎপাদন ৩০ শতাংশ কমে এসেছিল। ১৯৭০ সালে পূর্ব পাকিস্তানে মোট দেশজ উৎপাদন (বর্তমান বাজারমূল্যে জিডিপি) ছিল ৮৯৯ কোটি ডলার, যা মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী যুদ্ধবিধ্বস্ত অবস্থায় ১৯৭২ সালে কমে দাঁড়াল ৬২৯ কোটি ডলারে।

তবে বঙ্গবন্ধু সরকার কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন অগ্রাধিকারভিত্তিক পদক্ষেপের কারণে মোট দেশজ উৎপাদন বাড়তে থাকল, যেমন ১৯৭৩ সালে তা গিয়ে দাঁড়াল ৮০৬ কোটি ডলার।

স্বাধীন বাংলাদেশের যাত্রায় মোট দেশজ উৎপাদন ছিল ৬২৯ কোটি ডলার। বর্তমানে সেই অর্থনীতি (২০১৭-১৮ অর্থবছর) এসে পৌঁছেছে ২৮ হাজার ৪০০ কোটি মার্কিন ডলারে।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিই শুধু নয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মানব উন্নয়ন, গড় আয়ু বৃদ্ধি, খাদ্যে উন্নয়ন, মাতৃমৃত্যুর হার কমানো, নারীর ক্ষমতায়নে অগ্রগতির প্রশংসা করছে খোদ জাতিসংঘ।

৪৭ বছর পার করে আসা বাংলাদেশ এখন স্বল্প আয়ের দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশ হওয়ার পথে। বাংলাদেশের এই উন্নয়নের একাত্তরের শত্রুদেশ পাকিস্তানের চোখ কপালে। পশ্চিম পাকিস্তান থেকে পূর্ব পাকিস্তান আলাদা হয়ে যাওয়া নিয়ে যাদের অহংবোধের সীমা ছিল না, সেই পাকিস্তান এখন বাংলাদেশের উন্নয়ন নিয়ে রীতিমতো বিস্মিত।

বাংলাদেশ এখন সম্ভাবনাময় এক জনপদের নাম। বিশ^বাসীর কাছে উন্নয়নশীল অর্থনীতির নতুন বিস্ময়।

স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে গড়ে তোলার যে প্রচেষ্টা চলছিল, তা বাধাগ্রস্ত হয় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে। এরপর কয়েক ধাপে স্বৈরশাসনের ঘানি টানতে হয়েছে বাংলাদেশকে।

অর্থনৈতিক সূচক বিচার-বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গণতান্ত্রিক সরকারের সময়ে দেশের অর্থনীতি যেভাবে এগিয়েছে, সামরিক সরকারের সময় ততটাই পিছিয়েছে। বিশেষ করে, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সময় দেশে দারিদ্র্যের হার কমার বদলে বেড়েছে। ২০০৭ সালের এক-এগারোর সরকারের সময়েও দেশের অর্থনীতির যে ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে বেশ সময় লেগেছে।

স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ আবুল বারকাত ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘স্বাধীনতার পরবর্তী ৪৭ বছরে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি সাফল্যজনক। তবে বঙ্গবন্ধু যদি যদি বেঁচে থাকতেন, তাহলে বাংলাদেশ আরও আগেই এই সাফল্য পেত।’

‘বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার কারণে ১৯৭৫ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ৩৬ বছরে দেশের অর্থনীতির পুঞ্জীভূত ক্ষতির পরিমাণ ৩ লাখ ৪১ হাজার ৬৮৯ কোটি ডলার। বঙ্গবন্ধু জীবিত থাকলে ১৯৭৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত গড়ে ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হতো।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের অর্জন কম নয়। মাত্র ৮ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি এখন ২৭০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি বলা যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার পরে বলেছেন, ‘আমি অনেক রাজা-উজিরের সাক্ষাৎ পাই। তবে এত দিনে একজনই জাতির পিতার (বঙ্গবন্ধু) সাক্ষাৎ পেয়েছি।’

৭৮৬ কোটি টাকার বাজেট দিয়ে শুরু

স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম জাতীয় বাজেট দেওয়া হয় ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরে। তৎকালীন অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ সেই সময় ৭৮৬ কোটি টাকার বাজেট দেন। এখন সেই বাজেট গিয়ে দাঁড়িয়েছে চার লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকায়। মোট দেশজ উৎপাদন, বিনিয়োগ, রাজস্ব, রপ্তানি আয়, রেমিট্যান্স, রিজার্ভ সব ক্ষেত্রেই ঈর্ষণীয় সফলতা দেখিয়েছে বাংলাদেশ।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা আকবর আলি খান বলেন, ‘স্বাধীনতার পর একটা দেশ এগিয়ে যাবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বাংলাদেশ যেভাবে এগিয়েছে, তা অনেকের জন্য ঈর্ষণীয়। এত কম সময়ে এ দেশের অর্থনীতি যেভাবে এগিয়েছে, তা প্রশংসনীয়।’

এগিয়েছে গ্রামীণ অর্থনীতি

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল সাত কোটি নয় লাখ, যার মধ্যে গ্রামের জনসংখ্যা ছয় কোটি ৫২ লাখ। অর্থাৎ তৎকালীন জনসংখ্যার প্রায় ৯২ শতাংশ গ্রামে থাকত। গ্রামের জনসংখ্যার কমপক্ষে অর্ধেক অর্থাৎ তিন কোটি ২৬ লাখ ছিলেন ভূমিহীন-নিঃস্ব মানুষ, যাদের অধিকাংশই মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিও হয়েছে তাদের।

পাকিস্তানিরা পরিকল্পিতভাবে এ দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিকে ধ্বংসের জন্য ১৯ হাজার হাট-বাজার পুড়িয়ে ছাই করে দিয়েছিল। কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি ছিল আমাদের মেরুদ-। একাত্তরে ভেঙে পড়া সেই মেরুদ- এখন আবারও শক্ত হয়েছে।

বিশ্ব অর্থনীতির পরিসংখ্যানে খাদ্যশস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে অনন্য উদাহরণ। ধান, সবজি, আলু, ভুট্টাসহ খাদ্যশস্য উৎপাদনে বিশ্বের গড় উৎপাদনকে পেছনে ফেলে দিয়েছে।

বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৮০ শতাংশ এবং শ্রমশক্তির ৬০ শতাংশ কৃষিকাজে নিয়োজিত। দেশের ৫৫ শতাংশ চাল আসে বোরো থেকে। বোরো ফসলের উৎপাদন বেড়েছে প্রায় পাঁচ গুণ। স্বাধীনতার ৪৭ বছরে প্রায় ২০ শতাংশ চাষের জমি কমলেও চালের উৎপাদন বেড়েছে চার গুণ।

জাতিসংঘের কৃষি ও খাদ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, চাল উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। সবজিতে তৃতীয় ও আলুতে সপ্তম অবস্থানে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। খাদ্যশস্য উৎপাদন বেড়েছে ৩০ দশমিক ৪৮ শতাংশ। বর্তমানে ফসলের নিবিড়তা ১৯৪ শতাংশ।

কৃষি পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশে শুধু চাল উৎপাদন হচ্ছে তিন কোটি ৮৬ লাখ ৩৪ হাজার মেট্রিক টন। ধান, গম, ভুট্টাসহ মোট খাদ্যশস্য উৎপাদনে বিশ্বে শীর্ষ তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১০ম।

জিডিপিতে ভেঙেছে সাতের বলয়

স্বাধীনতার পর দীর্ঘ ২৫ বছর পর্যন্ত বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার সাড়ে চার শতাংশের বেশি বাড়েনি। এর মধ্যে ১৯৭৩-৭৪ থেকে ১৯৭৯-৮০ সময়ে প্রবৃদ্ধির হার ছিল মাত্র গড়ে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ। পরের ১০ বছর জিডিপি বেড়েছে প্রায় ৫ শতাংশ। এরপর ৬ শতাংশ। গত অর্থবছরে (২০১৭-১৮) দেশে ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

শিক্ষায় অভাবনীয় সাফল্য

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানিরা ১৮ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়, ছয় হাজার উচ্চ বিদ্যালয় ও মাদরাসা, ৯০০ কলেজ ভবন জ্বালিয়ে দিয়েছিল। বন্ধ করে দেওয়া হয় বেশির ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সেই ভগ্নদশা প্রাথমিক শিক্ষায় আমাদের সাফল্য প্রায় শতভাগ।

দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৩ হাজার ৬০০টি। শিক্ষকসংখ্যা তিন লাখ ২২ হাজার ৭৬৬ এবং ছাত্রসংখ্যা দুই কোটি ১৯ লাখ ৩২ হাজার ৬৩৮।

গত ১০ বছরে বাংলাদেশে সার্বিক সাক্ষরতার হার ২৬ দশমিক ২৪ শতাংশ বেড়ে ৭২ দশমিক ৯০ শতাংশে উঠেছে। এই সময়ে মাঝবয়সী জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি বয়স্ক এবং শিশুদের মধ্যেও শিক্ষার আওতা বেড়েছে।

নিজেদের টাকায় মেগা প্রকল্প

গত কয়েক বছরে অবকাঠামো, বিদ্যুৎ উৎপাদন, যোগাযোগ ও বন্দরের উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে বাংলাদেশ। বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা বেড়ে তিনগুণ হয়েছে। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।

বিদ্যুৎ খাতে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অর্জনের মধ্যে রয়েছে জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত ৬ হাজার ৩২৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সংযোজন, যার ফলে বিদ্যুতের সুবিধাভোগীর সংখ্যা ৪৭ শতাংশ থেকে ৬২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। একই সঙ্গে মাথাপিছু বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ ২২০ কিলোওয়াট-ঘণ্টা থেকে বেড়ে ৩৪৮ কিলোওয়াট-ঘণ্টায় দাঁড়িয়েছে। নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করা হয়েছে ৩৫ লাখ গ্রাহককে। নির্মাণ করা হয়েছে নতুন ৬৫টি বিদ্যুৎকেন্দ্র।

পদ্মা সেতু এখন স্বপ্ন নয়, বাস্তব। ৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে পদ্মা সেতু নিজস্ব অর্থায়নে তৈরি করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। পায়রা ও কক্সবাজারের মাতারবাড়িতে আরও দুটি গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। দেশজুড়ে ১০০ বিশেষ অর্থনৈতিক এলাকা নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে ৪০ বিলিয়ন বিদেশি বিনিয়োগ এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে।

খাদ্যে স্বনির্ভরতা

১৯৭২ সালে দেশের মোট খাদ্য ঘাটতির পরিমাণ ছিল প্রায় ৪০ লাখ টন। দ্বিগুণের বেশি জনসংখ্যার বাংলাদেশ বর্তমানে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশে ধানের উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ৫০ লাখ মেট্রিক টন। বাংলাদেশের বিজ্ঞানী প্রয়াত মাকসুদুল আলম আবিষ্কার করেছেন পাটের জিনোম সিকুয়েন্সিং। সারা বিশ্বে আজ পর্যন্ত মাত্র ১৭টি উদ্ভিদের জিনোম সিকুয়েন্সিং হয়েছে, তার মধ্যে ড. মাকসুদ করেছেন তিনটা। তার এই অনন্য অর্জন বাংলাদেশের মানুষকে করেছে গর্বিত।

দারিদ্র্য কমেছে, বেড়েছে আয়

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যমতে, স্বাধীনতার পরপর পরিবারপ্রতি মাসিক গড় আয় ছিল ৪৬৪ টাকা। গ্রামের একজন মানুষ দিনে গড়ে মাত্র ২৬ গ্রাম মাছ খেত, ৪ দশমিক ৯৩ গ্রাম মাংস খেতে পারত, ডিম খেতে পারত ১ দশমিক ১৬ গ্রাম।

পরিবারগুলো খাদ্যের পেছনে ব্যয় করত তাদের মোট ব্যয়ের ৭৫ শতাংশ। মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৩ শতাংশের কাছাকাছি। শতকরা ৮০ ভাগের বেশি মানুষ ছিল দরিদ্র শ্রেণির।

২০১৬ সালে বিবিএসের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, পরিবারপ্রতি মাসিক আয় দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৯৪৫ টাকা। সর্বশেষ হিসাবে দারিদ্র্যের হার কমতে কমতে ২২.৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

মানুষের দৈনিক খাদ্য গ্রহণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় এক হাজার গ্রাম। প্রায় অর্ধেক বাড়িঘর টিন ও কাঠের তৈরি। প্রায় ৩০ শতাংশ রয়েছে পাকাবাড়ি। প্রায় ৯৫ শতাংশ পরিবার নিরাপদ পানি পান করছে। বেড়েছে বিদ্যুৎ ব্যবহারের হারও।

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :