আমজাদ, সংসারটা পাতা হলো না

রুদ্র রুদ্রাক্ষ, ঢাকা টাইমস
 | প্রকাশিত : ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৩:১৬

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের এক পুরোধা নাম আমজাদ হোসেন। গত শুক্রবার বাংলাদেশ সময় বেলা তিনটায় ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বহু প্রতিভাধর এই নির্মাতা। তার বেশির ভাগ চলচ্চিত্রের নায়ক-নায়িকা ছিলেন ফারুক ও ববিতা। প্রয়াত এই নির্মাতার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা ও স্মৃতি নিয়ে ঢাকা টাইমসের সঙ্গে কথা বলেছেন নায়ক ফারুক। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রুদ্র রুদ্রাক্ষ।

আমজাদ হোসেনের কালজীয় চলচ্চিত্র ‘নয়নমণিও ‘গোলাপী এখন ট্রেনেতারকা অভিনেত্রী ববিতার নায়ক ছিলেন ফারুকজিজ্ঞেস করি- আমজাদ হোসেনের সঙ্গে আপনার প্রথম কাজ কোনটা?

'নয়নমণি'। ওই সিনেমায় আমার কো-আর্টিস্ট ছিল ববিতা। মজার বিষয় হলো ওনার (আমজাদ) সঙ্গে  কাজ করার সময় মনেই হয়নি আমরা অন্যের সিনেমায় কাজ করছি। মনে হতো সিনেমাটা আমার নিজের। এই কৃতিত্ব সম্পূর্ণই ওনার। উনি সেটে এমন একটা আবহ তৈরি করতেন, আমাদের মনে হতো এটা একটা পারিবারিক কাজ। এমনও হয়েছে, ওনার শুটিং করতে ঢাকার বাইরে গেছি, কিন্তু আমাদের থাকার জায়গা নেই, যে ঘরে থাকার ব্যবস্থা হলো সেখানে আলো নেই। ১ কিলোমিটার হেঁটে গিয়ে লাইট কিনে এনেছি। এমনকি বাজারও করেছি আমরা। এ রকম দৃশ্যের অবতারণা বাংলাদেশ ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে আর হয়নি সম্ভবত।

আপনার চোখে তার উল্লেখযোগ্য সৃষ্টি কোনগুলো?

তার সব সৃষ্টিই যুগান্তকারী। কিন্তু দর্শক হিসেবে বলতে বললে বলব ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ আর ‘নয়নমনির’ কথা। এ দুটো সিনেমা ওনার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি বলে মনে হয় আমার কাছে।

তার সঙ্গে কাজের বন্ধুত্বের স্মৃতি সম্পর্কে কিছু শুনতে চাইছি

আমি এফডিসিতে গিয়ে আমজাদ হোসেনকে  খুঁজতাম। পরিচালক সমিতির সামনের বারান্দায় চেয়ার পেতে বসে থাকতেন  লোকটা। আমরা আড্ডা দিতাম। একদিন আমজাদ বলেছিলেন, ‘আমরা আবার সংসার পাতব। আবার সিনেমা বানাব। আর এসব ডিজিটাল সিস্টেমেই আমরা সিনেমা বানাব। যারা এখন ডিজিটাল সিস্টেমে সিনেমা বানাচ্ছে ওদের শেখানো দরকার। আমরা অভিভাবকরা না শেখালে ওরা কীভাবে শিখবে।’ এ রকম এক মহান মানুষের স্মৃতি নিয়েই বাঁচতে হবে বাকিটা জীবন। আমজাদ, আমাদের আর সংসারটা পাতা হলো না। আমরা দুজনে হয়ে গেলাম দুই মেরুর বাসিন্দা। 

আমজাদ হোসেনকে যদি মূল্যায়ন করতে বলি...

একজন সাহিত্যিক তিনি। একজন নির্মাতা তিনি। বাংলা সিনেমাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার যে যুদ্ধ তিনি শুরু করেছিলেন তা এককথায় যুগান্তকারী। আমরা তার নেতৃত্বে সিনেযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলাম। মৃত্যুর পরেও তিনি আমাদের পথপ্রদর্শক হয়ে  রইলেন। যোদ্ধা আমজাদ হোসেনের সাহস বুকে রেখে এই যুদ্ধ আমরা চালিয়ে যাব।

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিনোদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :