রেমিটেন্স যোদ্ধাদের সাম্প্রতিক হালচাল

মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান
 | প্রকাশিত : ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৭:৪০

প্রিয় মায়ের মায়ায় ভরা সরল মুখ, তার কাছে এখন ছবি। বাবার সোহাগ-শাসন দুরালাপনীতে ইথার ভাসা। প্রিয়তমা পতœীর আদর-যতœ মাখা ভালবাসা আর নতুন কুঁড়ির আবদার  যেন চাপা কান্না। সেই চাপা ক্ষোভ-বিক্ষোভ হয়ে জমা পড়ে নকশী কাঁথার হাজারো বুননে। কী আবেগ অভিঘাতের মিহিন পরশের এই বুনন! সন্তানের অভিমানী চোখ আর পিতৃস্নেহ পাওয়ার আকুলতায় পিতা নিরব নিথর হয়ে মেসেঞ্জার, ভাইবার, হোয়াটস অ্যাপের সামনে নিস্ক্রিয় দর্শকমাত্র। এ রকম অজ¯্র কাহিনী, সহ¯্র ত্যাগের গল্পে সার্থক মহাকাব্য বাংলাদেশের রেমিটেন্স অর্থনীতির ইতিহাস। 

জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম মূলভিত্তি প্রবাসীদের রেমিটেন্স। দেশের অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রামের প্রতি পরতে পরতেই রয়েছে তাদের কষ্টার্জিত রেমিটেন্সের ঘর্মাক্ত ছাপ বিদ্যমান। প্রবাসী বন্ধুদের প্রতি ফোটা ঘামের বিনিময়ে বিন্দু থেকে সিন্ধু হচ্ছে দেশের রিজার্ভ। তাদের ঘামের টাকা সচল রাখছে দেশের অর্থনীতির চাকা। বিদেশে প্রতিনিয়ত নানা ঘাত প্রতিঘাত সহ্য করে সারাবিশ্বে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করেছে দেশের স্বার্থে। তারা আজ আন্তর্জাতিক নাগরিক মানসে উন্নীত হয়েছে। শ্রমঘামের প্রতিদানে তারা একদিকে যেমন বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জল করছে আরেক দিকে দেশে রেখে যাওয়া পরিবারের মুখে হাসি ফুটাচ্ছে। সেই হাসি ছড়িয়ে পরে এক পরিবার থেকে ৪ কোটি পরিবারে। যা প্রকারান্তরে, দেশের অর্থনীতিতে সরাসরি অবদান রাখে।

বহুজাতিক সংস্কৃতির মেলবন্ধনে কাজের খাতিরে বাঙালি খাদ্য সমস্যা, ভাষা সমস্যাকে জয় করে প্রবাসে দেশের প্রতিনিধিত্ব করছে। কারণ বাঙালিতো হারতে পারেনা, তাকে জিততে হবে। জয়ের নেশায় তাকে ছুটতে হবে অবিরাম, বাঙালির শ্রম সাধনা আর তীক্ষè মেধায় অবাক হয়ে যায় নানা দেশের, নানা জাতির লোক। দেশে বিদেশে রচিত হয় অসংখ্য সাফল্যগাঁথা। তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ বিশ্বে এখন সবচেয়ে বেশি কর্মী প্রেরণকারী দেশ। বিশ্বের প্রায় ১৬৮টি দেশে ১ কোটি ২০ লাখ কর্মী কাজ করছে। আবার দিনে দিনেই দেশে দেশে বাংলাদেশের কর্মীদের চাহিদা বাড়ছে, বৈদেশিক শ্রমবাজার সম্প্রসারিত হচ্ছে। প্রবাসী কর্মীর একটি খুশির বার্তা ছড়িয়ে যাচ্ছে দেশময়। মা-বাবা, ভাই-বোন, স্ত্রী-সন্তান দেশে রেখে বিদেশ বিভূইয়ে তারা কতটা ভাল থাকেন তা আমরা দেশে অবস্থান করে অতটা অনুমান করতে পারিনা। তবে তাদের কে সবসময় শ্রদ্ধার আসনেই রাখি। তাদের ত্যাগ আমাদেরকে ছাড় দিতে শেখায়।

একটা খবরে গর্বে বুকটা ভরে উঠল। যেদিন শুনলাম সৌদি পতাকাকে সম্মান জানানোয় এক বাঙালিকে পুরস্কৃত করেছে সৌদি পশ্চিমাঞ্চলীয় মেয়র ফাহাদ বিন মোহাম্মদ আল জুবায়ের। ঘটনা: প্রচন্ড ঝড়ে দাম্মামে সৌদি আরবের পতাকা নিচে পড়ে গেলে বাংলাদেশি এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী মুলতাজিম কাজ ফেলে ছুটে গিয়ে পতাকাটি কাধে জড়িয়ে নেয়। দৃশ্যটি এক সৌদি নাগরিক ছবি তুলে পোস্ট করলে তা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পরায় তাকে পুরস্কৃত করার সিদ্ধান্ত নেন সৌদি পশ্চিমাঞ্চলীয় মেয়র। এ নিয়ে জনপ্রিয় দৈনিক সৌদি গেজেটে বাংলাদেশি কর্মীদের সততা ও দক্ষতার প্রশংসা করে তাদের সুযোগ সুবিধা বাড়ানোর দাবি করা হয়। কারণ তারা বুকের রক্ত দিয়ে সবুজ জমিনে লাল বৃত্তের পতাকা অর্জন করেছে। মালয়েশিয়ায় বড় অংকের রিঙ্গিত (মালয়েশিয়ার মুদ্রা) কুড়িয়ে পেয়েও তা সততার সঙ্গে কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দিয়ে সততার এক উজ্জল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন মালয়েশিয়া প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিক শেখ ফরিদ টিটু। তিনি বাংলাদেশের চাঁদপুর জেলার বাসিন্দা।

আবার মনটা খারাপ হয়ে গেল যেদিন শুনলাম জোহরা বেগম নামের এক সৌদি প্রবাসী গৃহকর্মী আত্মহত্যা করেছে। সাত মাস হয়ে গেল এখনও তার লাশ দেশে আসেনি। বড় অভাগী মুন্সিগঞ্জের জয়নাল মিয়ার মেয়ে জোহরা বেগম। বিয়ের কয়েক বছরের মধ্যে বিধবা হওয়া এক কন্যা সন্তানের জননী পরিবারের দুঃখ ঘুচাতে গিয়েছিলেন সৌদি আরব। কাজের কাজ কিছুই হলনা, মাঝখান দিয়ে ঝড়ে গেল আরেকটি মুকুল। আরেকটি ঘটনা আবু তাহের নামের হবিগঞ্জের নবীগঞ্জের এক যুবক ১০ অক্টোবর স্বপ্নের ইউরোপের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন। ইরান হয়ে তুরস্ক যাওয়ার পথে শাহরিয়ার নামক স্থানে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার মধ্য দিয়ে তার সমস্ত স্বপ্নের ইতি ঘটে যায়। আজরাইল তো জান কবচ করেই খালাস। সে তো আর লাশ দেশে পাঠাবে না। লাশ দেশে পাঠাতে টাকা লাগবে, টাকা। দালাল চেয়েছে সাড়ে তিন লাখ টাকা। প্রথমে তাহেরের পরিবার বিশ্বাসই করতে চায় নি। তবে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে নিহত তাহেরের রক্তমাখা ছবি পাঠিয়েছে যমের ভাইয়েরা। নিহতের বাড়িতে চলে শোকের মাতম। মা কখন একনজর দেখবে তার যাদু সোনর মুখখানা। সবাই অপেক্ষার প্রহর গুনছে। অনেক চেষ্টা তদবির করে ২২ নভেম্বর লাশ দেশে আনা হয়েছে। এরকম ঘটনা/দুর্ঘটনা প্রায়শই ঘটে থাকে। কেন ঘটে এরকম। এই প্রশ্নের অভ্যন্তরে একটিই জবাব থাকে তা হল দরিদ্রতা, লোভ, অসতর্কতা, অসচেতনতা আর সরকারের নির্দেশ অমান্য করে বিদেশ গমন। তার পরেও সরকার আন্তরিকভাবে সকল সমস্যা সমাধানে সচেষ্ট। সরকারি খরচে লাশ দেশে আনা, দাফনের ব্যবস্থ করা, নিহতের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য প্রদানসহ নানাবিধ প্রশংসনীয় উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। 

আরো কিছু খবর- কর্মী নেবে জাপান। উন্নত সভ্যতা ভব্যতা আর সত্য সুন্দর দেশ জাপান বাংলাদেশ থেকে স্থায়ী ভিত্তিতে দক্ষ কর্মী নেবে। জাপান বাংলাদেশী কর্মীদের জন্য লাভজনক শ্রমবাজার। জন্মহার কমের কারণে সেদেশ কর্মী সংকট প্রকট আকার ধারন করেছে। তাদের কর্মক্ষেত্র খালি পড়ে আছে। ফসলের মাঠে কাজ করছে বৃদ্ধরা। বিশেষ করে কৃষি খামার, নির্মান, নার্সিং, টিচিং এবং টেক্সটাইল খাতে দক্ষ লোকের অনেক অভাব। এজন্য জাপান সরকার অভিবাসী আইন কানুন শিথিল করে খসড়া আইনও অনুমোদন করেছে। তাতে বাংলাদেশী কর্মীদের অনেক কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে। বাংলাদেশ সরকার জাপানের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে জাপানি ভাষা শেখাসহ বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছে।

ইউরোপের দেশ ফিজিতে হতে পারে বাংলাদেশের কর্মীদের সম্ভাবনাময় শ্রমবাজার। দেশটিতে প্রচুর নির্মাণ শ্রমিকের অভাব। থাকা, খাওয়া ও ভালো বেতনসহ দেশটির অনুকূল আবহাওয়া বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল সম্প্রতি ফিজি ঘুর এসেছে। যুদ্ধ বিদ্ধস্ত ইরাকের শান্তিপূর্ণ বিদেশী কোম্পানীর মেগা প্রজেক্ট গুলোতে এবং বিভিন্ন নির্মান প্রকল্পে লক্ষাধিক কর্মী নিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে যা বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য অত্যন্ত খুশির খবর। কর্মী ঘাটতির কারণে জার্মানি ইমিগ্রেশন রুলস সহজ করেছে। আবার পোল্যান্ড বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেবে বলে আশ্বাস দিয়েছে। সেদিক থেকে জনশক্তি রপ্তানির সুখবর আসতে পারে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে আমাদের কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা শ্রমবাজার দখলে নিতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে। দীর্ঘ ৬ বছর নতুন কর্মী নিয়োগ ও ট্রান্সফার বন্ধ থাকার পর আরব আমিরাত সরকার তিন মাস সাধারণ ক্ষমার ঘোষণায় হাজার হাজার অবৈধ বাংলাদেশী কর্মী বৈধ  হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। দুবাইতে অবস্থানরত অবৈধ ৩৯ হাজার (প্রায়) বাংলাদেশী কর্মীর পাসপোর্ট নতুন করে ইস্যু করা হয়েছে। আবুধাবীতে বৈধ হওয়ার মেয়াদ বেড়েছে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

মালয়েশিয়া প্রসঙ্গ: কলিং হওয়া মালয়েশিয়া গমনেচ্ছুরা ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় পেয়েছেন। আগামী এক মাসের মধ্যেই নতুন প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়ায় কর্মী গমন শুরু হবে। মালয়েশিয়ায় বিদেশী শ্রমিক ব্যবস্থাপনায় স্বাধীন কমিটি চলতি মাসেই প্রতিবেদন দাখিল করবে। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমবাজার আরোও শক্তিশালী ও সম্প্রসারিত করতে গত ৩১ অক্টোবর হয়ে গেল বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের। আলোচনা সফল ও সন্তোষজনক পর্যায়ের। বাংলাদেশি কর্মীরা সহজতর উপায়ে অল্প খরচে এবং দ্রুততম সময়ে যেন মালয়েশিয়ায় গমন করতে পারে সে ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। তবে আগামী বছর থেকে মালয়েশিয়ায় বিদেশি শ্রমিকদের কর বাড়ছে ২০% এবং যুক্ত হচ্ছে ৩০০ থেকে ১৫০০ রিংগিত শ্রমিক বন্ড। এদিকে বাংলাদেশের হাইকোর্ট মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণে ১০ এজেন্সির অলিগোপলি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। রাজধানীর ফকিরাপুল থেকে র‌্যাব অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণের জন্য ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে।

বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর, বিদেশীদের জন্য সংকুচিত হচ্ছে সৌদির শ্রমবাজার। আর্থিক সংকট মোকাবেলা এবং স্থানীয়দের কাজের সুযোগ করে দিতেই সৌদি সরকার ১২ ক্যাটাগরিতে বিদেশি কর্মীদের নিষিদ্ধ করেছে। ১২টি ক্যাটাগরি হল: গাড়ী এবং অটোমোবাইল শো রুম, রেডিমেট ক্লথ স্টোর, হোম এবং অফিস ফার্নিচারস স্টোর, ইউটেনসিল স্টোর সমূহে বিদেশিদের নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। ইলেক্ট্রনিক্স স্টোর এবং ঘড়ি-চশমার দোকানে নিষিদ্ধ করা হয়েছে নভেম্বর থেকে। মেডিক্যাল ইকুইপমেন্ট এবং সাপ্লাই স্টোর, বিল্ডিং নির্মাণ সামগ্রী স্টোর, কার্পেট স্টোর, মিস্টান্ন ভান্ডারে আগামী জানুয়ারী ২০১৯ এর মধ্যে নিয়ন্ত্রণে আনবে। এই নীতির জেরেই বাংলাদেশি কর্মীরা ফেরৎ ও ধর পাকড়ের শিকার হচ্ছেন।

বৈধ কাগজপত্র থাকা স্বত্ত্বেও সৌদি আরব থেকে কিছু কর্মী ফেরত এসেছে। সৌদি ফেরৎ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ইউসুফ নুরুন্নবীর অভিযোগ: ওরা যাকে পাচ্ছে তাকেই ফেরৎ পাঠাচ্ছে। সে কাজ শেষে ঘুরতে বেড়িয়েছিল। তাই পুলিশ তাকে জেলে পুরে দিয়েছে। সেদি আরব থেকে কিছু শ্রমিক বড় বড় লাগেজ নিয়ে ফিরলেও যারা দাম্মাম থেকে ফিরছে তারা একেবারে খালি হাতে ফিরছে। সব কথার বড় কথা হল ওই দেশের পুলিশ কোন কথাই শুনতে চায়না। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফল কূটনৈতিক উদ্যোগের ফলে ২০১৫ সালে বাংলাদেশের জন্য সৌদি শ্রমবাজার মুসানেদ (২ জন মহিলা: ১জন পুরুষ) প্রক্রিয়ায় উন্মুক্ত হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে মুসানেদ প্রক্রিয়ার কারণে প্রচুর পরিমানে পুরুষ ভিসা থাকার পরও মহিলা কর্মীর কোটা না থাকার কারণে এসব পুরষ কর্মীকে সৌদি পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। কাতারেও কিছু সমস্যা চলছে। আইনজীবি ও মানবাধিকার কর্মীদের দাবি যে, সুরক্ষা ব্যতীত কাউকেই বিশেষ করে মহিলাদের যেন বিদেশে না পাঠানো হয়।

সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টায় কর্মী হিসেবে বিদেশে যাওয়ার সমস্ত সুযোগ সুবিধা এখন সহজতর এবং দ্রুততর করা হয়েছে। জেলা পর্যায়ে পৌছে গেছে সেবাদানকারী সব প্রতিষ্ঠান। সরকার প্রতিটি উপজেলায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করছে। সেখান থেকে সম্যক ভাষা জ্ঞান ও কারিগরি দক্ষতা অর্জন করে বিদেশে লোভনীয় কাজের সুযোগ থাকছে। আনাড়ি হয়ে কেউ আর বিদেশে যেতে পারবে না। দেশের ভাবমূর্তি উন্নয়নে এবং রেমিটেন্স আনয়নে বিদেশ গমনেচ্ছুদের ট্রেনিং আবশ্যক। গত ৭ নভেম্বরে ঢাকার মিরপুরে কারিগরি শিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন হয়ে গেল। বলা হয়েছে, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রবাসীদের সন্তানেরা ভর্তির ক্ষেত্রে কোটা সুবিধা পাবে।

প্রবাসীদের টাকা করমুক্ত রাখতে এনবিআর এর পক্ষ থেকে তাদের টিআইএন নম্বর করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দেশে প্রবাসীদের বিনিয়োগের জন্য তিনটি বন্ড চালু আছে। চলতি বছরে প্রবাসীরা তিনটি বন্ডে ১০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। সকল প্রবাসীদের বীমার আওতায় আনতে প্রবাসী কর্মী বীমা নীতিমালা চূড়ান্তকরণের লক্ষ্যে এটা আইডিআরএ তে আছে। সম্প্রতি প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকটি তফসিলি ব্যাংকের তালিকাভূক্ত হয়েছে।

বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক উদ্যোগে প্রবাসীদের সন্তানদেরকে বাংলাদেশি কায়দায় লেখাপড়া করানোর জন্য ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে মধ্যপ্রাচ্যে স্কুল প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সৌদি আরবে ও বাহরাইনে ৪টি স্কুল প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হয়ে গেছে। আর জর্ডান লেবানন, ইরাক, বাহরাইন, ব্রুনাইয়ে স্কুল প্রতিষ্ঠার জন্য ১৫০ কোটি টাকার চাহিদা পত্র পাওয়া গেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের শীর্ষ পর্যায়ের ফল ও সবজির বাজার আল আভিরের শতকরা ৭৫ ভাগ ব্যবসায়ী বাংলাদেশি। নিঃসন্দেহে এটি একটি সুখবর। এরকম আরোও অনেক সুখবর খবরের আড়ালে আছে। নাম না জানা  বীরদের রেমিটেন্স বাংলাদেশের জিডিপির ১২ শতাংশ। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, স্থানীয় বাজারে ডলারের উচ্চমূল্য এবং হুন্ডি ঠেকাতে সরকারে নানা উদ্যোগের কারণেই এই প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ২০১৮ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ৬ লক্ষ ১৫ হাজার কর্মী বিভিন্ন দেশে গমন করেছে এবং প্রবাস আয় ১৩,১১৬.৫৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশের সুগঠিত রিজার্ভ অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি এই রেমিটেন্স। বিভিন্ন দেশ থেকে শুধু অক্টোবর মাসেই পাঠিয়েছে ১২৩ কোটি ৯১ লাখ ডলার। অর্থবছরের প্রথম তিনমাসেই রেমিটেন্স বেড়েছে ১২%। বৈধ চ্যানেলের তুলনায় অবৈধ চ্যানেলে ডলারের বিনিময় হার বেশি থাকায় কাক্সিক্ষত রেমিটেন্স বাংলাদেশে আসছেনা। তাই রফতানির মতো রেমিটেন্সের উপর নির্ধারিত হারে প্রনোদনা দেওয়ার সুপারিশ করে বাংলাদেশ ব্যাংক কে পত্র দিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে বাংলাদেশকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

বস্তুত: দেশের কথা দেশের জনগণের কথা চিন্তায় নিয়ে প্রবাসীরা নানা কষ্ট করে দেশের উন্নয়নে জোরালো ভূমিকা রাখছেন। তাই দেশপ্রেমের ব্রত নিয়ে তাদের উচিৎ বৈধ চ্যানেলে টাকা পাঠানো এবং বিদেশে দেশের প্রতিনিধিত্ব করে দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য সংস্কৃতি তুলে ধরা। তাহলেই বাংলাদেশ অন্যান্য আন্তর্জাতিক মাত্রায় উন্নীত হবে এবং লাভবান হবে। আর বিদেশ গমনেচ্ছুদের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে ট্রেনিং নিয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে চাকরির নিশ্চয়তা ও অন্যান্য শর্তাবলী অবগত হওয়া সাপেক্ষে বিমানে ওঠা উচিৎ- এটাই অনুরোধ।

লেখক: জনসংযোগ কর্মকর্তা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়

সংবাদটি শেয়ার করুন

মতামত বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত