ফখরুল আতঙ্কে, শঙ্কায়

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৭:৫৪ | প্রকাশিত : ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৭:৪৮

আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কি না এ নিয়ে শঙ্কায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দেশে গণতন্ত্র টিকে থাকবে কি না তা নিয়ে আতঙ্কে তিনি। 

বিজয় দিবসে গতকাল রাজধানীর নয়াপল্টন থেকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বিজয় শোভাযাত্রা উদ্বোধন করে একথা বলেন ফখরুল। দলীয় কার্যালয়ে সামনে ট্রাকে অস্থায়ী মঞ্চ নির্মাণ করে এই শোভাযাত্রার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

এ সময় রাজধানীর বিভিন্ন আসন থেকে বিএনপি এবং তার জোটের শরিক দলের প্রার্থীরা তাদের সমর্থকদের নিয়ে মিছিলে অংশ নেন। 

বেলা সাড়ে ১১টার সময় একটা খোলা পিকআপ ভ্যানে চড়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মাহমুদুর রহমান মান্না, সুব্রত চৌধুরী, ঢাকা-১ আসনের প্রার্থী খন্দকার আবু আসফাক, ঢাকা-৪ আসনের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমেদ,  ঢাকা-৯ আসনের প্রার্থী আফরোজা আব্বাস, ঢাকা-১৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী আব্দুস সালাম অংশ নেন। পুরো শোভাযাত্রায় বিএনপির নির্বাচনী প্রতীক ধানের শীষ হাতে ধরে রাখেন প্রার্থীরা।

এবারের নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ ফখরুল বলেন, ‘এ দেশে গণতন্ত্র টিকে থাকবে কি না তা নিয়ে আমরা আজ আতঙ্কিত। আজ যে নির্বাচন কমিশন আছে, তারা সুষ্ঠু নিবাচন পরিচালনা করতে পারবে কি না তা নিয়েও আমরা শঙ্কিত।’

শোভাযাত্রাটি বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে শান্তিনগর মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের প্রতিকৃতির পাশাপাশি নেতা-কর্মীদের হাতে ছিল খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তারেক রহমানের মামলা প্রত্যাহারের দাবি সম্বলিত প্ল্যাকার্ড। জাতীয় পতাকা, দলের প্রতীক ধানের শীষ হাতে নিয়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেয় নেতা-কর্মী-সমর্থক।

ফখরুল বলেন, ‘সরকার নির্লজ্জভাবে বিরোধী দলের প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের নির্যাতন করছে। এ নির্বাচন আমাদের দেশের জনগণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ নির্বাচনে সিদ্ধান্ত হবে এ দেশে গণতন্ত্র থাকবে কি না, জনগণের বাক-স্বাধীনতা থাকবে কি না, আমাদের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মুক্ত হবে কি না।’

লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরিতে নির্বাচন কমিশন ব্যর্থ হয়েছে দাবি করে ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র বলেন, ‘সরকার নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে। সরকার নজিরবিহীনভাবে বিরোধীদলের নেতাকর্মী এমনকি প্রার্থীদেরও গ্রেপ্তার করছে, আমরা এমন পরিস্থিতি আগে কখনো দেখিনি।’

‘বিএনপির প্রার্থীদের ওপর হামলা ও প্রচারে বাধা দেয়া হচ্ছে। শনিবার আমাদের দলের নেতা মির্জা আব্বাসের ওপরে হামলা হয়েছে। নোয়াখালীতে মাহবুব উদ্দিন খোকনকে গুলি করা হয়েছে। ধানের শীষের প্রার্থী সুব্রত চৌধুরীর ওপর হামলা হয়েছে। ঢাকা-৫ আসনের প্রার্থী নবী উল্লাহ নবীর এলাকায় একজনকে পিটিয়ে মারা হয়েছে। রোজ রোজ প্রার্থীদের ওপর হামলা হচ্ছে, অথচ নির্বাচন কমিশন নির্বাক হয়ে তাকিয়ে থাকে, কিছুই করে না।’

গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিতে আমরা নিবাচনে অংশ নিচ্ছি। বর্তমানে যারা ক্ষমতায় আছেন তারা আবার ক্ষমতায় থাকার জন্য পুলিশ বাহিনীকে দলীয় বাহিনীর মতো ব্যবহার করছে। সারাদেশে আমাদের নেতাকর্মী ও প্রার্থীদের হামলা করা হচ্ছে।’ 

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ায় সরকারের পরিকল্পনা নস্যাৎ হয়ে গেছে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এবার ওয়াকওভার দেব না। আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, প্রার্থী দিয়েছি। তখন সরকারের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। সরকার একের পর এক নির্যাতন করছে বিরোধী নেতাকর্মীদের ওপর।’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান, জাসাস সাধারণ সম্পাদক চিত্রনায়ক হেলাল খানসহ ছাত্রদল, যুবদল, শ্রমিক দলের নেতা-কর্মীরা মিছিলে অংশ নেন।

ঢাকাটাইমস/১৬ডিসেম্বর/জিএম/ডব্লিউবি

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :