নর্থ সাউথে শেষ হলো উদ্ভাবনী প্রযুক্তি নিয়ে প্রতিযোগিতা

সায়রা সামসিয়া
 | প্রকাশিত : ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৩:১৭
শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রযুক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে শেষ হলো নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত ‘ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক প্রতিযোগিতা।

এবার ছিল প্রতিযোগিতার ষষ্ঠ আসর। প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন বিষয়ক এই প্রতিযোগিতার নিয়মিত আয়োজক ‘এনএসইউ এসিএম স্টুডেন্ট ক্লাব’।  

নতুন নতুন উদ্ভাবন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনেই অনুষ্ঠিত হয় ‘ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ’। মূলত নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ ও কম্পিউটার প্রকৌশল বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ আট মাসব্যাপী চলা দুইটি কোর্সে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে প্রযুক্তি প্রকল্প তৈরির প্রতিযোগিতা এটি।

এখানে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম তিন বছরে অর্জিত জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের মূখ্য বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো প্রকল্প উপস্থাপন করে থাকেন। 
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্লাজা এরিয়াতে মোট ৬২ টি প্রকল্পের প্রদর্শনী হয়েছে এবার।

উল্লেখযোগ্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে ছিল চিকিৎসা সহায়তার প্রযুক্তিগুলো, দৈনন্দিন কাজে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সহয়তা করা প্রযুক্তি এবং প্রাকৃতিক ও মানবনির্মিত কাঠামো বজায় রাখার প্রযুক্তি। প্রদর্শনীতে শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের অংশগ্রহণ ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ ও কম্পিউটার প্রকৌশল বিভাগের চেয়ারম্যান ড. সাজ্জাদ হোসেন। ইভেন্টের বিচারকরা হলেন- ইসিই 

বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. শাহনেওয়াজ সিদ্দিকী, সিনিয়র লেকচারার মি. রিশাদ আরিফিন, লেকচারার ড. আশফিয়া বিনতে হাবিব, মো. নাকিব ইমতিয়াজ হোসেন এবং ফাহিমুল হক। 


প্রতিটি অংশগ্রহণকারী দল তাদের প্রজেক্ট তুলে ধরার জন্য পর্যাপ্ত সময় পান।  প্রকল্পের সম্পূর্ণতা, উপস্থাপনার স্বচ্ছতা, উদ্যোক্তা এবং উদ্ভাবনী ধারণার সৃজনশীলতার ভিত্তিতে প্রতিটি দলকে স্কোর করা হয়।

প্রদর্শনী শেষে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। ‘ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ সিজন ৬’ এর চ্যাম্পিয়ন থেরোমাইলেট্রিক ডিভাইস এবং স্মার্ট মনিটরিং সিস্টেমের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকল্পটি।

ডা. সাজ্জাদ হোসেনের তত্ত্বাবধানে দলটির সদস্য ছিলেন শিহাব আহমেদ, ওয়াসিফ মোহাম্মাদ ইব্রাহিম, আবদুল্লাহ আল মাহমুদ এবং  আফরান সরোয়ার। 
প্রথম রানার-আপ পজিশন দুই দলের মধ্যে টাই হয়। প্রথম দলের প্রজেক্ট ছিল আইসিইউ রোগীর জন্য প্রাথমিক শিক্ষানবীশ ব্যবস্থা, মেশিন লার্নিং এবং ক্লাউড কম্পিউটিং ব্যবহার করা। ইসিই বিভাগের লেকচারার জনাব জুনায়েদ বিন জহিরের তত্ত্বাবধানে দলটির সদস্য ছিল আসিফ আহমেদ নিলয়, মুহাম্মদ শাফায়াত ওশমান, মো. মঞ্জুরুল ইসলাম এবং মো. জুলহাস হোসেন।

দ্বিতীয় দলটির প্রজেক্ট ছিল রক্তের কোষের শ্রেণিবিভাগের জন্য একটি গভীর সংশ্লেষীয় নিউরাল নেটওয়ার্ক তৈরি। ইসিই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মাহদি রহমান চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে দলটির সদস্য ছিলেন তামিম জাহান অনিক, তামান্না রহমান, সব্যসাচী বিশ্বাস, সৈয়দ আবু রায়হান এবং আইমান রহমান। 

দ্বিতীয় রানার-আপ পুরস্কারও দুই দলের মধ্যে ভাগ করা হয়েছিল। এ প্রকল্পের মধ্যে একটি হলো হেড মোশন কন্ট্রোল হুইলচেয়ার, অ্যাক্সিলেরোমিটার ব্যবহার। ইসিই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. নাবিল মোহাম্মদের তত্ত্বাবধানে দলটির সদস্য ছিলেন মো. মাহমুদ উল ইসলাম, হাসিবুল হাসান রাহাত এবং মো. রাইসুল ইসলাম। 

অন্য প্রকল্পটি ছিল দ্বি-চক্র, যেটি উপস্থাপন করেন খন্দকার তানজিম আলমের নেতৃত্বে এবং ইসিই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. তানজিলুর রহমানের তত্ত্বাবধানে গঠিত একটি দল। দলে আরো ছিলেন মো. রবিউল আলী সরকার এবং আসমা বিনতে আনোয়ার।  
 
 

সংবাদটি শেয়ার করুন

শিক্ষা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত