হেভিওয়েট কামালে ‘নীরব’ সবাই

রেজা করিম
 | প্রকাশিত : ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৯:৪১
নিার্বচনী সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল

তেজগাঁও, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, শের-ই-বাংলা নগর ও হাতিরঝিল থানা এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১২ আসনে পুরোদমে প্রচারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তবে তার প্রতিদ্বন্দ্বীরা মাঠে নেই সেভাবে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ২৪, ২৫, ২৬, ২৭, ৩৫ ও ৩৬ নং ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত আসনটি। ভোটার ৩ লাখ ৩৯ হাজার ৭১৮ জন। কামালের পাশাপাশি প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির সাইফুল আলম নীরব (ধানের শীষ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ শওকত আলী হাওলাদার (হাতপাখা), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি (কোদাল), জাতীয় পার্টির নাসিরউদ্দিন সরকার (লাঙ্গল) ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির শাহীন খান (আম)।

এলাকার বড় রাস্তা থেকে ছোট রাস্তা, উড়াল সড়কের দেয়াল ও স্তম্ভ, বড় গলি থেকে সরু গলিই শুধু নয়, বাদ যায়নি হাট-বাজারও। নৌকার সাদা-কালো পোস্টার ঝুলছে সব জায়গায়। কিছু দূর পরপর স্থাপিত নির্বাচনী প্রচারণার অস্থায়ী ক্যাম্পগুলোও সরব নৌকা মার্কার প্রচারণায়।

এলাকাজুড়ে গণসংযোগ চালানোর পাশাপাশি বর্ণিল সাজে সজ্জিত ক্যাম্পগুলোতে ভরপুর চায়ের আড্ডাতেও মেতে রয়েছেন নৌকার সমর্থকরা। নৌকায় ভোট প্রার্থনার মাইকিংও আসছে কানে।

বিপরীতে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির ‘কোদাল’ ছাড়া আর কারও দেখা মিলছে না। মাইকিং, গণসংযোগ তো নেইই। স্থানীয়রা জানান, ‘নৌকা’ আর ‘কোদাল’ ছাড়া অন্য কোনো পোস্টার চোখে পড়ে না সেভাবে। বিশেষভাবে নীরব বিএনপির প্রার্থী সাইফুল আলব নীরব।

মগবাজার এলাকার মুদি দোকানি আব্দুর রহমান বললেন, ‘এখানে আওয়ামী লীগের দাপট। বিএনপির নীরব এ আসনে প্রার্থী হলেও এখনো তার কোনো পোস্টার দেখি নাই। ধানের শীষের পক্ষেও ভোট চাইতে আসেনি কেউ।’

নৌকা প্রতীকে আসাদুজ্জামান কামাল নির্বাচন করছেন জানলেও অন্যদের কারও নামই বলতে পারেননি মধুবাগ কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রেতা শুক্কুর আলী। তিনি বলেন, ‘নৌকা ছাড়া তো আর কারও পোস্টার দেহি না। বিএনপির কেডা ভোট করতাছে হেইডা তো জানি না।’

আসাদুজ্জামান খান কামালের নির্বাচনী প্রচারণার প্রধান সমন্বয়ক আবদুর রশিদ বলেন, ‘নির্বাচন ঘিরে প্রত্যেক ওয়ার্ডে প্রচারণা কমিটি করা হয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে প্রার্থী নিজে ভোটারদের দুয়ারে ভোট প্রার্থনা করছেন। এলাকায় এলাকায় মতবিনিময় করা হচ্ছে। সেখানে সরকারের সফলতা ও ১০ বছরে দেশের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরা হচ্ছে। জনগণ নৌকার প্রচারণাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে। আগামী নির্বাচনে নৌকা এ আসনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে বলে প্রত্যাশা করছি।’

প্রকাশ্যে নেই নীরব

কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব প্রার্থী হয়েছেন, এই ঘোষণা ছাড়া বিএনপির তৎপরতা নেই বললেই চলে। মগবাজার, নাখালপাড়া, মধুবাগ, সাতরাস্তা, মহাখালী বাসস্ট্যান্ড এলাকা ঘুরে কোথাও তার পক্ষে একটিও পোস্টার চোখে পড়েনি। গণসংযোগে তাকে কেউ দেখেনি স্থানীয় ভোটাররা।

এমনকি ফোনেও কথা বলা যায়নি তার সঙ্গে। কারণ, ফোন নম্বর বন্ধ। ঘনিষ্ঠজনরা জানান, হোয়াটসঅ্যাপ ছাড়া তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায় না।

তবে বিএনপির প্রার্থী বলে নীরব যে একেবারে ছেড়ে কথা বলবেন সেটা নয়। কারণ, দলটির বিরাট সমর্থক গোষ্ঠী আছে যারা নিজেদের মতো করে কাজ করছেন। সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে চলছে প্রচার। বাড়ি বাড়িও যাচ্ছেন কেউ কেউ।

সাতরাস্তা এলাকায় কথা হলো এক পান বিক্রেতার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বিএনপির পোস্টার না থাকলে কী হবে, সময় হইলে হবে। আমাগো মনের মইধ্যে পোস্টার আছে। ভোটের দিন দেখায়া দিমু।’

কেন্দ্রীয় যুবদল নেতা গিয়াস উদ্দিন মামুন ঢাকা টাইমসকে এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘সরকারি দলের নেতাকর্মীরা পোস্টার লাগাতে দিচ্ছে না। লাগালেও তা ছিঁড়ে ফেলে। কেউ পোস্টার লাগাতে গেলেই তাদের আটক করা হচ্ছে। শনিবার রাতেও পোস্টার লাগাতে গেলে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।’

‘এর মাঝে এক দিন বিএনপি প্রার্থী নীরব গণসংযোগ করতে গিয়ে বাজে পরিস্থিতিতে পড়েন। নেতাকর্মীরাও প্রচারণায় গিয়ে অনেক সময়ই বিপাকে পড়েছেন।’

এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি সফিউল্লাহ সফি বলেন, ‘আমরা বিএনপির পোস্টার লাগাতেও দেখি না, ছিঁড়তেও দেখি না। ভোটের মাঠে তাদের কোনো কর্মীদেরও দেখি না। তারা বরাবরই অভিযোগ দিয়ে এসেছে। এবারও তাই দিচ্ছে।’

কামালের জয়ের বিষয়ে আশাবাদী তার এই ভক্ত। বলেন, ‘বিগত বছরগুলোতে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। রাস্তাঘাট এখন মসৃণ, ফ্লাইওভার নির্মাণে দূর হয়েছে যানজট। হাতিরঝিল এখন গোটা শহরের মনোযোগের কেন্দ্রে। জনগণ উন্নয়নে বিশ্বাস করে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তারা নৌকায় ভোট দেবে।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :