জীবন রক্ষায় মোর্স কোড

মো. শহীদুল্লাহ কায়সার
 | প্রকাশিত : ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ১০:২০

ইংরেজি ভাষার কথাবার্তা কোড দিয়ে সহজ পদ্ধতিতে বলার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি মাধ্যম হলো মোর্স কোড।  ইংরেজি ২৬টি বর্ণের পরিবর্তে মাত্র ২টি অক্ষর মোর্স কোডে ব্যবহৃত হয়। একটি ফুল স্টপ এবং একটি ড্যাশ হলো এর বর্ণমালা। এটি তার দিয়ে এবং ওয়্যারলেসের মাধ্যমেও পাঠানো যায়। টর্চ লাইটের আলো ফেলেও বোঝানো যায়। যা দিয়ে প্রাচীনকালে টেলিগ্রাফ, টেলিগ্রাম করা হতো। 

বহুকাল আগে সামরিক বাহিনীর সদস্যরা এই গোপন কোড ব্যবহার করে যুদ্ধের সময় নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করতেন। যে কোনো সিগন্যাল, শব্দ, আলো, ইশারা দিয়ে যদি আপনি ‘অল্প সময়’ ও ‘বেশি সময়’ ধরে প্রয়োগ করতে পারেন, তাহলেই এ ভাষায় কথা বলতে পারবেন।

ইংরেজিতে বলে ডট ও ড্যাশ। যা মাত্র দুই বর্ণের খুবই সহজ একটি ভাষা। এটি দিয়ে হাতে লিখেও মনের ভাব প্রকাশ করা সম্ভব। বহু আগে একবার জাপানে একটি পারমাণবিক ডুবোজাহাজ সাগরে দুর্ঘটনায় ডুবে গিয়েছিল। জাহাজের ভেতরের পাওয়ার জেনারেটিং সিস্টেম ও ব্যাটারি ব্যাকআপ অকেজো হয়ে গিয়েছিল। ফলে কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে সব যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এমনকি তার এক্সিট গেটটিও খুলছিল না। এমন সংকটপূর্ণ মুহূর্তে  মোর্স কোড জানা এক ডুবুরি হঠাৎ খেয়াল করলেন ওই ডুবোজাহাজের ভেতর থেকে হাতুড়ি ঠোকার মতো শব্দ হচ্ছে। উনি কান পেতে ঠিকই সেই মোর্স কোডগুলো ডি কোড করে বুঝতে পারলেন ভেতরে বেঁচে থাকা নৌবাহিনীর লোকজন কীরকম সাহায্য চাইছেন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি তার চাবির রিং দিয়ে ডুবোজাহাজের ধাতব শরীরে ঠুকে ঠুকে মোর্স কোডেই তার উত্তর দিয়ে যাচ্ছিলেন এবং তাদের সাহস জুগিয়েছিলেন। এই পদ্ধতিতে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে পরে তাদের জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়। 

ধরুন আপনি জেনারেটরবিহীন ভবনের কোনো লিফটের ভেতরে আটকা পড়লেন, বিদ্যুৎ নেই। হঠাৎ লিফট নষ্ট হয়ে গেল। ভেতরে মোবাইল নেটওয়ার্ক নেই, আলো নেই, আপনার সঙ্গে নারী ও ছোট বাচ্চা আছে। এমন জরুরি মুহূর্তে যদি আপনার মোর্স কোড জানা থাকে, আপনি লিফটের দরজায় কয়েন বা, চাবির রিং দিয়ে ঠুকে বিপদবার্তা জানাতে পারেন। তবে উদ্ধারকারী দলকেও তা জানা থাকতে হবে। নইলে আপনার সব আকুতি ঠোকাঠুকিই থেকে যাবে, ভাষায় আর প্রকাশ পাবে না। তবে বিশ্বের সব হ্যামগণ এই মোর্স কোড জানেন। আপনিও শিখে রাখতে পারেন। ইন্টারনেটে এ সম্পর্কিত অনেক তথ্য পাবেন।

(ঢাকাটাইমস/১৭ডিসেম্বর/এজেড)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :