যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চালু রাখার অঙ্গীকার ঐক্যফ্রন্টের

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
 | প্রকাশিত : ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৩:১৩

স্বাধীনতাবিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সমন্বয় করে ভোটে লড়া ঐক্যফ্রন্ট ক্ষমতায় এলে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চালু রাখার ঘোষণা দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি তারা।

সোমবার রাজধানীতে একটি হোটেলে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার সময় এ কথা বলেন ফ্রন্টের নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না। এ সময় জোটের প্রধান নেতা ড. কামাল হোসেনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ঐক্যফ্রন্টে জামায়াতের অংশগ্রহণ না থাকলেও এই জোটের সবচেয়ে বড় দল বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ স্বাধীনতাবিরোধী দলটি। মানবতাবিরোধী অপরাধে দলটির শীর্ষ নেতা একাত্তরের খুনি বাহিনী আলবদর নেতা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, মীর কাসেম আলী, মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। গণহত্যার দায়ে প্রথম মৃত্যুদণ্ড হয় আরেক নেতা আবদুল কাদের মোল্লার।

আলবদর নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম ও শান্তি কমিটির নেতা আবদুস সুবহান মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন। জামায়াতের আরেক নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী আমৃত্যু কারাদণ্ড নিয়ে বন্দি।

দল হিসেবেও জামায়াতের বিচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইনে সংগঠনের বিচারের কথা কিছু বলা নেই বলে আইন সংশোধনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

এই দলটিরই ২২ জন নেতা এবার ভোটে লড়ছেন ঐক্যফ্রন্টের প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে। আর এই বিষয়টি নিয়ে জোট নেতারা স্পষ্ট কোনো বক্তব্য দিতে চাইছেন না। জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্কের কথা জানতে চাওয়ায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে সাংবাদিকদেরকে ‘চুপ থাকো’, ‘খামোশ’ বলে ধমকেছেন ড. কামাল হোসেন। পরে অবশ্য বিবৃতি দিয়ে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চলাকালে বিএনপি সরাসরি এর সমর্থন বা বিরোধিতা না করলেও ‘আন্তর্জাতিক মানের বিচারের’ দাবি তুলে পরোক্ষভাবে এই প্রক্রিয়ার সমালোচনা করেছে। আর দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মানবতাবিরোধী অপরাধী জামায়াত নেতাদের নির্দোষ দাবি করে তাদের মুক্তিও চেয়েছেন জনসভা করে।

এই পরিস্থিতিতে এই বিচার চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা অবশ্য দেননি ঐক্যফ্রন্ট নেতারা। তারা কোনো প্রশ্নও নেননি বিষয়টি নিয়ে।

ইশতেহারে বলা হয়, নির্বাচনে জিতলে সব নাগরিকের কল্যাণে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। প্রতিহিংসার রাজনীতি দূরীকরণ, নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল, ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা ও বিকেন্দ্রীকরণ, দুর্নীতি দমন ও সুশাসনসহ ১৪টি খাতে আমূল পরিবর্তন আনবে ঐক্যফ্রন্ট সরকার। পুলিশ ও সামরিক বাহিনী ছাড়া সরকারি চাকরিতে প্রবেশের কোনো সময়সীমা রাখবে না ঐক্যফ্রন্ট সরকার।

তারা ক্ষমতায় এলে পরপর দুই মেয়াদের বেশি একজন প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না- এমন ব্যবস্থা করবে বলেও ইশতেহারে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আবদুল কাদের সিদ্দিকী, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি জাফরুল্লাহ চৌধুরী, গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু ও রেজা কিবরিয়া এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকাটাইমস/১৭ডিসেম্বর/ওআর/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :