মার্কিন সিনেটের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান সৌদির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ২০:২৫

ইয়েমেনে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন যুদ্ধে মার্কিন সামরিক সহযোগিতা বন্ধে দেয়া মার্কিন সিনেটের প্রস্তাবকে ‘হস্তক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করে তা প্রত্যাখ্যান করেছে রিয়াদ। সৌদি আরবের কট্টর সমালোচক জামাল খাসোগিকে হত্যার ঘটনায় জড়িত দেশটির প্রভাবশালী যুবরাজের প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করে নিতেও বলা হয়েছে মার্কিন সিনেটের ওই প্রস্তাবে।

সরকারি সৌদি প্রেস এজেন্সি পরিবেশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, সৌদি আরব মার্কিন সিনেটের সর্বশেষ এই অবস্থানের নিন্দা জানিয়েছে। মার্কিন সিনেটের আনা এমন অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। এটি সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অযাচিত হস্তক্ষেপ। রিয়াদ যুক্তরাষ্ট্রের এমন পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করছে। এদিকে বৃহস্পতিবার মার্কিন সিনেট ভোট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য নতুন করে আরেকটি সতর্কবার্তা। কেননা, ইয়েমেন সংঘাত ও জামাল খাসোগির হত্যা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমালোচনার ঝড় ওঠা সত্ত্বেও তিনি অবিচলিত ভাবে সৌদি আরবকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন।

সোমবার সৌদি প্রেস এজেন্সিতে প্রকাশিত দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, মার্কিন সিনেটের সাম্প্রতিক অবস্থানের মূলে রয়েছে ভিত্তিহীন অভিযোগ। এটি অভ্যন্তরীণ, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সৌদি আরবের ওপর অশোভন হস্তক্ষেপ।

খাসোগি হত্যাকাণ্ডের বাইরে ইয়েমেনে নৃশংসতার জন্যও সৌদি আরবকে দায়ী করে দেশটিতে অস্ত্র বিক্রি নিষিদ্ধের পক্ষেও মত দিয়েছেন মার্কিন সিনেটররা। সিনেটের এই দুই প্রস্তাবে সমর্থন দানকে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স উল্লেখ করেছে, কংগ্রেসে পাস না হলে অস্ত্র বিক্রি বন্ধের প্রস্তাব পাস করানো বিফল হবে। প্রস্তাবটিকে আইনে পরিণত করতে গেলে দরকার মার্কিন কংগ্রেসের সমর্থন। কিন্তু সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য রিপাবলিকান। তারা মনে করেন, ইরানকে ঠেকাতে সৌদি আরবের সহায়তা দরকার যুক্তরাষ্ট্রের।

মার্কিন সিনেটরদের ৫৬ জন্য সৌদি আরবের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধের পক্ষে ভোট দিয়েছেন, আর বিপক্ষে গেছেন ৪১ জন। ইয়েমেনের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধের বিষয়ে সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন সাত জন রিপাবলিকানও। সিনেটের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ও রিপাবলিকান সিনেটর বব কোরকার বলেছেন, ‘জামাল খাসোগিকে হত্যার বিষয়ে সিনেট যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে দায়ী করার বিষয়ে প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়েছে। এটা খুবই কড়া একটি বার্তা। আমরা যেসব মূল্যবোধকে ধারণ করি এ প্রস্তাবনার মূল প্রেরণা সেসব মূল্যবোধ।’

ইয়েমেনের বিষয়ে ভোটাভুটি হওয়ার পর সিনেটে খাসোগির হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে দায়ী করে উত্থাপিত প্রস্তাবে ভোটাভুটি হয়। সেই প্রস্তাবনায় আরও বলা হয়, খাসোগি হত্যায় সৌদি আরবকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা উচিত। কিন্তু সৌদি আরবের বিষয়ে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক রাখার বিষয়েই মত ব্যক্ত করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সৌদি যুবরাজের পক্ষে দাঁড়াচ্ছেন। ট্রাম্প মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব বৃদ্ধি ঠেকাবার জন্য সৌদি আরবের উপস্থিতি অপরিহার্য। ইরান শক্তিশালী হয়ে উঠলে বিপদে পড়বে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ইসরায়েল।

ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ইয়েমেনে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্যও সৌদি আরবকে পাশে পাওয়া দরকার। সৌদি আরবের সমর্থন ছাড়া ইয়েমেনে ব্যর্থ হতে পারে শান্তি আলোচনা। তাছাড়া, ফিলিস্তিন-ইসরায়েল শান্তি প্রতিষ্ঠার যে চুক্তি নিয়ে কাজ করেছে যুক্তরাষ্ট্র, তাতেও সৌদি আরবের ভূমিকাকে অপরিহার্য মনে করে হোয়াইট হাউস।

সৌদি জোটের হামলায় ভয়াবহ সংকটে পড়েছে ইয়েমেন। দেখা দিয়েছে ব্যাপক দুর্ভিক্ষ। পুষ্টিহীনতায় ভুগছে লাখ লাখ শিশু। এমন অবস্থায় সেখানে হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে আসছে জাতিসংঘসহ বিশ্বের বিভিন্ন সংস্থা।

(ঢাকাটাইমস/১৭/ডিসেম্বর/একে)

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত