ফরিদপুরে রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে প্রার্থীদের মতবিনিময়

ফরিদপুর প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:০৩ | প্রকাশিত : ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ২০:২৯

‘নির্বাচনের পরিবেশ নেই, আমাদের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের হয়রানি করছে পুলিশ, নির্বাচনী সংঘর্ষে আ.লীগ নেতা নিহত হলো আসামিদের ধরা হচ্ছে না, অশান্ত হয়ে উঠেছে ফরিদপুর-৪ সংসদীয় এলাকার পরিস্থিতি।’

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ফরিদপুর জেলা প্রশাসক উম্মে সালমা তানজিয়ার নিকট এমনই নানা অভিযোগ তুলে ধরেন ফরিদপুরের চারটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কিংবা তার প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট।

জবাবে, রিটানিং কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা নিরপেক্ষ ভাবে প্লেয়িং ফিল্ড করে দিয়েছি। যেসব অভিযোগ এসেছে, তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
নির্বাচনকে সামনে রেখে ফরিদপুরের চারটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এ বিষয়গুলো আলোচনা হয়।
সোমবার দুপুর ১২টার দিকে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই সভায় রিটানিং কর্মকর্তার সঙ্গে পুলিশ সুপার মো. জাকির হোসেন খান উপস্থিত ছিলেন। এ সভাটি হয় রুদ্ধদ্বার।
সভাকালে কোন সংবাদকর্মীকে ওই সম্মেলন কক্ষে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। সভা শেষ করে রিটার্নিং কর্মকর্তা তার কক্ষে ওই সভায় আলোচনার বিষয়গুলো নিয়ে সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তা উম্মে সালমা তানজিয়া বলেন, বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা ও মধুখালী উপজেলা নিয়ে গঠিত ফরিদপুর-১ আসনে আ.লীগের প্রার্থী মনজুর হোসেন ও বিএনপির শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর উপস্থিত ছিলেন। তারা জানান- ‘নির্বাচন হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এবং ওখানে নির্বাচনী প্রচারে কোন সমস্যা নেই।’

রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, নগরকান্দা ও সালথা নিয়ে গঠিত ফরিদপুর-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী শামা ওবায়েদ তার নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও হয়রানির অভিযোগ এনেছেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, মামলা না থাকলে এ সময়ে কাউকে গ্রেপ্তার করার কথা নয়। তবে তার অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হবে।
উম্মে সালমা তানজিয়া বলেন, ফরিদপুর সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত ফরিদপুর-৩ আসনে আ.লীগ প্রার্থী স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন উপস্থিত ছিলেন না। তার পক্ষে ছিলেন প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট এ এইচএম ফোয়াদ। ফোয়াদ নির্বাচনী প্রচারের আ.লীগের এক নেতাকে হত্যার ঘটনা উল্লেখ করে অভিযোগ করেন প্রশাসন আসামিদের ধরার ব্যাপারে আন্তরিক নন।

এ প্রসঙ্গে রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, এ হত্যার ঘটনায় কিছু আসামি গ্রেপ্তার করা হয়েছে, আরও আসামি গ্রেপ্তার করা হবে।
এ সভায় ফরিদপুর সদরের বিএনপি প্রার্থী চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ উপস্থিত ছিলেন। তিনি তার নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার ও হয়রানির অভিযোগ আনেন। পাশাপাশি নিজের নিরাপত্তার বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন।

উত্তরে রিটানিং কর্মকর্তা তাকে বলেন, আপনার নিরাপত্তা জোরদার করতে বাসার সামনে পুলিশ পাহারা বসানো হয়েছে। হয়রানির যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ভাঙ্গা, চরভদ্রাসন ও সদরপুর নিয়ে গঠিত ফরিদপুর-৪ আসন সম্পর্কে রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, গত তিন দিনে এ সংসদীয় আসনটি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এর জন্য নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, বাড়ানো হয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সংখ্যা। তিনি বলেন, আমরা আশা করছি ওই এলাকার উত্তপ্ত পরিস্থিতি দ্রুত প্রশমিত হয়ে আসবে।

(ঢাকাটাইমস/১৭ডিসেম্বর/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত