আ.লীগের অঙ্গীকারে গ্রামে শহরের সুবিধা

তানিম আহমেদ
 | প্রকাশিত : ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৮:২৯

গ্রাম ও মফস্বলে শহরের নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার নিয়ে আসছে আওয়ামী লীগ। এ ছাড়া দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ, মেগাপ্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের অঙ্গীকার থাকছে ক্ষমতাসীন দলের ইশতেহারে।

আগামী ৩০ ডিসেম্বরের ভোটকে সামনে রেখে আজ এই ইশতেহার প্রকাশ করবে আওয়ামী লীগ। অবশ্য দলটি কী কী করতে চায়, সে বিষয়ে ২০৪১ সাল পর্যন্ত ‘রূপকল্প’ নামে বিস্তারিত লক্ষ্য বর্ণনা করা আছে। তবে ইশতেহারে আলাদাভাবে ২১টি বিশেষ অঙ্গীকার থাকবে তাদের। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ যে ইশতেহার দেয় তার নাম ছিল ‘দিন বদলের সনদ’। এতে ২০২১ সাল পর্যন্ত নানা অঙ্গীকার ছিল। ২০১৪ সালের ইশতেহারের শিরোনাম ছিল, ‘শান্তি, গণতন্ত্র, উন্নয়ন এবং সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ’।

এবারের ইশতেহারের শিরোনামে থাকছে ‘সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’। আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য আবদুর রাজ্জাককে প্রধান করে করা একটি কমিটি এই ইশতেহার প্রণয়ন করেছে। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য মসিউর রহমান, এইচ টি ইমাম, অনুপম সেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আবদুল মান্নান, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, উপ-দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, ও ফরহাদ হোসেনও ছিলেন এই কমিটিতে।

ইশতেহার সাতটি অধ্যায়ে ভাগ করা হয়েছে। যার শুরুতে থাকবে ‘আমাদের অঙ্গীকার’ আর শেষ হবে ‘দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান’ দিয়ে।

অধ্যায়গুলো মধ্যে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকার আমলের সাফল্য, ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের ভূমিকা, ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত এবং পরে ২০১৪ থেকে চলতি সময় পর্যন্ত দুই মেয়াদে সাফল্য এবং আগামী পাঁচ বছরের (২০১৯-২০২৩) লক্ষ্য ও পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘আমরা ইশতেহার দেওয়ার জন্য দেই না। গত দুই নির্বাচনের আগে দেওয়া অঙ্গীকারের সিংহভাগ পূরণ হয়েছে। যেগুলো এখনো পূরণ হয়নি, সেগুলো বাস্তবায়নের শেষ পর্যায়ে। আগামীতে এসব কাজ শেষ করে নতুন কাজ শুরু করব। আর আওয়ামী লীগ যা বলে তা করে। এটা জনগণ জানে।’

গ্রামে নাগরিক সুবিধা

ইশতেহারে করা বিশেষ অঙ্গীকারের মধ্যে রয়েছে : আমার গ্রাম-আমার শহর: প্রতিটি গ্রামে আধুনিক নগর সুবিধা সম্প্রসারণ।

গত কয়েক মাস ধরেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গ্রাম এলাকায় নাগরিক সুবিধা বাড়ানোর কথা বলে আসছেন। আধুনিক সড়ক ও পয়ঃনিষ্কাষণ ব্যবস্থা, পরিকল্পিত বাড়িঘর নির্মাণ, ব্যবসা ও চাকরির সুযোগ তৈরির কথা বলে আসছেন তিনি। এর আওতায় গ্রাম এলাকায় দ্রুতগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবার বিষয়টিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অবকাঠামো উন্নয়নে বৃহৎ প্রকল্পগুলো দ্রুত শেষ করার অঙ্গীকারও করা হয়েছে ইশতেহারে। এর মধ্যে আছে পদ্মা সেতু, রূপপুর পরমাণু প্রকল্প, বড় বড় কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প, মহেশখালীতে এলএনজি টার্মিনালের কাজ দ্রুত শেষ করা।

এর বাইরে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাজ দ্রুত শেষ করে বিপুল কর্মসংস্থানের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে উল্লেখ থাকবে। আর এসব চাকরির জন্য যুবকদের উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ ও কারিগরি শিক্ষার বিকাশ করার কথাও বলা হচ্ছে।

আর যেসব অঙ্গীকার

দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ, নারীর ক্ষমতায়ন, লিঙ্গ সমতা ও শিশুকল্যাণ, পুষ্টিসম্মত ও নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা, সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদ নির্মূল, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন সুদৃঢ় করা, সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দারিদ্র্য নির্মূলের কথাও উল্লেখ থাকছে ইশতেহারে।

এর বাইরে সবস্তরে শিক্ষার মান বৃদ্ধি, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার নিশ্চয়তা, সার্বিক উন্নয়নে তথ্যপ্রযুক্তির অধিকতর ব্যবহার, আধুনিক কৃষিব্যবস্থা, দক্ষ ও সেবামুখী জনপ্রশাসন, জনবান্ধব পুলিশ প্রশাসন, ব্লু-ইকোনমি-সমুদ্র্র সম্পদ উন্নয়ন, নিরাপদ সড়কের নিশ্চয়তা, প্রবীণ কল্যাণ কর্মসূচি ও টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের কথাও বলা আছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আরও উন্নয়ন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের ব্যবস্থা; শিল্প উন্নয়ন; শ্রমিক কল্যাণ ও শ্রমনীতি; স্থানীয় সরকারব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করে জনগণের ক্ষমতায়নের বিষয়েও থাকছে অঙ্গীকার।

শিশুকল্যাণ, প্রতিবন্ধী ও প্রবীণকল্যাণ, নারীর ক্ষমতায়ন, মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী, ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও অনুন্নত সম্প্রদায়, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও অবাধ তথ্যপ্রবাহ, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও অখ-তা সুরক্ষা, পররাষ্ট্র, এনজিও ইত্যাদি বিষয়ে সরকারের অর্জন-সংক্রান্ত বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে ইশতেহাতে। 

মুজিববর্ষ পালন

২০২১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীকে এরই মধ্যে মুজিববর্ষ হিসেবে পালনের ঘোষণা এসেছে। এই বিষয়টিও ইশতেহারে গুরুত্ব পাবে।

এ ছাড়া ২০৩০ সালে এসডিজি বাস্তবায়ন; বদ্বীপ বা ডেল্টা পরিকল্পনা ২১০০; জননেত্রী শেখ হাসিনার ‘সম্মোহনী নেতৃত্বের’ বিশ্বজনীন স্বীকৃতি ও ভবিষ্যৎ দিকদর্শনের বিষয়টি থাকছে ইশতেহারে।

অন্য অধ্যায়ে আরও রয়েছে: নির্বাচন ও কার্যকর সংসদ; আইনের শাসন ও মানবাধিকার সুরক্ষা; দক্ষ, সেবামুখী ও জবাবদিহিতামূলক প্রশাসন; জনবান্ধব পুলিশ প্রশাসন গড়ে তোলা; জঙ্গিবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও মাদক নির্মূল; সামষ্টিক অর্থনীতি: উচ্চ আয়, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন; কৌশল ও পদক্ষেপ।

তরুণ যুবসমাজ: ‘তারুণ্যের শক্তি-বাংলাদেশের সমৃদ্ধি’ ; দারিদ্র্য বিমোচন ও বৈষম্য হ্রাস; কৃষি, খাদ্য ও পুষ্টি: খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনের নিশ্চয়তা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :