আট আসনে বিএনপি প্রার্থীশূন্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
 | প্রকাশিত : ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৯:৫১

নির্বাচন কমিশন বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেওয়া বিএনপির আটজন নেতার ভোট আটকে গেল উচ্চ আদালতের আদেশে। আবার একটি আসনে বিএনপির একজনকে অবৈধ ঘোষণা করে অন্য একজনকে প্রতীক দিতে বলা হয়েছে। বাকি আটটি আসনে বিএনপির কোনো প্রার্থীই নেই।

গতকাল যাদের বিষয়ে আদেশ এসেছে, তারা হলেন ঢাকা-১ আসনের খন্দকার আবু আশফাক, ঢাকা-২০ আসনের তমিজ উদ্দিন, মানিকগঞ্জ-৩ আসনের আফরোজা খান রিতা, বগুড়া-৩ আসনের আবদুল মুহিত তালুকদার, বগুড়া-৭ আসনের মোরশেদ মিল্টন এবং চাঁদপুর-৪ আসনের এম এ হান্নান।

এর আগে সিলেট-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর লুনা এবং জামালপুর-১ আসনে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের প্রার্থিতাও স্থগিত করে একটি আদালত। এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়েছেন দুজন।

গতকাল যাদের বিষয়ে আদেশ এসেছে তাদের মধ্যে তিনজনের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তে। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনসহ সাত সদস্যের আপিল বেঞ্চের এই সিদ্ধান্তের ফলে এই বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। এই তিন প্রার্থী হলেন ঢাকা-২০ আসনের তমিজ উদ্দিন, বগুড়া-৩ আসনের মুহিত তালুকদার এবং মানিকগঞ্জ-৩ আসনের আফরোজা খান রিতা।

বাকি তিনটি সিদ্ধান্ত এসেছে হাইকোর্টের বেঞ্চ থেকে। ফলে এই প্রার্থীরা উচ্চ আদালতে যেতে পারবেন আবার।

আপিল বিভাগে তিন প্রার্থীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী ও প্রবীর নিয়োগী। নির্বাচন কমিশনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মাহবুবে আলম। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী সানজিদ সিদ্দিকী।

সানজিদ সিদ্দিকী বলেন, ‘আপিল বিভাগের আদেশের ফলে বিএনপি মনোনীত এই তিন প্রার্থী আর নির্বাচন করতে পারছেন না।’

আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তে বাদ তিনজন

তমিজ উদ্দিন

ঢাকা-২০ আসনে বিএনপির প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণায় নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে রিট করেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী বেনজির আহমেদ। শুনানি শেষে ১১ ডিসেম্বর হাইকোর্ট তমিজ উদ্দিনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণায় ইসির সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হয়। এ কারণে আটকে যায় তমিজ উদ্দিনের নির্বাচনে অংশ নেওয়া।

এই আদেশের বিরুদ্ধে আবেদন করেন তমিজ উদ্দিন। চেম্বার বিচারপতি হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত করেন। ফলে তমিজ উদ্দিনের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পথ খুলে যায়। তবে গতকাল শুনানি নিয়ে আপিল বিভাগ চেম্বার বিচারপতির দেওয়া স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নেয়। ফলে তমিজের উদ্দিনের নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথ আবার আটকে যায়।

আফরোজা খান রিতা

মানিকগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী ঋণখেলাপি হওয়ার পরও তার মনোনয়নপত্র গ্রহণের সিদ্ধান্ত দেয় নির্বাচন কমিশন। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করে সোনালী ব্যাংক। হাইকোর্ট রিতার মনোনয়নপত্র স্থগিত করে। এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করলে গতকাল আপিল বিভাগ কোনো আদেশ (নো অর্ডার) দেয়নি। ফলে আগামী নির্বাচনে রিতাও অংশ নিতে পারছেন না।

মুহিত তালুকদার

বগুড়া-৩ আসনে প্রার্থিতা ফিরে পেতে আবদুল মুহিত তালুকদার হাইকোর্টে রিট করেন। এরপর গত ৯ ডিসেম্বর তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করতে ইসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এই আদেশ স্থগিত চেয়ে ইসি আবেদন করে আপিল বিভাগে। শুনানি নিয়ে ১১ ডিসেম্বর চেম্বার বিচারপতি হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে বিষয়টি আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান। শুনানি নিয়ে গতকাল আপিল বিভাগ চেম্বার বিচারপতির দেওয়া স্থগিতাদেশ বহাল রাখে।

হাইকোর্টের সিদ্ধান্তে ভোটের বাইরে চারজন

আবু আশফাক

নবাবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান খন্দকার আবু আশফাকের পদত্যাগপত্র গৃহীত হওয়ার আগেই তিনি ঢাকা-১ আসনে প্রার্থী হতে মনোনয়নপত্র জমা দেন। রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করলেও আপিলে ফিরিয়ে দেয় নির্বাচন কমিশন।

তবে কমিশনের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে রিট করেন বিকল্পধারার জালাল উদ্দিন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ এম আমিন উদ্দিন। সঙ্গে ছিলেন শামীম আহমেদ মেহেদী ও আব্দুল কাইয়ুম।

আমিন উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘ইসি মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছিল। নির্বাচন কমিশনের ওই সিদ্ধান্ত হাইকোর্ট স্থগিত করে দিয়েছে। কমিশনের সিদ্ধান্ত স্থগিত হওয়ায় আশফাক আপাতত আর নির্বাচন করতে পারছেন না।’

মোরশেদ মিল্টন

বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) আসনে বিএনপির এই প্রার্থীর প্রার্থিতাও বাতিল করেছে হাইকোর্ট। এ-সংক্রান্ত এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি খায়রুল আলমের বেঞ্চ এই আদেশ দেয়।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক। তার সঙ্গে ছিলেন সেলিনা আক্তার।

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিকল্প প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন মিল্টন। কিন্তু উপজেলা চেয়ারম্যান থেকে পদত্যাগ না করায় তার মনোনয়ন অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। পরে আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পান নির্বাচন কমিশন থেকে।

তবে উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ সঠিকভাবে হয়নি দাবি তুলে রিট করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ফেরদৌস আরা খান।

এম এ হান্নান

চাঁদপুর-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী এম এ হান্নানের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার আদেশ স্থগিত করে বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের বেঞ্চ।

এম এ হান্নান বেসরকারি ব্যাংক মার্কেন্টাইলের ভাইস চেয়ারম্যান। তার বিরুদ্ধে সোনালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের অভিযোগ ছিল। তবে গত ২ ডিসেম্বর যাচাই-বাছাই শেষে মনোনয়নপত্রটি বৈধ ঘোষণা করেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা।

তবে এই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট আবেদন করে সোনালী ব্যাংক। আর শুনানি শেষে হান্নানের মনোনয়নপত্রটি স্থগিত করেন দুই বিচারক।

আগে স্থগিত দুই আসন

সিলেট-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর লুনার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া সিদ্ধান্ত গত ১৩ ডিসেম্বর স্থগিত হয় হাইকোর্টে।

ওই আসনে মহাজোটের প্রার্থী জাতীয় পার্টির ইয়াহহিয়া চৌধুরীর আবেদনে এই সিদ্ধান্ত আসে। আরপিও অনুযায়ী সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার তিন বছর পর সংসদ সদস্য পদে প্রার্থী হওয়ার বিধান আছে। তবে লুনা ছয় মাস আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রারের পদ থেকে অব্যাহতি নেন।

কিন্তু রিটার্নিং কর্মকর্তা লুনার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার পর ইয়াহহিয়া চৌধুরীর আইনজীবী নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশন লুনার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে।

একই দিন জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) আসনে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের মনোনয়নপত্র স্থগিত করেছে হাইকোর্ট। ওই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবুল কালাম আজাদের করা রিটের শুনানি শেষে এই আদেশ আসে।

রশিদুজ্জামান মিল্লাত দুর্নীতির মামলায় দ-িত। এ কারণে রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। কিন্তু তিনি নির্বাচন কমিশনে আপিল করে প্রার্থিতা ফিরে পান।

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত