তত্ত্বাবধায়কে ফেরার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার নেই বিএনপির

নিজস্ব প্রতিবেদক
 | প্রকাশিত : ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৮:১২

নির্বাচনকালী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আট বছরেরও বেশি সময় ধরে আন্দোলন করে আসা বিএনপি ক্ষমতায় ফিরলে এই সরকারে ফিরবে কি না, সেটা সুস্পষ্টভাবে জানায়নি।

৩০ ডিসেম্বরের ভোটকে সামনে রেখে মঙ্গলবার বিএনপির পক্ষ থেকে প্রকাশ করা ইশতেহারে নির্বাচনকালীন সরকারের প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়। তবে সেখানে তত্ত্বাবধায়কে ফেরার কথা না বলে এই সরকারের অতীতের সমস্যার আলোকে সব দলের সঙ্গে আলাপ আলোচনার কথা জানানো হয়।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘নির্বাচন পরিচালনার জন্য একটি সরকার ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে যাতে ক্ষমতা কুক্ষিগতকরণের পুুনরাবৃত্তি না ঘটে। এই তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য অতীতের সমস্যার আলোকে নিরূপণ করা হবে এবং এই লক্ষ্যে সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে স্বচ্ছ আলাপ-আলোচনা করা হবে।’

এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছিল বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বাধীনত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে। জিতে বিএনপি। তারে শাসনামলে মিরপুর ও মাগুরা উপনির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে আওয়ামী লীগ নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন গড়ে তুলে।

এর মধ্যে বিএনপি ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি একতরফা নির্বাচন করে ক্ষমতায় আসে। কিন্তু সংসদে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিল পাস করেই পদত্যাগ করে ওই বছরের জুনে আবার নির্বাচন দেয়। এবার জেতে আওয়ামী লীগ।

২০০১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে আওয়ামী লীগ শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করে। তবে ২০০৬ সালে বিএনপি-জামায়াত জোটের ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে নানা ঘটনা ঘটে।

তখন বিধান ছিল, সবশেষ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হবেন তত্ত্বাবধায়কের প্রধান উপদেষ্টা। বিএনপির শাসনামলে বিচারপতিদের অবসরের বয়স দুই বছর বাড়ানোর পর কে এম হাসান এই পদের জন্য প্রধান বিবেচিত হন।

কিন্তু বিএনপির সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদককে মেনে নিতে রাজি ছিল না আওয়ামী লীগ এবং তাদের আন্দোলনের মুখে কে এম হাসান জানিয়ে দেন, তিনি তত্ত্বাবধায়কের প্রধান উপদেষ্টা হবেন না।

এরপর ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর তত্ত্বাবধায়কের প্রধান উপদেষ্টা হন বিএনপির রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমেদ। কিন্তু তার অধীনে নির্বাচনে যেতে রাজি হয়নি আওয়ামী লীগ এবং তার মহাজোটের শরিকরা। এই পরিস্থিতিতে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি জারি হয় জরুরি অবস্থা। তিন মাসের বদলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার থাকে প্রায় দুই বছর। ২০০৮ সালর ২৯ ডিসেম্বর হয় নির্বাচন। ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ।

সর্বোচ্চ আদালতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অবৈধ ঘোষণার পর ২০১১ সালের ১০ মে সংসদে বাতিল হয় এই ব্যবস্থা। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের বিধান চালু করে আওয়ামী লীগ।

কিন্তু দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করবে না জানিয়ে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি। দাবি জানায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারে ফেরার। পরে একবার সহায়ক সরকারের দাবি জানায়। তবে রূপরেখা দিতে না পেরে আবার তত্ত্বাবধায়কের দাবিতে ফেরে দলটি। পরে অবশ্য দলীয় সরকারের অধীনেই ভোটে এসেছে তারা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত