‘চীনের ওপর খবরদারি করার অধিকার কারও নেই’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৮:৩৮

উদার অর্থনীতির পথেই হাঁটবে চীন। তবে কারও হুকুম মেনে নয়। এ বিষয়ে কী করা উচিত বা অনুচিত তা নিয়ে চীনের ওপর মাতব্বরি করতে পারে না কোনো দেশ। নাম না করেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্দেশ্যে সরাসরি ‘চ্যালেঞ্জ’ ছুড়ে সাফ জানালেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তিনি বলেন, ‘চীনের মানুষ কী করবেন বা করবেন না, সেই নির্দেশ দেওয়ার মতো অবস্থায় নেই কোনো দেশই।’

যুক্তরাষ্ট্র-চীন শুল্ক যুদ্ধ নিয়ে দুই দেশের মধ্যেই সম্প্রতি টানাপড়েন শুরু হয়েছিল। তার প্রভাব পড়েছিল দুই দেশের কূটনীতিতেও। যদিও চলতি মাসের গোড়াতেই ৯০ দিনের মধ্যে সে সমস্যা সামধানে সম্মত হয়েছে দুই দেশই।সে জন্য দু’পক্ষই একে অপরের ওপর শর্ত আরোপ করেছে। যা পূরণ না হলে শুল্ক নিয়ে আপস করবে না বলে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকারের সেই প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারির পরিপ্রেক্ষিতেই এ বার এই চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন শি জিনপিং।

১৯৭৮ সাল থেকে উদার অর্থনীতির পথে হাঁটতে শুরু করে চীন। যার মূল কারিগর ছিলেন দেং জিয়াওপিং। সেই উদারনীতি নিয়ে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ৪০তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার এই হুঁশিয়ারি দেন চীনের প্রেসিডেন্ট।

চলতি মাসের গোড়ায় আর্জেন্টিনার বুয়েনস আয়ার্সে জি-২০ গোষ্ঠীর দেশগুলোর বৈঠকের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্রর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে বৈঠক হয়। সেখানেই রফাসূত্রে সহমত হয় দু’পক্ষ। তাতে ঠিক হয়, ১ জানুয়ারি থেকে চীনা পণ্যের ওপরে আমদানি শুল্ক বাড়াবে না যুক্তরাষ্ট্র। নতুন করে শুল্কের আওতায় আনা হবে না কোনও পণ্যকে। অন্য দিকে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে খাদ্য, শিল্পসহ বিভিন্ন পণ্যের আমদানি বাড়াবে চীনও। যাতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনা যায়। এ ছাড়া, চীন যাতে আরও আর্থিক সংস্কারের পথে এগোয় তা-ও চায় যুক্তরাষ্ট্র। যাতে মার্কিন তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলো চীনে গিয়ে নিরাপদে ব্যবসা চালাতে পারে এবং তাদের মেধাস্বত্ব চুরি রোখা যায়। শুল্ক যুদ্ধের স্থায়ী সমাধানের জন্য আলোচনা চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারেও রাজি হয় দুই পক্ষ।

চীনের বিশাল বাজার দখল করতে দীর্ঘদিন ধরেই সে দেশে পুরোপুরিভাবে ব্যবসা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলো। তবে তাদের অভিযোগ, তাতে বাধার সম্মুখীন হচ্ছে ওই দেশগুলোর বাণিজ্যিক সংস্থাগুলো। যদিও চীনের সংস্থাগুলি যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপীয় দেশে নানা ধরনের ব্যবসায়িক সুবিধা ভোগ করছে।
তবে এ দিন  যুক্তরাষ্ট্রর নাম উল্লেখ না করেই চীনের দাবি, কোনও দেশের কাছেই বিপজ্জনক নয় চীন। সেই সঙ্গে তার মন্তব্য, ‘যে সমস্ত ক্ষেত্রে সংস্কারের প্রয়োজন বা যা করা উচিত, আমরা তা করব। তবে যে ক্ষেত্রগুলোতে সংস্কারের প্রয়োজন নেই তা অপরিবর্তিতই থাকবে।’

সংস্কারের কথা বললেও, তা কোনো কোনো ক্ষেত্রে করা হবে, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট বার্তা দেননি জিনপিং। পাশাপাশি, অর্থনীতির ক্ষেত্রে উদার মনোভাব দেখালেও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে কোনো রকম শিথিলতা দেখাতে রাজি নন শি। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে দেশে একদলীয় ব্যবস্থাই চালু থাকবে।

(ঢাকাটাইমস/১৮ডিসেম্বর/এসআই)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :