‘বিলুপ্তপ্রায় গুতুম মাছের কৃত্রিম প্রজননে সফল হয়েছি’

ওহী আলম
| আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৬:৫৪ | প্রকাশিত : ২৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৬:৫১

বিলুপ্ত প্রায় দেশি মাছ গুতুমতে বিলুপ্তির পথ থেকে রক্ষা করার জন্য কৃত্রিম প্রজননে সফলতা পেয়েছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) মৎস্য ও সামুদ্রিক বিজ্ঞান বিভাগের একদল গবেষক। এই দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. শ্যামল কুমার পাল। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ওহী আলম।

বিলুপ্ত প্রায় মাছ গুতুম নিয়ে আপনাদের গবেষণা জানতে চাই

ড. শ্যামল কুমার: আমি ও আমার দল বউরানী ও গুতুম মাছের কৃত্রিম প্রজননের জন্য গত বছরের আগস্ট থেকে গবেষণা প্রকল্প হাতে নেই। কুমিল্লা জেলার নাঙলকোট উপজেলা বিসমিল্লাহ মৎস্য বীজ উৎপাদন কেন্দ্র ও খামারে এর কার্যক্রম শুরু করি। এরপর বৃহত্তর নোয়াখালী, ময়মনসিংহ ও সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন প্রাকৃতিক জলাশয় ও হাওর থেকে ব্রুডফিশ (মা ও বাবা মাছ) সংগ্রহ করে দীর্ঘ সময় ধরে পরিচর্যার ও এদের বিভিন্ন উদ্দীপক হরমোন প্রয়োগ করে কৃত্রিম উপায়ে নতুন পোনার কৃত্রিম প্রজনন সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়। নতুন পোনাগুলোর স্বাস্থ্য ও বেঁচে থাকার হারও সন্তোষজনক।

মাছ নিয়ে নিয়ে গবেষণার কারণ কী?
ড. শ্যামল কুমার:
আমাদের গবেষণা শুরু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানে। একটি সম্মেলন তিনি বিভিন্ন দেশীয় ছোট মাছ বিপন্ন হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য অনুরোধ করেন। এ ছাড়াও নোবিপ্রবির মৎস্য ও সামুদ্রিক বিজ্ঞান বিভাগ বাংলাদেশের মৎস্য গবেষণা সেক্টরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় এবং সাড়া দিয়ে আমার দল নিয়ে প্রকল্প শুরু করি 

আপনাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
ড. শ্যামল কুমার:
আমরা যদিও গুতুম মাছের রেণু পোনার চাষ ও লালন-পালন প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণায় সফলতা পেয়েছি। কিন্তু বউরানী মাছের ক্ষেত্রে এখনো সফলতা পাইনি। তাই বউরানী মাছ নিয়ে আরও গবেষণা করব। সঙ্গে আরও নতুন করে চার প্রকারের মাছের কৃত্রিম প্রজনন, রেণুপোনা লালন-পালন প্রযুক্তি উদ্ভাবনেও পুরোদমে কাজ চালিয়ে যাবো। 

দেশীয় মাছ কীভাবে সরক্ষণ করা যায়?
ড. শ্যামল কুমার:
ছোট দেশি মাছ দিন দিন কমে যাচ্ছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে চাওয়া থাকবে তারা যেন পদক্ষেপ নেয় এ মাছগুলো সংরক্ষণ করার। শুধু সফল গবেষণা ও মানুষের সচেতনতাই পারে দেশি ছোট মাছকে হারিয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে।

সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।

ড. শ্যামল কুমার: ঢাকা টাইমস এবং আপনাকে ধন্যবাদ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সাক্ষাৎকার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :