আ.লীগ ছাড়া অসহায় জাপা

কাজী রফিক
 | প্রকাশিত : ০১ জানুয়ারি ২০১৯, ০৯:১৬
ফাইল ছবি: আওয়ামী লীগের সঙ্গে বৈঠকে জাতীয় পার্টি

রবিবারের ভোটে জাতীয় পার্টি যে ২২টি আসন পেয়েছে, তার প্রতিটিতেই তারা লড়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সমর্থনে। যেসব আসনে জোটের প্রধান শরিকের সমর্থন মেলেনি, তার প্রতিটিতেই বড় ব্যবধানে হেরেছেন লাঙ্গলের প্রার্থীরা। এমনকি রংপুর দুর্গেও নৌকার বিরুদ্ধে লড়ে তিনটি আসন হারাতে হয়েছে দলটিকে। আর প্রতিটিতেই ব্যবধান ছিল অনেক বেশি।

এবার জাতীয় পার্টিকে প্রথমে ২৯টি আসনে ছাড় দেওয়ার কথা জানায় আওয়ামী লীগ। কিন্তু এর তিনটিতেও ছিলেন নৌকার প্রার্থী। এই ২৬ জনের একজন আবার প্রচার চলাকালেই সরে দাঁড়ান ভোট থেকে। বাকি ২৫ জনের মধ্যে বগুড়ায় তিনটি আসনে হেরেছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা। বাকি ২২টিতেই আসে জয়।

আওয়ামী লীগের ছেড়ে দেওয়া আসনসহ মোট ১৭৬টি আসনে প্রার্থী ছিল জাতীয় পার্টির। তবে তাদের বেশির ভাগই ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন বিএনপির সম্ভাব্য বর্জনের কথা মাথায় রেখে। প্রচার চলাকালে একে একে আওয়ামী লীগকে সমর্থন দিয়ে ভোট থেকে সরে যেতে থাকেন তারা। ভোটের আগের দিন জাতীয় পার্টির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা জানান, ১০ থেকে ১২টি আসনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে উন্মুক্ত লড়াই আছে তাদের। কিন্তু এই উন্মুক্ত আসনের একটিতেও জয় পায়নি জাতীয় পার্টি।

১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত রংপুরের প্রতিটি আসনে জয় পাওয়া জাতীয় পার্টির তিনটি আসন ২০০৮ সালে ছিনিয়ে নেয় আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে রংপুর-৬ আসনে জাতীয় পার্টির কোনো প্রার্থী ছিল না। আর দুটি আসন উন্মুক্ত লড়াইয়ে জেতে আওয়ামী লীগ। এবার এই সংখ্যাটি আরও একটি বেড়েছে।

এই জেলায় আওয়ামী লীগের কাছ থেকে ছাড় পাওয়া রংপুর-১ (মশিউর রহমান রাঙ্গা) ও রংপুর-৩ (হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ) আসনেই কেবল জিততে পেরেছে জাতীয় পার্টি। কিন্তু হেরে গেছে রংপুর-২, রংপুর-৪, রংপুর-৫ আসনে। রংপুর-৬ আসনে স্পিকার শিরীন শারমীন চৌধুরীর বিপরীতে কোনো প্রার্থী দেয়নি দলটি।

আওয়ামী লীগকে ছাড় দিতে রাজি না থাকা রংপুর-২ আসনে জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ আলী লাঙ্গল প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৩৫০। অন্যদিকে লাঙ্গল নিয়ে রংপুর-৪ আসনে তৃতীয় হয়েছে জাতীয় পার্টি। সেখানে নৌকা নিয়ে টিপু মুনশি জেতেন এক লাখ ৯৯ হাজার ৯৭৩ ভোট পেয়ে। বিএনপির এমদাদুল হক ভরসা এক লাখ চার হাজার ১৭৭ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হন।

রংপুর-৫ আসনে জাতীয় পার্টির শাহ সোলাইমান আলম ৬৪ হাজার ১৪৭ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হন। সেখানেও জেতেন আওয়ামী লীগের এইচ এন আশিকুর রহমান। তিনি ভোট পান দুই লাখ ৩৪ হাজার ৭৫৮।

খুলনা-১ আসনেও আওয়ামী লীগকে ছাড় দিতে রাজি না হয়ে ধরাশায়ী হয়েছে জাতীয় পার্টি। আওয়ামী লীগের পঞ্চানন বিশ্বাস জেতেন এক লাখ ৭২ হাজার ৫৯ ভোট পেয়ে। বিএনপির আমির এজাজ খান ২৮ হাজার ৪৩৭ ভোট পেয়ে হন দ্বিতীয়। আরও কম ভোট পেয়ে লাঙ্গলের সুনীল শুভ রায় থাকেন দূরে। তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

ভোটে হেরে সুনীল এই ভোটকে ‘নিকৃষ্ট নির্বাচন’ আখ্যা দিয়েছেন। বলেছেন, ‘এটা কোনো নির্বাচন নয়। এটা সবচেয়ে বাজে নির্বাচন।’

এই আসনটি বাদ দিলে কোথাও তো আওয়ামী লীগের সমর্থন ছাড়া একটি আসনও জিততে পারেনি জাতীয় পার্টিÑএই প্রশ্নের জবাবে সুনীল বলেন, ‘এটা বলতে পারব না। দলের মধ্যে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আমার কোনো কথা হয়নি।’

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা রেজাউল ইসলাম ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘এ বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে আমি কিছু বলতে পারব না।’

জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের জোটবদ্ধতার শুরু ২০০৬ সালে বিএনপিবিরোধী আন্দোলনের সময়। ১৯৮২ সালে সেনাপ্রধান থাকা অবস্থায় এরশাদ ক্ষমতা দখলের পর দীর্ঘ দিন দলটির বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে আওয়ামী লীগ। নয় বছরের সংগ্রামে ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে পতন হয় এরশাদের।

এর পরের তিনটি নির্বাচনে ক্রমেই আসন কমেছে জাতীয় পার্টির। তবে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করে তারা ২৭টি আসন পায়। ওই বছরও আওয়ামী লীগের ছাড় না পেয়ে দাঁড়ানো কোনো আসনে জয় পায়নি দলটি।

২০১৪ সালে বিএনপি-জামায়াত জোটের বর্জনের মুখে আওয়ামী লীগের ছাড়ে ৩৪টি আসনে জিতে সংসদ সদস্য হয় জাতীয় পার্টি। তবে এবার তার আটটি আসনেই নিজের প্রার্থী দিয়ে জিতেছে আওয়ামী লীগ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত